নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতার শিকার বিরোধীরা: এইচআরডব্লিউ
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২২ ডিসেম্বর শনিবার কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম
- সর্বশক্তি দিয়ে আওয়ামী লীগ টিকে থাকার চেষ্টা করছে : ফখরুল-দৈনিক ইত্তেফাক
- নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতার শিকার বিরোধীরা: এইচআরডব্লিউ-দৈনিক প্রথম আলো
- তলে তলে ধানের শীষের লোকেরা নৌকায় উঠছে: কাদের-দৈনিক যুগান্তর
- সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশিষ্টজনদের ৫ দাবি--দৈনিক মানবজমিন
- আমাদের ভূমিকা মোয়াজ্জিনের মতো-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- হেনস্তা চলছেই, ইমরানের আমলে ইসলামাবাদে অসহায় ভারতীয় কূটনৈতিকরা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- হিজাব খুলে নেট পরীক্ষায় বসতে বলা হল মুসলিম পরীক্ষার্থীকে-দৈনিক আজকাল
- সব ল্যাপটপ, কম্পিউটারে আড়ি পাততে চলেছে আইবি, মোদীর নজরবন্দিতে গোটা দেশ!-দৈনিক আনন্দবাজার
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. জনগণের আদালতে যেন দাঁড়াতে না হয়- একথা বলেছেন নিবাচন কমিশনার কবিতা খানম। তার এই বক্তব্যকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
২. সিরিয়া সংকট সমাধানে মার্কিন সেনাদের ভূমিকা ছিল না- কথাটি বলেছে রাশিয়া। বাস্তবতা কী তাই বলে?
বিশ্লেষণের বাইরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর:
নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতার শিকার বিরোধীরা: এইচআরডব্লিউ-দৈনিক প্রথম আলো
বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে ‘দমনমূলক পরিবেশ’ বিরাজ করছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের অবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ এসব কথা বলে।
নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় নিরপেক্ষ অনুসন্ধান দাবি করেছে সরকারের কাছে। সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি করেছে এইচআরডব্লিউ।
এইচআরডব্লিউয়ের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। তারা যেন শাসক দলের মতো কাজ না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় যে সহিংসতা চলছে, এর প্রধান শিকার হচ্ছে বিরোধীরা। পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন যে সঠিক আচরণ করছে না, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
এইচআরডব্লিউয়ের প্রতিবেদনটি তৈরি করতে ৫০ জনের বেশি রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সাক্ষাৎকার নেয়। এর পাশাপাশি আদালতের নথি ঘাঁটে।
সরকার সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধী মতামতকে জোর করে রুদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করে এইচআরডব্লিউ।
সংখ্যালঘুদের জন্য ৬১টি আসন ঝুঁকিপূর্ণ-দৈনিক প্রথম আলো
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটার ১২ শতাংশের বেশি, দেশে এমন সংসদীয় আসন রয়েছে ৯৬টি। এর মধ্যে ৬১টি আসনই সংখ্যালঘুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এসব আসনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা বলে আসছে।সংখ্যালঘুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আসনের তালিকাটি তৈরি করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এর আগের সংসদ নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা, বিভিন্ন এলাকায় নানা সময়ে সংঘটিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা করা হয়েছে।তবে তালিকা করার ক্ষেত্রে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব আসনের মোট ভোটারের কোথাও ১২ শতাংশ, কোথাও ৪৮ শতাংশই সংখ্যালঘু।
দুর্গখ্যাত বগুড়ায়ও সংকটে বিএনপি-দৈনিক প্রথম আলো
বিএনপির দুর্গখ্যাত বগুড়ায় নির্বাচনী প্রচারে সুবিধা করতে পারছে না দলটি। আইনি মারপ্যাঁচ আর মামলা-হামলার ফাঁদে পড়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা। গ্রেপ্তার-আতঙ্কে অনেকেই এলাকাছাড়া হয়েছেন। বগুড়ায় সাতটি আসনে মোট প্রার্থী ৪৫। ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। তবে বেশির ভাগ আসনে ধানের শীষের তেমন প্রচারণা নেই। এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মভিটা বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নেই। আইনি জটিলতায় প্রচারণার মধ্যখানে এসে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে গেছে।
সর্বশক্তি দিয়ে আওয়ামী লীগ টিকে থাকার চেষ্টা করছে : ফখরুল-দৈনিক ইত্তেফাক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ টিকে থাকার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে শেষ চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা টিকে থাকতে পারছে না। যে কোনো মুহূর্তেই উধাও হতে পারে আওয়ামী লীগ। শনিবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরের ফাইভ স্টার মাঠে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
সৈয়দপুর বিএনপির রাজনৈতিক জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আবদুল গফুর সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি বিলকিছ ইসলাম, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন সরকার প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকবো। ভোটের দিন ভোট দিয়ে কেন্দ্র পাহাড়ায় থাকবেন। যাতে আপনাদের আমানত সুরক্ষিত থাকে।’
সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশিষ্টজনদের ৫ দাবি-দৈনিক প্রথম আলো
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ-নিরপেক্ষ-সুষ্ঠুু হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা। আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘নির্বাচনে জনগণের ঢল নামুক, ভোটকেন্দ্র হোক ভোটারের’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা চোধুরী। আলোচনায় অংশ নেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আহমেদ কামাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এড. শাহদীন মালিক, এড. সারা হোসেন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, নানা প্রতিকুলতা ও অনিয়মের মধ্যেও সকল দল একাকার হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার জন্য একটি ভালো খবর। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতিদিন বিপক্ষ দলের প্রার্থী এবং নেতাকর্মীরা হামলা-মামলা ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। নিকট অতীতে নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকারকেও হরণ করা হয়েছে।
ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকদের চালুনী দিয়ে ছেঁকে তুলছে পুলিশ- রিজভী-দৈনিক মানবজমিন
পুলিশ প্রশাসন ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থেই নির্বাচন একতরফা করতে সকল শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যেন মরণকামড় দিচ্ছে। ধানের শীষের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের চালুনী দিয়ে ছেঁকে তুলছে। সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দেয়া হচ্ছে তাদেরকে ধরার জন্য। নেতাকর্মীদেরকে না পেয়ে মহিলা সদস্যসহ পরিবারের লোকজনদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও বিএনপি নেতাকর্মীকে না পেয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
আমাদের ভূমিকা মোয়াজ্জিনের মতো-দৈনিক নয়া দিগন্ত
অ্যাডভোকেট ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, আমাদের ভূমিকা হচ্ছে মসজিদের মোয়াজ্জিনের মতো। শনিবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন। এতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসছে,কিন্তু আসন্ন নির্বাচন কেমন হবে,আদৌ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে কিনা কিংবা তা সুষ্ঠু ও অবাধ হবে কিনা জনমনে তা নিয়ে বিরাজ করছে প্রবল সংশয় ও অবিশ্বাস। উৎসবের বদলে আতঙ্ক আর উদ্বেগ ঘিরে রেখেছে মানুষকে। তবে তারা সরকারসহ সব মহলকে সকলকে সর্তক করে দিয়ে বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর যেমন সরকার ও সকল দলের পরীক্ষা, তেমনি জনগণের জন্যও পরীক্ষা। সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না পারলে বাংলাদেশ এক মহাবিপর্যয়ের পতিত হবে।
তবে বিশিষ্টজনদের এমনসব দাবি না মানা হলে তারা আর কী করবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. শাহদীন মালিক আরো বলেন, মোয়াজ্জিনের ভূমিকা হচ্ছে তিনি আজান দেবেন। নামাজের সময় হয়েছে বলে তিনি তার আজানের মাধ্যমে জানান দেবেন। এখন যদি মোয়াজ্জিনের আজানের ডাকে সাড়া দিয়ে কেউ যদি নামাজে না যান তাহলে তো তার কিছু করার নেই। মোয়াজ্জিনের মতো আর আজান বন্ধ করতে পারবেন না। আমাদের ভূমিকা মোয়াজ্জিনেরই মতো। আমাদের তো দলীয় ভূমিকা নেই, নেই রাজনৈতিক দল। আমরা জনগণের কাছে ৩০ ডিসেম্বর ভোটে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটটি দেয়ার আহবান জানাতে পারি, এবং তা করে যাচ্ছি।
তলে তলে ধানের শীষের লোকেরা নৌকায় উঠছে: কাদের-দৈনিক যুগান্তর
সারা দেশে তলে তলে ধানের শীষের লোকেরাও আওয়ামী লীগের হাত ধরে নৌকায় উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার সকালে তার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এদিন নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে কবিরহাট উপজেলার জনতা বাজার, চরমণ্ডলিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে পথসভা করেন ওবায়দুল কাদের। এসময় তিনি বলেন, যেখানে যাচ্ছি সেখানেই ধানের শীষ নৌকায় উঠানো হচ্ছে। সারা বাংলায় ধান কেটে কেটে তোলা হচ্ছে নৌকায়। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি সুখের দিনে আসি না, আমি মানুষের বিপদে, অন্ধকারে, ঝড়ে ও দুর্যোগে আসি। তিনি বলেন, কথা দিয়েছিলাম সবাইকে আলো দেবো, আমরা আমাদের কথা রেখেছি।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
হেনস্তা চলছেই, ইমরানের আমলে ইসলামাবাদে অসহায় ভারতীয় কূটনৈতিকরা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
প্রধানমন্ত্রী হয়েই ভারতেকে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন ইমরান খান। ভারতীয় শিখদের জন্য কর্তারপুর করিডর খুলে দেন তিনি। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই সামনে এল পাকিস্তানের আসল রূপ। ইমরান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইসলামাবাদে ভারতীয় কূটনীতিবিদদের চূড়ান্ত অসহযোগিতা করছে প্রশাসন। অভিযোগ, ভারতীয় অফিসারদের বাড়িতে দেরি করে আসছে গ্যাস। কেটে দেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেট কানেকশন। ভারতীয়দের চূড়ান্ত হেনস্তার চেষ্টা করছে ইমরানের প্রশাসন। তা শুনেই নড়চড়ে বসল নয়াদিল্লি প্রশাসন। খুব তাড়াতাড়ি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারে বিদেশমন্ত্রক।
১৯৬১, ভিয়েনা সম্মেলনে সম্পর্ক ভাল রাখতে দুই দেশে কূটনীতিবিদ রাখার চুক্তি হয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে গতবছরও ভারত সেই চুক্তিতে সায় দিয়েছে। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের গোয়েন্দারাও বারবার পাক বন্দিদের খবরের জন্য চাপ দিচ্ছেন ভারতীয় অফিসারদের। বেড়েছে নজরদারিও।
হিজাব খুলে নেট পরীক্ষায় বসতে বলা হল মুসলিম পরীক্ষার্থীকে-দৈনিক আজকাল
নেট দিতে আসা মুসলিম পরীক্ষার্থীকে আটকে দেওয়া হল পরীক্ষা হলের মুখেই। বলা হল তাঁর মাথার হিজাব খুলতে। রাজি না হওয়ায় সরাসরি নির্দেশ, হিজাব না খুললে পরীক্ষায় তিনি বসতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার গোয়ার পানজিমে নেট পরীক্ষা দিতে আসেন সফিনা খান সৌদাগার। অভিযোগ, হিজাব পড়েছেন বলে পরীক্ষা হলে তাঁকে ঢুকতেই দেননি পরীক্ষকরা। অনেকক্ষণ তর্ক চলার পর বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হয় সফিনাকে।
এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে ইউজিসি বা ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্ড কমিশন। কারণ, নেট পরীক্ষা ইউজিসির আওতাভুক্ত। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, নেট পরীক্ষায় কোনওরকম নির্দিষ্ট পোশাকের যখন উল্লেখ নেই, তাহলে কেন মহিলাকে হিজাব খুলতে বলা হল। সফিনা জানাচ্ছেন, নেট পরীক্ষার ফর্মেও কোনওরকম ড্রেস কোডের উল্লেখ থাকে না। কোথাও লেখা ছিল না হিজাব পড়া মহিলা পরীক্ষা দিতে পারবেন না। পরীক্ষকদেরও সেদিন এই কথাগুলো বলেছিলেন সফিনা। কিন্তু তাঁদের রাজি করানো যায়নি বলে অভিযোগ
সব ল্যাপটপ, কম্পিউটারে আড়ি পাততে চলেছে আইবি, মোদীর নজরবন্দিতে গোটা দেশ!-দৈনিক আনন্দবাজার
প্রায় পাঁচ বছর আগে বিজেপি স্লোগান তুলেছিল ‘ঘর-ঘর মোদী’। বিরোধীরা বলছেন, মেয়াদ ফুরোনোর মুখে ষোলো কলা পূর্ণ হল তার। কাল রাতে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে মোদী সরকার, যাতে বলা হয়েছে— ‘দেশদ্রোহী’ সন্দেহে যে কোনও ল্যাপটপ, কম্পিউটারে আড়ি পাততে পারবে আইবি থেকে দিল্লি পুলিশ। দেখে নিতে পারবে আমজনতার কম্পিউটারের সব তথ্য। জাতীয় নিরাপত্তার ছুতোয় আসলে যা ব্যক্তিপরিসরে হস্তক্ষেপ— দাবি বিরোধীদের।
গত রাতের বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৬৯ ধারায় বলা হয়েছে, ১০টি তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনে যে কোনও কম্পিউটারে আড়ি পাততে বা নজরদারি করতে পারবে। যে কোনও কম্পিউটারে থাকা সব তথ্য ডিক্রিপ্ট বা পাঠোদ্ধারের অধিকার থাকবে সংস্থাগুলির কাছে। বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে মোবাইলের কথা বলা না হলেও, মন্ত্রক জানিয়েছে— স্মার্টফোনগুলি কার্যত কম্পিউটার হওয়ায় নজরদারির আওতায় থাকবে সেগুলিও। বিরোধীরা বলছেন, ভোটের ঠিক আগে শোয়ার ঘরেও আড়ি পাতা শুরু করল মোদী সরকার। যা হয়ে থাকে উত্তর কোরিয়ার মতো দেশে। যদিও পাল্টা যুক্তি দিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছে, এই আইন নতুন নয়। কোন সংস্থা নজরদারি ও তদন্ত করতে পারবে, মোদী সরকার কেবল তা স্পষ্ট করে দিয়েছে মাত্র। #
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২২