একনজরে ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ৭ জানুয়ারি সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম
- বিমানবন্দর সড়কে আবারো বিক্ষোভ, বাসে অগ্নিসংযোগ-দৈনিক ইত্তেফাক
- মন্ত্রিত্ব পাওয়ার আশা ছাড়ছেন না শরিকেরা-দৈনিক প্রথম আলো
- খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনরা দেখা করার অনুমতি পাচ্ছেন না: রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
- মন্ত্রিসভার শপথ -দৈনিক মানবজমিন
- রাজধানীতে চালু হচ্ছে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- বনধ ব্যর্থ করতে মরিয়া রাজ্য, প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- লোকসভা ভোটে ত্রিশঙ্কু ফলের অপেক্ষায় নিতিন গডকড়ী! দাবি শিবসেনার-‘-দৈনিক আনন্দবাজার
- ভোটের আগে নতুন চমক মোদি সরকারের, উচ্চবর্ণের জন্য সংরক্ষণ সরকারি চাকরিতে-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন?..এমন জিজ্ঞাসাসূচক একটি শিরোনাম করেছে দৈনিক যুগান্তর। আপনি কী বলবেন?
২. শিগগিরি আরব লীগে যোগ দিতে পারে সিরিয়া- এমন একটি খবর কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। আপনার কী মনে হয়?
মন্ত্রিত্ব পাওয়ার আশা ছাড়ছেন না শরিকেরা-দৈনিক প্রথম আলো
নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন না আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও মহাজোটের শরিক দলের কোনো নেতা। যদিও জোটগত নির্বাচন করে এবার মিত্র দলগুলো থেকে ৩১ জন সাংসদ হয়েছেন। তবে এখনই হতাশ হচ্ছেন না শরিকেরা। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, মন্ত্রিপরিষদে শরিক দলের সাংসদদের অন্তর্ভুক্তির সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। দশম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় শরিক দলগুলো থেকে ছয়জন মন্ত্রিত্ব পান। একজন মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ছিলেন।
বিমানবন্দর সড়কে আবারো বিক্ষোভ, বাসে অগ্নিসংযোগ-দৈনিক ইত্তেফাক
ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বেশ কিছু দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বিক্ষোভ ও বাসে অগ্নিসংযোগ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে ঢাকার প্রবেশমুখ গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ।
জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে শুরু করেন শ্রমিকরা। দুপুর ১২টা থেকে আজমপুর, জসমিউদ্দিন ক্রসিং এবং বিমানন্দর সড়কে যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের দিকে একটি বাসে শ্রমিকরা আগুন ধরিয়ে দেন।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনরা দেখা করার অনুমতি পাচ্ছেন না: রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
প্রায় তিন সপ্তাহ অতিক্রম হলেও কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার নিকটাত্মীয়রা দেখা করার অনুমতি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, আজ প্রায় ২১-২২ দিন অতিক্রান্ত হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার নিকটাত্মীয়দের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। বন্দিদের যে আইনসম্মত অধিকার, তা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে খালেদা জিয়াকে। এই নিষ্ঠুর আচরণ কিসের ইঙ্গিতবাহী? এভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে অন্তরীণ রেখে বাইরের দুনিয়া থেকেও সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করার পাঁয়তারা চলছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।
রাজধানীতে চালু হচ্ছে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম-দৈনিক নয়া দিগন্ত
রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য সড়কের সিগন্যালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম (আইটিএস)।
সড়কে সঙ্কেত ব্যবস্থায় নতুন এ পদ্ধতি চালু করতে কাজ করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এতে বদলে যাবে সিগন্যালগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থা। ডিটিসিএর এক কর্মকর্তা জানান, ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেমে সিসি ক্যামেরা বা রাস্তায় বসানো গাড়ি শনাক্তকরণ যন্ত্রের মাধ্যমে গাড়ির সংখ্যা হিসাব করা যাবে। যে লেনে চাপ বেশি থাকে সেদিকের গাড়িগুলোর জন্য জ্বলে উঠবে সবুজ বাতি। কোনো গাড়ি ট্রাফিক আইন অমান্য করলে সেটি শনাক্ত করা যাবে।
এ ছাড়া পথচারীদের সংখ্যা হিসাব করে সে অনুযায়ী পথচারী পারাপারের সঙ্কেত দেবে আইটিএস। আর এর সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হবে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে। আইটিএস পদ্ধতির সিসি ক্যামেরাগুলো ৩০০ মিটার এলাকার যানবাহনের হিসাব রাখতে সক্ষম হবে। এ প্রকল্প সফল হলে রাজধানীর সব গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যালে এ ব্যবস্থা চালু করা বলে জানান ডিটিসিএ কর্মকর্তা।
মন্ত্রিসভার শপথ-দৈনিক নয়া দিগন্ত
বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার শপথ শুরু হয়েছে। প্রথমে শপথ নেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে শপথ বাক্য পড়েন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীরা। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
বনধ ব্যর্থ করতে মরিয়া রাজ্য, প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতি, কর্মসংস্থান-সহ ১২ দফা দাবিতে ৮ ও ৯ জানুয়ারি একযোগে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন। বনধের আওতায় থাকছে রেল, সড়ক, বিদ্যুৎ পরিষেবা। ধর্মঘটের আওতায় থাকছে ব্যাংকও। রাজ্যে বাম ট্রেড ইউনিয়ন, কো-অর্ডিনেশন কমিটি সহ অন্য শ্রমিক সংগঠনগুলি এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে। ১২ দফা দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও তিন দফা অতিরিক্ত দাবি। সেগুলি হল, বকেয়া ডিএ প্রদান করতে হবে, ষষ্ঠ বেতন কমিশন চালু করতে হবে এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে। মূলত বাম ট্রেড ইউনিয়নগুলি এই ধর্মঘট ডাকলেও তা সমর্থন করেছে একাধিক ডানপন্থী ট্রেড ইউনিয়নও। সমর্থন করেছে একাধিক কৃষক সংগঠনও। কিন্তু এরাজ্যে এই বনধ ব্যর্থ করতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস সরকার।
মূলত কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এই বনধ হলেও এরাজ্যে ধর্মঘট বানচাল করতে চায় শাসকদল। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান স্পষ্ট। কর্মসংস্কৃতি বজায় রাখতে তিনি সব ধরনের বনধের বিরোধিতা করেছেন।
লোকসভা ভোটে ত্রিশঙ্কু ফলের অপেক্ষায় নিতিন গডকড়ী! দাবি শিবসেনার-দৈনিক আনন্দবাজার
তিনি কেন্দ্রের মন্ত্রী। বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি। অথচ সেই নিতিন গডকড়ীই চাইছেন আগামী লোকসভা ভোটের ফল হোক ‘ত্রিশঙ্কু’। সেই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। কংগ্রেস বা অন্য কোনও বিরোধী দল নয়, এই দাবি কেন্দ্রে এনডিএ জোটের শরিক শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতের। শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’য় রাউতের আরও বক্তব্য, ‘মোদী ম্যাজিক’ উধাও হয়ে গিয়েছে। জনপ্রিয়তা বেড়েছে রাহুলের।
কেন্দ্রের সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক, জাহাজ ও জলসম্পদ, নদী উন্নয়ন ও গঙ্গা সংস্কারের মতো একাধিক মন্ত্রক রয়েছে গডকড়ীর হাতে। অমিত শাহের আগেই তিনি ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। এ হেন গডকড়ীই বেশ কিছুদিন ধরে বেসুরো। এমনকি, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম দাবিদার বলেও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। সেই সূত্রেই এবার শিব সেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত দাবি করে বসলেন, নিতিন গডকড়ী অপেক্ষা করছেন বিজেপি তথা এনডিএ জোট যাতে আসন্ন লোকসভা ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়। অর্থাৎ ফলাফল যেন হয় ত্রিশঙ্কু। সেই ‘সুযোগ’-এর অপেক্ষাতেই তিনি রয়েছেন বলেও দাবি রাউতের।
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৭