নৌকায় ভোট দিলে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়: শেখ হাসিনা
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৩ ডিসেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি ।আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- নৌকায় ভোট দিলে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়: শেখ হাসিনা-দৈনিক প্রথম আলো
- উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে' আ স ম রব-বাংলাদেশ প্রতিদিন
- খালি মাঠে গোল দিতে দেব না: মির্জা ফখরুল-দৈনিক ইত্তেফাক
- প্রার্থিতা ফিরে পেতে চেম্বার আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদন, শুনানি কাল-দৈনিক যুগান্তর
- সেনা মোতায়েনকে স্বাগত জানিয়ে মিজা ফখরুলের বিবৃতি-দৈনিক মানবজমিন
- আ’লীগের ২৩ জন নেতা যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত : বিএনপি-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় বেকসুর খালাস অভিযুক্তরা, বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ রাহুলের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- বিহারে জোট ধরে রাখতে জেতা আসনও ছাড়তে হল বিজেপিকে-দৈনিক আনন্দবাজার
- তিন তালাক আইন তৈরি করা হবেই: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
নৌকায় ভোট দিলে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়: শেখ হাসিনা-দৈনিক প্রথম আলো
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন সামনে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা অর্জন করে দিয়েছে। নৌকায় ভোট দিলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।
রংপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খাবারের ব্যবস্থা করেছি। কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না। বিনা পয়সায় মানুষ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। এখন আর বই কিনতে হয় না। নতুন বই দিয়ে দিচ্ছি। উপবৃত্তি দিচ্ছি।
মোবাইল ফোনে মায়েদের কাছে বৃত্তির টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। নৌকায় ভোট দিলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।’ দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাদারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবার সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবার থেকে একজন বেকারকে চাকরি দেওয়া হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে, লাশের পাহাড় গড়ে তুলবে।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে চেম্বার আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদন, শুনানি কাল-দৈনিক যুগান্তর
তিন আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে আগামীকাল সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আজ রোববার সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল।
তিনি জানান, খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর আগামীকাল সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে তিন আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিট আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্টের একক বেঞ্চ। মঙ্গলবার বিচারপতি জেবিএম হাসানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
খালি মাঠে গোল দিতে দেব না: মির্জা ফখরুল-দৈনিক ইত্তেফাক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু আমরা আর খালি মাঠে গোল দিতে দেব না। এবার জনগণ মাঠে আছে।’ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আখানগর ইউনিয়নে এক পথসভায় ৩০ ডিসেম্বর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি এসব কথা বলেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা ভোট দিতে যাবেন। আপনাদের অধিকার ভোট দেয়া। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, এই সরকারের পরিবর্তন একমাত্র আপনারাই করতে পারেন। আমরা শান্তি চাই, ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন চাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ জনগনকে পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে মামলা করে আবারো ক্ষমতায় আসতে চায়। মামলা, হামলা, ভয় দেখিয়ে ক্ষমতাই বেশি দিন টিকে থাকা যায় না।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে সংশয় রয়েছে: সুজন-দৈনিক মানবজমিন
মানুষের মধ্যে ভোটের পরিবেশ নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, মানুষ ভোট দেয়ার গ্যারান্টি চায়। নাগরিক হিসেবে আপনি ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন। আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বদিউল আলম বলেন, সবদল অংশগ্রহণ করলেই কেবল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা যাবে না। একটি সত্যিকারের সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তখনই বলা যাবে, যখন সবাই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলে যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
এবার ভারতের দুটি খবর তুলে ধরছি
বিহারে জোট ধরে রাখতে জেতা আসনও ছাড়তে হল বিজেপিকে-দৈনিক আনন্দবাজার
তিন রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফল কি তাড়া করছে বিজেপিকে? বিহারে নীতীশ কুমার এবং রামবিলাস পাসোয়ানের সঙ্গে জোট এবং আসন বণ্টনের ঘোষণায় সেই ইঙ্গিতই পাচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে ৪০টির মধ্যে বিজেপি জিতেছিল ২২টি আসন। আর এনডিএ-র জোট সঙ্গী লোক জনশক্তি পার্টির (এলজেপি) ঝুলিতে গিয়েছিল ছ’টি আসনে। রবিবার বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ঘোষণা করলেন, পাসোয়ানের সঙ্গে এবার এনডিএ-তে যোগ দিচ্ছে জেডিইউ। যে নীতীশের দল আগের বার মাত্র দু’টি আসন পেয়েছিল, তাকেই এবার ১৭টি আসন ছাড়ল বিজেপি। অর্থাৎ জেতা আসন থেকেও পাঁচটি ছেড়ে দিল পদ্ম শিবির।
ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় বেকসুর খালাস অভিযুক্তরা, বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ রাহুলের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় ২২ জনের বেকসুর খালাস পাওয়ার দু’দিন পর বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। দু’দিন আগে মুম্বইয়ে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত প্রমাণের অভাবে ছেড়ে দিয়েছে অভিযুক্তদের। রবিবার রাহুল গান্ধী বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, শেখ সোহরাবউদ্দিন, তুলসীরাম প্রজাপতি বা কওসরকে কেউ হত্যা করেনি। তাঁরা এমনিই মারা গিয়েছেন!
আদালতের রায় দেওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এদিন একটি পোস্ট করেন রাহুল গান্ধী। সেখানে লেখেন, ”সোহরাবউদ্দিন, তুলসীরাম প্রজাপতি, কওসর, হরেন পাণ্ডিয়া, বিচারপতি লোয়া, প্রকাশ থোমরে, শ্রীকান্ত খান্ডালকরের নাম উল্লেখ করেন তিনি। লেখেন, কাউকে হ্ত্যা করা হয়নি। সবাই এমনিই মারা গিয়েছেন!” ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় এতবছর পর অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস দেওয়ার বিরুদ্ধেই এদিন সরব হলেন রাহুল।
তিন তালাক আইন তৈরি করা হবেই: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক আজকাল
মৌলবাদী ও বিরোধীদের বাধা কাটিয়েই তিন তালাকের বিরুদ্ধে কড়া আইন আনা হবে। স্পষ্ট ভাষায় এই কথা জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিন তালাক বিরোধী আইন তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে ওই আইনে কোনও ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এক বছর আগেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির সরকার এই বিল আনলেও তা এখনও পাস হয়নি। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। কিন্তু তা রাজ্যসভায় এখনও বিরোধীদের পাল্লাভারী। ফলে লোকসভায় তিন তালাক বিরোধী বিল পাস হলেও সংসদের উচ্চকক্ষে বিরোধীদের বাধায় এখনও আটকে এই বিল।এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, মুসলিম মহিলাদের সামাজিক ন্যায়বিচার দিতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর।
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৩