হাসিনা না খালেদা: ভারতের উভয় সঙ্কট
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৬ ডিসেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ১০ বছরে ১ লাখ কোটি টাকা সুদ-দৈনিক প্রথম আলো
- শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিনম্র শ্রদ্ধা-দৈনিক ইত্তেফাক
- হাসিনা না খালেদা: ভারতের উভয় সঙ্কট-দৈনিক মানবজমিন
- সাতক্ষীরা-৪: ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা গ্রেফতার-দৈনিক যুগান্তর
- বিজয় র্যালী থেকে মির্জা ফখরুলের হুশিয়ারি-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- ‘সেনার সঙ্গে অন্যায় করেছে ওঁরা’, সোনিয়ার গড়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ মোদির-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, বোমা-গুলি-আগুন, রণক্ষেত্র পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না-দৈনিক আনন্দবাজা
- নির্ভয়া আজও বিপন্ন, ৬ বছরেও পরিণতি পায়নি ধর্ষকদের সাজা-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিনম্র শ্রদ্ধা-দৈনিক ইত্তেফাকে
আজ মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জনের দিন আজ। নয় মাসের যুদ্ধ শেষে এদিন জন্ম নেয় একটি নতুন দেশ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেমেছে শহীদদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ জনতার ঢল। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দৈনিকগুলোতে পরিবেশিত রাজনৈতিক খবরের মধ্যে রয়েছে- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ জনতার জয় অনিবার্য। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন ড. কামাল হোসেন।দৈনিক যুগান্তরে তার এ বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে। দৈনিকটির আরো কয়েকটি খবর এরকম যে, আজ বিজয় দিবসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর অভিযোগ করেছেন- তাদের প্রার্থীদের গুলি করা হচ্ছে গ্রেফতার করা হচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যতই ষড়যন্ত্র হোক- নির্বাচন হবেই। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমরা ভোটে আসায় সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তবে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আছে। ভোট সুষ্ঠু হবে। তবে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় না।
হাসিনা না খালেদা: ভারতের উভয় সঙ্কট-দৈনিক মানবজমিন
ভারতীয় সাংবাদিক অভিজিৎ মজুমদারের একটি লেখা মাই নেশন থেকে নিয়ে দৈনিক মানবজমিন ছেপেছে। শিরোনামটি হাসিনা না খালেদা –ভারতের উভয় সঙ্কট। লেখাতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পরাধীনতার যাঁতাকল থেকে স্বাধীনতা পেতে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল ভারত। ঠিক ৪৭ বছর বাদে বাংলাদেশ ৩০শে ডিসেম্বর রোববার নির্বাচনে যাচ্ছে। কিন্তু এবার ভারত ঠিক নিশ্চিত নয় বাংলাদেশকে কার গ্রাস থেকে মুক্ত করতে সহায়তা করা উচিৎ। শেখ হাসিনার সরকার থেকে? নাকি ঝামেলাপরায়ণ খালেদার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থেকে? ক্রমেই দুর্নীতিপরায়ণ, স্বৈরতান্ত্রিক ও অহঙ্কারি হয়ে উঠা আওয়ামী লীগের হাত থেকে? নাকি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র হাত থেকে যেটি সচরাচর দুর্নীতিপরায়ণ ও ভারতের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন? চীনের সঙ্গে ক্রমেই দহরম মহরম শুরু করা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে? নাকি বিএনপির হাত থেকে যেটি আষ্টেপৃষ্টে ইসলামিস্ট জামায়াত?
১০ বছরে ১ লাখ কোটি টাকা সুদ-দৈনিক প্রথম আলো
এবারের জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায় মন্ত্রী, সাংসদসহ তাঁদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা অর্থাৎ ধনি মানুষেরা ব্যাপক হারে সঞ্চয়পত্র কিনে রেখেছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়ে থাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রামীণ সঞ্চয় আহরণ, সঞ্চয় কার্যক্রমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং সঞ্চয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সঞ্চয়পত্র চালুর উদ্দেশ্য। বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পগুলোর বিক্রয় পরিস্থিতি ও সুদ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি) গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী বলছে, সরকার ১০ বছরে সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে সুদ দিয়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে (কর্মসূচি) সরকারের পুঞ্জীভূত দায় ২ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাধারণ মানুষ এই উচ্চ সুদের ভাগীদার হতে পারলেও বেশি সুবিধা নিচ্ছেন ধনিরা। এই শ্রেণির মধ্যে রয়েছেন সমাজের প্রভাবশালী অংশ অর্থাৎ মন্ত্রী, সাংসদ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, আমলা, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত আমলারা।
এবার ভারতের দুটি খবর তুলে ধরছি
‘সেনার সঙ্গে অন্যায় করেছে ওঁরা’, সোনিয়ার গড়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ মোদির-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
সোনিয়া গান্ধীর গড় রায়বেরেলির মাটিতে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ বললেন, সেনার সঙ্গে কংগ্রেস ও তাদের ইউপিএ সরকার যে অন্যায় করেছে, তা কোনও দিন ক্ষমা করবে না দেশ৷ মোদির অভিযোগ, কথা দিয়েও কর্নাটকে কৃষকদের কৃষি ঋণ মকুব করেনি ক্ষমতাসীন কংগ্রেস ও জেডিএসের জোট সরকার৷
প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর দীর্ঘদিনের লোকসভা কেন্দ্র হল রায়বেরেলি৷ রবিবার সেখানেই ১১০০ কোটি টাকার প্রকল্পের শুভসূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ এরপরই কংগ্রেসের সমালোচনায় মুখর হন তিনি৷ রাফালে চুক্তি নিয়ে একদিন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের একপেশে সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছে বিরোধী কংগ্রেসকে৷ কিন্তু শনিবারের রায়ে রাফালে সংক্রান্ত সমস্ত মামলা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ যার ফলে স্বস্তি পেয়েছে সরকার৷ এমত পরিস্থিতিতে, রবিবার বক্তৃতার প্রথম থেকে সেনাকেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হাতিয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী৷
নির্ভয়া আজও বিপন্ন, ৬ বছরেও পরিণতি পায়নি ধর্ষকদের সাজা-দৈনিক আজকাল
পাকিস্তান পেরেছে।শিশুকে ধর্ষণের সাজায় ফাঁসি দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ভারতের এই প্রতিবেশী রাষ্ট্র। কিন্তু এখনও পারেনি ভারত। শাসক বদলেছে। বদলেছে রাজনীতির সমীকরণও। তবু বিচার পায়নি নির্ভয়ারা। ফলাও করে আইন সংশোধন হয়েছে। ফাঁসির চরম সাজা নির্ধারিক হয়েছে। কিন্তু কার্যকর হয়েছে কী? এখনও বহাল তবিয়তে জনসাধারণের অর্থেই দিব্য রয়েছে নির্ভয়ার ধর্ষকরা। সাজা ঘোষণা হলেও। আদালতের স্তর পেরোতে পেরোতেই ছ’বছর কেটে গেল। এই চূড়ান্ত উদাসীনতার দায় কার?
সরকার এবং বিরোধীরা এখন রাজনৈতিক সমীকরণেই মগ্ন। নির্ভয়ার নারকীয় ঘটনা তাঁদের কাছে স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আইন–প্রশাসনের কাছেও নির্ভয়ার ফাইলে ধুলোর পরত পড়েছে। মুজফফরপুর হোমকাণ্ড,কাঠুয়া ধর্ষণকাণ্ডের মত একের পর এক নারকীয় ধর্ষণের ঘটনার ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে রয়েছে দপ্তরে দপ্তরে। নির্ভয়া তো সেই সব ফাইলের চাপে চাপা পড়ে রয়েছে। তাই মেয়ের মৃত্যুর ছ’বছর পরেও দোষীদের শাস্তি পেতে দেখতে পেলেন না নির্ভয়ার মা–বাবা।
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৬
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন