এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি
-
পত্রপত্রিকার পাতার গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৭ জানুয়ারি বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি মুজাহিদুল ইসলাম।আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি-দৈনিক প্রথম আলো
- টিআইবির রিপোর্টে সরকারের আঁতে ঘা লেগেছে: রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
- এমপিদের শপথের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ-দৈনিক ইত্তেফাক
- প্রধানমন্ত্রীর নামে ৬টি ফেসবুক একাউন্ট চালাত ফারুক একাই,ওরা ভয়ঙ্কর প্রতারক-দৈনিক মানবজমিন
- ‘খালেদা জিয়াকে গভীর সঙ্কটে ঠেলে দেয়া হচ্ছে’!-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- না ভাল লাগলে, দল ছাড়ুন’, শত্রুঘ্নকে চরম হুঁশিয়ারি মোদির!-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- দলত্যাগীরা ব্রিগেডে, অস্বস্তিতে কংগ্রেস-দৈনিক আনন্দবাজার
- জম্মু–দিল্লি দুরন্ত এক্সপ্রেসে ভয়াবহ ডাকাতি-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশের কয়েকটি খবর
টিআইবির রিপোর্টে সরকারের আঁতে ঘা লেগেছে: রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
৩০ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আঁতে ঘা লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সরকারের সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণের ঘন অন্ধকার ভেদ করে টিআইবি রিপোর্টে ভোট ডাকাতির মহাসত্য প্রকাশ হওয়াতে সরকারের মন্ত্রীরা ও নির্বাচন কমিশন মুখ লুকাতে পারছে না। সে জন্য আর্তচিৎকার করে সত্য লুকানোর চেষ্টা করলেও কোনো লাভ নেই। মানুষ যা জানার নির্বাচনের আগের দিন রাত থেকেই জেনেছে। নির্বাচনীব্যবস্থা ধ্বংস করে পার পাওয়া যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরদিনের জন্য কোলবালিশের মতো আঁকড়ে ধরে রাখতে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যই ভোটারদের ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত করেছে সরকার।
এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি-দৈনিক প্রথম আলো
বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের ((ইসি) অধীন আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। ফলে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে না। কেউ প্রার্থী হতে চাইলে তাঁকে দল থেকে পদত্যাগ করতে হবে। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, গত মঙ্গলবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৪ দল শরিকদের বিরোধী দল হিসেবে চান কাদের-দৈনিক প্রথম আলো
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১৪ দলের শরিকেরা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করলে তাঁদের জন্য ভালো এবং সরকারের জন্যও ভালো। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশের প্রস্তুতি দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, তাঁরা তো বিরোধী দলে থাকবেন বলে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমার মনে হয়, তাঁরা বিরোধী দলে থাকলে তাঁদের জন্য ভালো, আমাদের জন্য ভালো।
প্রধানমন্ত্রীর নামে ৬টি ফেসবুক একাউন্ট চালাত ফারুক একাই,ওরা ভয়ঙ্কর প্রতারক-দৈনিক মানবজমিন
প্রতারক ওমর ফারুক। প্রধানমন্ত্রীর নামে ৬টি এবং তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে ১টি ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট খুলে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। হাতিয়ে নিতো অর্থ। ওমর ফারুক নিজেই আওয়ামী লীগ সমর্থক গোষ্ঠীসহ জাতীয় নেতাদের নামে ৩৬টি ভুয়া একাউন্ট খুলেছিল। সে তার নিজের নামেও ৬টি ফেসবুক একাউন্ট খুলেছে। আরেক প্রতারক সাব্বির পেশায় সাইবার কমিউনিকেশন এক্সপার্ট। সে ইতোমধ্যে ৬টি মামলার এজহারভুক্ত আসামি। সে ইতোপূর্বে তারেক জিয়া সাইবার ফোর্স, দেশ নেত্রী সাইবার ফোরাম পেজের এডমিন ছিল। সম্প্রতি সেসব পেজের নামের জায়গায় শেখ হাসিনার পরামর্শক ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নাম সংযোজন করে তাতে নিরাপদ সড়ক চাই ও কোটা আন্দোলনসহ নতুন কোনো ইস্যু পেলে সেগুলো নিয়ে উসকানিমূলক ভিডিও পোস্ট করে আসছিল। এরকম ৫ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। র্যাব-২ এর একটি বিশেষ দল তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
‘খালেদা জিয়াকে গভীর সঙ্কটে ঠেলে দেয়া হচ্ছে’!-দৈনিক নয়া দিগন্ত
বিএনপি চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নজীরবিহীনভাবে কারাগারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আটকে রাখা হয়েছে। এই আটকে রাখার পেছনে ব্যক্তির প্রতিহিংসা পূরণের সাধ মেটানো হচ্ছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি আরো বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে গতকাল আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তার সুচিকিৎসার জন্য পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে কোনো আবেদনই কারাকর্তৃপক্ষ রক্ষা করেনি, বরং সরকারের প্ররোচণায় কারাকর্তৃপক্ষ বেগম জিয়ার অসুস্থতাকে আরো অবনতির দিকে ঠেলে দেয়ারই চেষ্টা করেছে।
চালের মান বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না: খাদ্যমন্ত্রী-দৈনিক মানবজমিন
সারাদেশে চাল সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে চালের মান ও ওজনের বিষয়ে কাউকে ছাড় না দেয়ার কথা জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। আজ দুপুরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত চাল মজুদ থাকায় আপাতত চাল আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। খাদ্যবিভাগে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। তবে সম্প্রতি চালের দাম হঠাৎ করে কেজি প্রতি কয়েক টাকা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা –সমালোচনা।
এবার ভারতের তিনটি খবর তুলে ধরছি
দলত্যাগীরা ব্রিগেডে, অস্বস্তিতে কংগ্রেস-দৈনিক আনন্দবাজার
কাগজে-কলমে এখনও তাঁরা কংগ্রেসের বিধায়ক। কিন্তু পরিষদীয় রাজনীতির বাইরে তাঁরা তৃণমূল। এইরকম যে ১৭ জন বিধায়ককে নিয়ে রাজ্যে কংগ্রেস ও তৃণমূলের টানাপড়েন চলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রিগেড-মঞ্চে থাকবেন তাঁরাও। তাঁদের এই উপস্থিতি নিয়েই বিড়ম্বনায় পড়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। ১৯ জানুয়ারির সমাবেশে জাতীয় স্তরের নেতাদের জন্যে ব্যাপক ব্রিগেড ময়দান ঘিরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। সেই কারণেই তৃণমূলের বিধায়ক, সাংসদ ও মন্ত্রীদের জন্যে আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিন সেই পরিচয়পত্র বিলি করা হয়েছে তৃণমূলে যোগ দেওয়া দলত্যাগী কংগ্রেস বিধায়কদেরও। এই মুহূর্তে রাজ্য বিধানসভায় দলত্যাগী এইরকম বিধায়কের সংখ্যা ২০। তাঁদের মধ্যে ১৭ বিধায়কই কংগ্রেসের। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধেই দলত্যাগবিরোধী আইনে মামলা চলছে বিধানসভায়।
কর্নাটকে হোঁচট খেল ‘অপারেশন পদ্ম’ কুমারস্বামীকে স্বস্তি দিয়ে ফিরলেন দুই ‘নিখোঁজ’-দৈনিক আনন্দবাজার
কুর্সি নিয়ে নাটক চলছেই কর্নাটকে। গত কালই এইচ ডি কুমারস্বামীর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছিলেন দু’জন নির্দল বিধায়ক। আর আজ কংগ্রেসের নিখোঁজ দুই বিধায়ক ফিরে এলেন। বিধায়ক ভীমা নায়েক ও আনন্দ সিংহ ফেরার পরেই আগামীকাল পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। দলের নেতাদের দাবি, সেই সময়েই শক্তি বুঝিয়ে দেবেন তাঁরা। আর ফিরে এসেই কংগ্রেস বিধায়ক ভীমা নায়েক বলেছেন, ‘‘আমার দু’টো মোবাইলের একটা বন্ধ ছিল। সে জন্যই দলের নেতারা যোগাযোগ করতে পারেননি। তবে বিজেপির কাছে যাইনি।’’
কুমারস্বামীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা সুতোয় ঝুলছে। মন্ত্রিসভা থেকে কংগ্রেসের রমেশ জারকিহোলিকে সরানোর পরেই তিনি দল ভাঙতে নেমেছেন। খবরে বলা হয়েছে, মুম্বইয়ের হোটেলে বসে বিজেপির সঙ্গে মিলে সরকার ফেলার ছক কষছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, সঙ্কট দ্রুত কেটে যাবে। কর্নাটকে ‘অপারেশন পদ্ম’ কার্যকর করতে মরিয়া বিজেপি। কিন্তু নিজেদের ১০৪ জন বিধায়ককে গুরুগ্রামের রিসর্টে রেখেছে তারা। কুমারস্বামীর প্রশ্ন, রাজ্যে যখন প্রবল খরা, তখন বিধায়কেরা হরিয়ানায় বসে কী করছেন?
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৭