বিএনপির অভিযোগ ভুল প্রমাণ হবে: সিইসি
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৮ ডিসেম্বর শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- বিএনপির অভিযোগ ভুল প্রমাণ হবে: সিইসি-দৈনিক প্রথম আলো
- মাঠে নামিয়ে সেনাবাহিনীর হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে: বিএনপি-দৈনিক যুগান্তর
- ১৯৭০ সালের পর নির্বাচনের এমন গণজোয়ার দেখা যায়নি : ওবায়দুল কাদের-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর উপর হামলাকারীদের দমন করা হবে : র্যাব ডিজি-দৈনিক ইত্তেফাক
- শেষ হলো প্রচারণা, অপেক্ষা ভোটের-মানব জমিন
- যাকে খুশি তাকে ভোট দেওয়া’র পরিবেশ চায় যুক্তরাজ্য-এনটিভি বিডি
ভারতের খবর:
- হামলার জের, এক্স ক্যাটেগরি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে বিজেপির জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
-
ভোটের আগে মনমোহনকে নিয়ে ছবি, ফুঁসছে কংগ্রেস, প্রদর্শন বন্ধের হুমকি-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- চলন্ত মেট্রোয় আগুনে আতঙ্ক ধোঁয়ায় অসুস্থ অন্তত ৪০ যাত্রী-দৈনিক বর্তমান -দৈনিক বর্তমান-
- বুলন্দশহরে পুলিশ খুনে অবশেষে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত-সংবাদ প্রতিদিন-সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
•বিএনপির অভিযোগ ভুল প্রমাণ হবে: সিইসি-দৈনিক প্রথম আলো
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেছেন, সব দল ও সবচেয়ে বেশি প্রার্থী এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। উৎসবমুখর ভোট হবে—এটাই আশা। তিনি বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কের বিষয়ে বিএনপির অভিযোগ ভুল প্রমাণ হবে।
আজ শুক্রবার সকালে নির্বাচন ভবনে ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্র ও গণমাধ্যম বুথ পরিদর্শন করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে বিএনপি ও বিরোধীপক্ষের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘তাদের অভিযোগ অবশ্যই ভুল প্রমাণ হবে। আমরা প্রস্তুত, ভোটাররা সবাই উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন পরিবেশে ভোটে অংশগ্রহণ করবে।’
সিইসি বলেন, নির্বাচনের প্রচারণা আজ শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থক সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যার যার অবস্থান থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। কাউকে কোনো ধরনের বাধা কেউ দিতে পারবে না। যার যার ভোট সে দিতে পারবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সকলকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘সকলের জন্য নিরাপত্তা, সকলের জন্য নিরাপদ অবস্থান সৃষ্টি করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করব। দেশবাসী যারা ভোটার, তাঁরা যেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে আশাই করব।’
মাঠে নামিয়ে সেনাবাহিনীর হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে: বিএনপি-দৈনিক যুগান্তর
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সেনাবাহিনীকে মাঠে নামিয়ে তাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। আর এসবই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ইশারায় ও সিইসির তত্ত্বাবধানে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী ক্যাডাররা গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রার্থীদের মিছিলে বাধা দিয়েছে।

‘তারা বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট, কর্মী ও সমর্থকদের এলাকাছাড়া করেছেন। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রামে-গ্রামে সশস্ত্র মহড়া চলছে। সারা দেশে এখনও ভীতিকর অবস্থা বিদ্যমান।’প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেছেন-পরাজয় বুঝতে পেরে নাশকতার পরিকল্পনায় বিএনপি। সর্বজনবিদিত যে, আওয়ামী লীগ এমন দল যেটি একটি উন্নতমানের মিথ্যা প্রডাকশন কেন্দ্র।তিনি বলেন, জেলায় জেলায় বেপরোয়া গ্রেফতার অভিযানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া করা হচ্ছে। আর আপনি বলছেন-বিএনপি নাশকতা করছে। নাশকতাকারীদের ট্রেনিং সেন্টার তো আওয়ামী লীগেই বিদ্যমান। সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য আওয়ামী লীগ ও সরকার।প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি প্রশ্ন রেখে রিজভী বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলা করেছে কে? গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে কে? ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও রোমানা মাহমুদকে গুলি করেছে কে? হাবিবুর রহমান হাবিবকে আপনি ভালোভাবেই চেনেন, তাকে হত্যা করার জন্য তার শরীরে ছুরি ঢুকিয়েছে কে?মির্জা আব্বাস, আফরোজা আব্বাস, ড. মঈন খান, মওদুদ আহমদ, মেজর হাফিজ ও হাসিনা আহমেদের মিছিলে হামলা করেছে কে?
‘শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাফিজ ইব্রাহিম ও ডা. সানসিলা প্রিয়াংকার ওপর হামলা চালিয়েছে কে? সারা দেশে ধানের শীষের শতাধিক প্রার্থীর ওপর রক্তাক্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে-কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে?’তিনি আরও বলেন, এখনও বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ। গতকাল রাতে কিশোরগঞ্জে ধানের শীষের প্রার্থীর বাড়িতে বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম শহীদকে হত্যা করেছে কে? যারা এসব সহিংস অপকর্মে লিপ্ত তাদের কী শান্তির বার্তাবাহক বলতে হবে? রিজভী আরও বলেন, ঢাকা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী ক্যাডাররা তার বাসা ঘিরে রেখেছে। অথচ নৌকা মার্কার প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা গণমিছিল করেছেন।‘চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ। গতরাত ৩টায় তার বাসায় র্যাব ঢুকে সব কিছু তছনছ করেছে। গতরাত দেড়টায় বরিশালের গৌরনদীতে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনকে তার বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।’
১৯৭০ সালের পর নির্বাচনের এমন গণজোয়ার দেখা যায়নি: ওবায়দুল কাদের-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১৯৭০ সালের পর নির্বাচনের এমন গণজোয়ার আর কখনও দেখা যায়নি। আজ শুক্রবার ফেনী মাইজদির আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। নির্বাচন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, এবারের ভোট-বিপ্লব হবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে। এই ভোট-বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হব। সন্ত্রাস-দুর্নীতি ও অপশক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে গড়তে মহাজোটের বিকল্প নেই। এ সময় সেতুমন্ত্রী মন্তব্য করেন, আমার বিশ্বাস-১৯৭০ সালের পর নির্বাচনের এমন গণজোয়ার আর কখনও দেখা যায়নি। এমন জোয়ার দেখে মনে হচ্ছে-এবার নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নির্বাচন।
সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর উপর হামলাকারীদের দমন করা হবে: র্যাব ডিজি-দৈনিক ইত্তেফাক
র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর উপর হামলাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সুষ্ঠু ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর সিঙ্গিয়া শাহপাড়ায় অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত মটা সাহার বাড়ি পুর্ননির্মাণের চাবি হস্তান্তর শেষে তিনি এ সব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন আসলেই সমাজের এক শ্রেণির মানুষ নিরীহ মানুষের উপর হামলা করে। আমরা তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করবো। দেশ গড়ার ক্ষেত্রে এ দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ কাজ করেছে। এই নির্বাচন সফল করার জন্য আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। সারাদেশব্যাপী যারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু আছে তাদের নিরাপত্তায় আমরা বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
পরে এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমাবেশে যোগ দেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন- রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, র্যাব-১৩ এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোজাম্মেল হক, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম, পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর সিঙ্গিয়া শাহপাড়ায় মটা সাহার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর ২৩ ডিসেম্বর থেকে দিনাজপুর র্যাব-১৩ এর একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটি পুর্ননির্মাণ ও এলাকায় নজরদারি শুরু করে।
শেষ হলো প্রচারণা, অপেক্ষা ভোটের-মানব জমিন
১৮দিন প্রচার প্রচারণার পর শেষ হলো একাদশ জাতীয় সংদ নির্বাচনের প্রচারপর্ব। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া সময়সীমা শেষ হয়েছে। ৪৮ ঘন্টা অতিক্রম করলেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে যাবে।
তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনের মাঠে পুরোদমে সক্রিয় ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও মহাজোটের প্রার্থীরা। তবে নির্বাচনী প্রচারে বাধা সৃষ্টি, হামলা-ভাঙচুর, প্রার্থী ও সমর্থকদের পুলিশি হয়রানির অভিযোগ শুরু থেকেই ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের।

নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়, এরই মধ্যে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন সামগ্রী জেলায় জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল শনিবার ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যাবে সব সামগ্রী। শেষ মুহূর্তে ব্যালট পেপারে কোনো পরিবর্তন এলে তা ছাপিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম রয়েছেন নির্বাচনী এলাকায়।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা নির্বাচনী এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত সভা-সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা করা যাবে না।।
যাকে খুশি তাকে ভোট দেওয়া’র পরিবেশ চায় যুক্তরাজ্য-এনটিভি বিডি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ যেন নিজেদের ইচ্ছানুসারে যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারে, প্রশাসনের কাছে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক। আজ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তোফায়েল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।
ডিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অ্যালিসন ব্লেইক বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতেই আসলে আমি এখানে এসেছিলাম। আমার পরস্পরের মাঝে নিজেদের ভাবনা-চিন্তাগুলো আদান-প্রদান করেছি। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে তাঁর প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, ভোটের দিন সবাই যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে।’
‘জেলা প্রশাসক ছাড়াও মৌলভীবাজারে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গেও আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। ভোটের দিন বাংলাদেশের মানুষ যেন নিজেদের ইচ্ছামতো যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারে, এটাই আমাদের চাওয়া,’ বলেন অ্যালিসন। ব্রিটিশ হাইকমিশনার আরো বলেন, ‘নির্বাচনের দিন এটাই দেখার বিষয় যে, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোট দিতে পারছেন কি না।’ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি
হামলার জের, এক্স ক্যাটেগরি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে বিজেপির জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
পরপর হামলার জেরে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হল বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে।তাঁকে এক্স ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হবে।দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায় এবং রাহুল সিংহ—রাজ্যের এই তিন শীর্ষ স্থানীয় বিজেপি নেতার পর জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা পাওয়ার পর জয়ের বাড়িতে সব সময়ের জন্য তিনজন সিআইএসএফ জওয়ান মোতায়েন থাকবেন।
জয়বাড়ির বাইরে কোথাও গেলে নিরাপত্তার জন্য তাঁর গাড়িতে থাকবেন দু’জন সিআইএসএফ জওয়ান। বিজেপি সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিজেপি নেতাদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক কালে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেও কয়েক বার হামলা হয়। হুগলির চণ্ডীতলার মশাটে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সভা থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলা চালানো হয় বিজেপি নেতা জয়ের গাড়িতে। ডানকুনির কালীপুরের কাছে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়। বাঁশ দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়গাড়ির পেছনের কাচও। সব দিক খতিয়ে দেখেই বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ভোটের আগে মনমোহনকে নিয়ে ছবি, ফুঁসছে কংগ্রেস, প্রদর্শন বন্ধের হুমকি-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ ছবির ট্রেলরপ্রকাশ পেতেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপি যেমন একে প্রচারের হাতিয়ার করেছে, তেমনই ছবির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে কংগ্রেস। এমনকি, সদ্য দখলে আসা মধ্যপ্রদেশে ছবিটি নিষিদ্ধ করা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রয়োজনীয় কাটছাঁট না করলে মহারাষ্ট্রে ছবির প্রদর্শন করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ছবিতে তথ্য বিকৃত করার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক কংগ্রেস নেতা। দলের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা ছবিটিকে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রচারের হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেছেন। মুক্তি পাওয়ার আগে ছবিটি তাঁদের দেখাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাটছাঁট করতে হবে বলে দাবি তুলেছেন মহারাষ্ট্র যুব কংগ্রেসের সভাপতি সত্যজিত্ তাম্বে পাটিলও। নইলে প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও তুলেছেন। তবে যাঁকে কেন্দ্র করে এত বিতর্ক, সেই মনমোহন সিংহ এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে তাঁর মতামত চাওয়া হলে, মাইক রেখে দূরে সরে যান তিনি। এড়িয়ে যান সেই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্ন।
চলন্ত মেট্রোয় আগুনে আতঙ্ক ধোঁয়ায় অসুস্থ অন্তত ৪০ যাত্রী-দৈনিক বর্তমান
শহরের লাইফ লাইনে চলন্ত মেট্রোয় আগুন লাগার ঘটনা ঘটল। ময়দান স্টেশনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে ঘটনার জেরে তুমুল আতঙ্ক ছড়াল ট্রেনটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে। আগুনের জেরে এসি ট্রেনটিতে ধোঁয়ায় ভরে যায়। আতঙ্কে দ্রুত বাইরে বের হতে জানলার কাঁচ ভাঙেন যাত্রীরা। ট্রেনের মধ্যেই ছোটাছুটি শুরু করে দেন তাঁরা। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই ঘটনা চলায় ধোয়া এবং আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু যাত্রী। মেট্রোর কর্মীদের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দমকল এবং কলকাতা পুলিসের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

সুড়ঙ্গের মধ্যেই ট্রেনের প্রথম কোচের দরজা দিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে লাইন দিয়ে হাঁটিয়ে তাঁদের প্ল্যাটফর্মে তোলা হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, রবীন্দ্র সদন স্টেশন ছাড়ার পর থেকেই ট্রেনটি আচমকা অন্ধকার হয়ে যায়। তারপরই পোড়া গন্ধ বের হতে থাকে। আগুন লাগা অবস্থাতেই ট্রেন চলতে থাকে। ট্রেনের মধ্যে তাঁরা প্রায় ৩০ মিনিট আটকে ছিলেন। কলকাতা পুলিসের ১০০ ডায়াল এবং মেট্রোর হেল্প লাইনে ফোন করেও দ্রুত সহায়তা মেলেনি বলে দাবি তাঁদের। রেকের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই ঘটনা বলে দাবি করেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।
বুলন্দশহরে পুলিশ খুনে অবশেষে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত-সংবাদ প্রতিদিন
বুলন্দশহরে পুলিশ আধিকারিক খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার প্রশান্ত নট নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বয়স ২৬ বছর। ৩ ডিসেম্বর বুলন্দশহরে সুবোধ কুমার সিংয়ের উপর সেই গুলি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ। জেরায় ধৃত যুবক অভিযোগের কথা স্বীকার করে নিয়েছে বলেও খবর।
বুলন্দশহরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতুল কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার প্রশান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেরার সময় সে স্বীকার করেছে বুলন্দশহরে সেদিনের ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ ছিল তার। ইনস্পেক্টর সুবোধ কুমার সিংকে সে-ই গুলি করে। তবে তদন্তকাজ এখানেই থামিয়ে দেয়নি পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানিয়েছেন, আরও অনেক কিছু পরিষ্কার হওয়া বাকি। তাই তদন্তকাজ এখনও চলবে। তবে প্রশান্ত নটের কথার ভিত্তিতে তদন্ত এগোবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের তরফে আরও জানানো হয়েছে, প্রশা্ন্ত থাকে সিয়ানায়। কিন্তু তাকে সিকান্দ্রাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটে নাগাদ নয়ডার হাইওয়ের পাশে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখানেই সে পার্ট টাইম গাড়িচালকের কাজ করত। এই নিয়ে বুলন্দশহর ঘটনায় ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হল। ১৮ ডিসেম্বর হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। হিংসা ছড়ানো ও গোহত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে দু’জনকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গ্রেপ্তার করে।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৭
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন