প্রতিহিংসা রাজনীতির অবসানের অঙ্গীকার ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৭ ডিসেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম
- প্রতিহিংসা রাজনীতির অবসানের অঙ্গীকার ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে -দৈনিক ইত্তেফাক
- ড. কামালের ওপর হামলা-তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ইসির নির্দেশ-দৈনিক প্রথম আলো
- নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে ইসির সাথে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট -দৈনিক যুগান্তর
- ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ভোটারদের সঙ্গে তামাশা- আওয়ামী লীগ-দৈনিক মানবজমিন
- বিদ্রোহীরা মঙ্গলবারের মধ্যে সড়ে না দাঁড়ালে কঠোর ব্যবস্থা : কাদের -দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- বিরোধী জোটে ফাটল! কংগ্রেসের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নেই মায়া-মমতা-অখিলেশ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব স্ট্যালিনের-দৈনিক আজকাল
- নির্ভয়া-কাণ্ডের দিনেই দিল্লিতে ৩ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ-দৈনিক আনন্দবাজার
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. দুপুর দেড়টার পরপর নির্বাচন কমিশনে গেছে ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল। ইশতেহার ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলটি নির্বাচন কমিশনে পৌঁছায়। কী কারণে এই প্রতিনিধিদল গেল বলে মনে করছেন?
২. নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হবে বলে উত্তর কোরিয়া হুমকি দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে- এই হুমকি কী বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি নয়?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর তুলে ধরছি।
ড. কামালের ওপর হামলা-তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ইসির নির্দেশ-দৈনিক প্রথম আলো
বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ড. কামালের ওপর হামলার ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি আজ সোমবার ইসি সচিবালয় থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল কাশেম স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ও তাঁর গাড়িতে হামলার ঘটনা তদন্ত করে আগামী তিন দিনের মধ্যে ইসি সচিবালয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
দৈনিকটির অন্য একটি খবরের শিরোনাম-‘ধমক দিয়ে খামোশ করা গণতন্ত্র নয়’
যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ‘ডেভেলপমেন্ট মাইনাস ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র বাদ দিয়ে উন্নয়ন), এটা হতে পারে না। গণতন্ত্র সব পর্যায়ে দিতেই হবে। সাংবাদিকদেরও গণতান্ত্রিক অধিকার দিতে হবে। সাংবাদিক ধমক দিয়ে খামোশ করা গণতন্ত্র নয়। সাধারণ মানুষকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে এবং ভোটের অধিকার দিতে হবে।’
আজ সোমবার বেলা পৌনে একটার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বি. চৌধুরী এসব কথা বলেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তফ্রন্ট এই আলোচনার আয়োজন করে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবেন ৩২ পর্যবেক্ষক: মিলার-দৈনিক প্রথম আলো
৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে। আজ সোমবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার এই প্রত্যাশার কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁর দেশ ৩২ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। তিনি জানান, মার্কিন দূতাবাসের ১১টি দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম রাষ্ট্রদূতের উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
প্রতিহিংসা রাজনীতির অবসানের অঙ্গীকার ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে-দৈনিক ইত্তেফাক
আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি দূরীকরণ, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ও বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি দমন ও সুশাসনসহ ১৪টি বিষয়ে আমূল পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
সোমবার হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে সংবাদ সম্মেলন ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ইশতেহার পড়ে শোনান নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিশ্রুতির মধ্য রয়েছে—
১. জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসনে কমিশন গঠন করা হবে।
২. হত্যা ও গুম পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।
৩. ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল করা হবে।
৪. নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করা হবে।
৫. পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না।
৬. পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ব্যতীত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোনো বয়সসীমা থাকবে না।
৭. সরকারের দুর্নীতি তদন্ত করে বিচার করা হবে। জেলা পরিষদ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে।
৮. পিএসসি জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
৯. গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১২ হাজার টাকা। প্রথম বছরে গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না।
১০. প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে।
১১. রাজনীতিতে প্রতিহিংসা বা জিঘাংসার অবসান।
১২. ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ চলমান রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে আছে, ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে, এই সরকারের আমলের দুর্নীতি তদন্ত করে তার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা হবে, রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যেকোনো শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে, সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না, মিথ্যা মামলায় অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং মিথ্যা মামলায় সহায়তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কর্মক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সকল ক্ষেত্রে নারীর ওপর বাচিক কিংবা শারীরিক যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে, নির্বাচন কমিশনকে পূর্নাঙ্গ স্বাধীনতা দেওয়াসহ অন্যান্য পদক্ষেপ দেওয়ার মাধ্যমে মুক্তভাবে মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করা হবে, সংসদে উচ্চকক্ষ সৃষ্টি করা হবে, সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হবে।
ইশতেহারের শুরুতে বলা হয়, নির্বাচনে জিতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দেশের সকল নাগরীকের কল্যাণে সরকার পরিচালনা করবে। এই পরিচালনার মূলনীতি হবে ঐক্যমত্য, সকলের অন্তর্ভুক্তি ও যে কোনো রকম প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত থাকা। ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বর্ণিত এই নীতির ভিত্তিতে সরকার পরিচালনায় যাবতীয় পদক্ষেপের ভিত্তি হবে রাষ্ট্রের মালিকগণের মালিকানা সুদৃঢ় করা।
ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য তুলে ধরে ড. কামাল হোসেন বলেন, গত ১০ বছরে কল্পনাতীত স্বেচ্ছাচারিতা এবং পুলিশকে দলীয় ক্যাডার হিসেবে ব্যবহার করে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা, গুম, খুন মামলার ঘুষ বাণিজ্য ও বিচারবহির্ভূত হত্যার লক্ষ পরিবার ক্ষুব্ধ ও বিপর্যস্ত।এই সমস্যা সমাধান করে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, আইনজীবী সমন্বিত সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসন কমিশন গঠন করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অতীতের হয়রানি মামলা সুরাহার লক্ষ্যে খোলা মনে আলোচনা করে ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধন করা হবে।
তিনি বলেন, সকল জাতীয় বীরদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত করে স্কুল, কলেজে পড়ানো হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করা হবে। এক দলীয় শাসনের যেন পুনঃজন্ম না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে।
ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ভোটারদের সঙ্গে তামাশা- আওয়ামী লীগ-দৈনিক মানবজমিন
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলমান রাখা ও দুর্নীতি রোধের অঙ্গীকার জাতির সঙ্গে তামাশা বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। আজ দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এ কথা বলেন।
আব্দুর রহমান বলেন, ২৩ জনের অধিক যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরসুরীকে নিয়ে তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে। আর যুদ্ধাপরাধীরা ঐক্যফ্রন্টের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই আছে। সুতরাং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তারা করাএটা একটা হাস্যকর ব্যপার, অবিশ্বাস্য। তিনি আরো বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, মনোনয়ন দিয়েছে, তারা কী করে এই যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে? এটা জনগণের সঙ্গে নেহায়েত প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না। জাতিকে বিভ্রান্ত করে এই ইশতেহারের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট তামাশা করছে।
আব্দুর রহমান বলেন, তারেক জিয়া দুর্নীতির দায়ে দন্ডিত। খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন হাওয়া ভবন তৈরি করে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করেছিল। তিনি (খালেদা জিয়া) নিজে দুর্নীতির দায়ে দন্ডিত। তাদের মুখে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার কথা ভুতের মুখে রাম নাম।
নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে ইসির সাথে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট-দৈনিক যুগান্তর
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সারাদেশে ঐক্যফ্রন্ট্রের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা গ্রেফতার হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠকে বসেছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতারা।
বৈঠকে সারা দেশের ৩০ জেলায় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও বৈঠকে আচরণবিধি বর্হিভূত পুলিশী অভিযানের নামে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, তল্লাশির নাম বাসাবাড়িতে তাণ্ডব, গুরুতর জখম, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধকরাসহ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য লিখিত দাবি জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।
আজ সোমবার বেলা ২টায় রাজধানীর নির্বাচন ভবনে বৈঠকটি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চার কমিশনার ছাড়াও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত রয়েছেন।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
নির্ভয়া-কাণ্ডের দিনেই দিল্লিতে ৩ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ
দুপুরবেলা বাড়ির বাইরেই খেলছিল তিন বছরের মেয়েটি। কিন্তু, অনেক ক্ষণ পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় দুশ্চিন্তা শুরু হয় পরিবারের। আশপাশে খোঁজ করতে করতে পড়শির ঘরে যেতেই আঁতকে ওঠেন শিশুটির মা-বাবা। সেখানে বেহুঁশ হয়ে পড়ে রয়েছে তাঁদের একরত্তি মেয়ে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ। চরম আশঙ্কায় কেঁপে ওঠেন তাঁরা। মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই পড়শিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার দুপুরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির দ্বারকায় বিন্দাপুর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটছে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই পড়শিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন দিল্লির মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতী মালিওয়াল।
ঘটনাচক্রে, ছ’বছর আগে ঠিক একই দিনে, ১৬ ডিসেম্বর ২০১২ সালে নির্ভয়া গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ফের আর এক বার রাজধানীতে প্রায় একই অপরাধের অভিযোগ উঠল।
বিরোধী জোটে ফাটল! কংগ্রেসের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নেই মায়া-মমতা-অখিলেশ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
কর্ণাটকে কুমারস্বামীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যে ঐক্যের ছবি ধরা পড়েছিল, রাজস্থানে গেহলট বা মধ্যপ্রদেশে কমল নাথদের শপথগ্রহণে সেই ছবির দেখা মিলল না। বিরোধী ঐক্যের দামামা বাজিয়ে মোদিকে চ্যালেঞ্জ করছিলেন যারা, সেই মমতা-অখিলেশরাই কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন না। তাতেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
এই মাসের ১০ তারিখ দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী মহাজোটের বৈঠক ছিল। চন্দ্রবাবু নাইডুর ডাকা সেই বৈঠকে অংশ নেননি উত্তরপ্রদেশের দুই হেভিওয়েট নেতা অখিলেশ যাদব বা মায়াবতীর কোনও প্রতিনিধি। অন্য বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার পথেই হাঁটছেন তাঁরা। যদিও, তিন রাজ্যের ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর কংগ্রেসকে নিঃস্বার্থ সমর্থনের কথা ঘোষণা করে দুই দলই।রাহুলকে প্র
রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব স্ট্যালিনের-দৈনিক আজকাল
রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাবটি একপ্রকার হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলেন করুণাপুত্র। আর তাতেই জল মেপে নিলেন এমকে স্ট্যালিন। করুণানিধির মূর্তির উদ্বোধন করেন সোনিয়া গান্ধী। তাতে এনডিএ শিবিরে বিরোধী জোট একটা বার্তা দিতে পেরেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখানে স্ট্যালিন তাঁর মোক্ষম অস্ত্রটি প্রয়োগ করলেন রাহুল গান্ধীর নাম প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করে।
স্ট্যালিন এদিন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে রাহুল গান্ধীর নাম প্রস্তাব করেন। তাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বিরোধী শিবিরে। স্ট্যালিন বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি সরকারের ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাস্ত করার মতো ক্ষমতা রাহুল গান্ধীর রয়েছে। আসুন রাহুল গান্ধীর হাত আমরা শক্ত করি। এই দেশকে রক্ষা করি।’ সোনিয়া, রাহুল, চন্দ্রবাবু ছাড়াও একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পিনারাই বিজয়নও।
আগামী লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে রাহুল গান্ধীর নাম স্ট্যালিন প্রস্তাব করার শোরগোল উঠেছে বিরোধীদের মধ্যেই।
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৭