সোনার বাংলা গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৯ জানুয়ারি শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম
- বিজয় সমাবেশ, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-দৈনিক ইত্তেফাক
- নৈতিক পরাজয় ঢাকতে আ. লীগের বিজয় উৎসব: মির্জা ফখরুল-দৈনিক প্রথম আলো
- যে কোনো মূল্যে মাদক দমন করব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী -দৈনিক যুগান্তর
- অবশ্যই নির্বাচন ‘পারফেক্ট’ ছিল না- জাতিসংঘ-দৈনিক মানবজমিন
- নিম্নমানের ‘ভিটামিন এ ক্যাপসুল’ কিনতে বাধ্য করেছে ভারতীয় কোম্পানি!-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- প্রধানমন্ত্রী ঠিক হবে ভোটের পরে: চোখ ধাঁধানো ব্রিগেড থেকে দ্ব্যর্থহীন মমতা ‘-দৈনিক আনন্দবাজার
- লোকসভার পর ফের ব্রিগেড, পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ঘোষণা মমতার- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- ইভিএম চোর মেশিন’, ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে ইভিএম বর্জনের ডাক ফারুক আবদুল্লাহ-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. ক্ষতিপূরণের টাকা পেতেও ঘুষ। এটা দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণের একটি শিরোনাম। ঘুষ সম্পর্কে কী বলবেন আপনি?
২. ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ দেয়ার নীতি নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিন্তু তার সে নীতি বিফলে গেছে বলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ বা আইসিজি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। আসল কী তাই?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:
সোনার বাংলা গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের লোকজন বারবার ভোট দিয়ে আমাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে দেশকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়ে দেশগড়ে তুলতে সব শ্রেণিপেশার মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় উদযাপনে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশে দেয়া বক্তৃতায় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবন উন্নত করব। সুশিক্ষা নিয়ে দেশের মানুষ নিজের জীবন গড়ে তুলবে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জয়-পরাজয় একটি নির্বাচনের স্বাভাবিক ব্যাপার। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে, এটা সত্য। তবে দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য আমাদের সরকার কাজ করে যাবে। প্রতিটা মানুষের জীবন মান উন্নয়নে রাজনৈতিক দলমত দেখা হবে না। যারা ভোট দিয়েছেন, যারা দেননি, সবার জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুত ব্যক্ত করেন তিনি।
নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ায় তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ঐক্যবদ্ধ শক্তি সবসময় বিজয় অর্জন করে, এই নির্বাচনে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সব রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, এ রায় জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে। শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছে জনগণ। অন্ধকার থেকে আলোর পথের যাওয়ার রায় দিয়েছে জনগণ। এ রায় হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার রায়। উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গিকার করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী, দুর্নীতিবাজ ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না। এসময় প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ করার কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে আমার চাওয়া পাওয়া নেই। জীবন উৎসর্গ করে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। দেশে একটি লোকও না খেয়ে থাকবে না বলে জানান তিনি।
নৈতিক পরাজয় ঢাকতে আ. লীগের বিজয় উৎসব: মির্জা ফখরুল-দৈনিক প্রথম আলো
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৈতিক পরাজয় ঢাকতেই আওয়ামী লীগ বিজয় উৎসবের আয়োজন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এ বিজয় উৎসবের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে চায়। এ ছাড়া বিএনপির সঙ্গে শরিক দল ও ঐক্যফ্রন্টের কোনো টানাপোড়েনে নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আজ শনিবার এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে তাঁর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা–কর্মীরা। শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০–দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দলের কোনো টানাপোড়েন নেই। এ ব্যাপারে দলের বিরোধী পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অবশ্যই নির্বাচন ‘পারফেক্ট’ ছিল না- জাতিসংঘ-দৈনিক মানবজমিন
অবশ্যই বাংলাদেশের নির্বাচন ‘পারফেক্ট’ ছিল না। ইতিবাচক সমাধান পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহে অংশীদারদের অর্থপূর্ণ সংলাপ প্রয়োজন। এমন মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁর মুখপাত্র। শুক্রবার তিনি প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনাকে ধন্যবাদ সম্মানিত মহাসচিব। আপনি জানেন গত ৩০ শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে। ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।
বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। আর বিরোধীরা নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এমন কি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশের নির্বাচনকে স্বাগত জানায়নি। বাংলাদেশ সরকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৭টি সংগঠনকে অনুমোদন দেয়নি। তাই বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কি? আপনি কি সার্বিক বিষয় তদন্ত করতে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কোনো দূত বা বিশেষ কোনো টিমকে পাঠাচ্ছেন? জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে তার মুখপাত্র বলেন, ম্যান্ডেট ছাড়া এ রকম তদন্ত করার অধিকার আমাদের নেই। তবে সবার আগে আমি বলতে চাই, রোহিঙ্গা শরণার্থী সম্পর্কিত ইস্যুতে জাতিসংঘের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলো বাংলাদেশ। দেশটি ভয়াবহ জটিল অবস্থার মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার যে উদারতা দেখিয়েছে তার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। এ সমস্যা রয়ে গেছে। বাংলাদেশের সমস্যা ও জটিল অবস্থার পরেও এটা করা হয়েছে। এখন, অবশ্যই নির্বাচন ‘পারফেক্ট’ ছিল না। তাই আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থপূর্ণ একটি সংলাপের জন্য উৎসাহিত করি, যাতে যতটা সম্ভব বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে ইতিবাচক শৃঙ্খলা আনা যায়।
নিম্নমানের ‘ভিটামিন এ ক্যাপসুল’ কিনতে বাধ্য করেছে ভারতীয় কোম্পানি!-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ক্যাপসুলের মান খারাপ ও নিম্নমানের হওয়ায় সরকার আকস্মিকভাবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচী স্থগিত করেছে। আজ শনিবার সারাদেশের ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা ছিল। এই ক্যাপসুলের ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মো: মুরাদ হাসান বলেছেন, ‘ ভারতীয় একটি অখ্যাত কোম্পানির কাছ থেকে নিম্নমানের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। ক্যাপসুলের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।’ গতকাল দুপুরে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউজে কিশোরগঞ্জে সরবরাহ করা ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুলের নমুনা পর্যবেণের সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মামলা করে নিম্নমানের ওই ক্যাপসুল কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। সরবরাহ করা এসব ক্যাপসুল কৌটার সাথে লেগে আছে। আলাদা করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
লোকসভার পর ফের ব্রিগেড, পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ঘোষণা মমতার-দৈনিক আনন্দবাজার
সভার শুরু থেকে একের পর এক বক্তারা যে সুর বেঁধেছিলেন সেই সুরের যবনিকা পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। ২২ টি বিরোধী দলের নেতাদের পাশে বসিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূলনেত্রী ঘোষণা করলেন, ভোটের পর আবার ব্রিগেড হবে। পরিবর্তন হবেই, পরিবর্তনের পর ফের ব্রিগেড সমাবেশ হবে। সেই সমাবেশ হবে সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের অনুষ্ঠান।
বক্তব্যের শুরুতেই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর বেঁধে দিয়েছিলেন মমতা। মোদি সরকারের এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে গিয়েছে। এই সরকারের পতন নিশ্চিত। মোদি জমানায় একের পর এক, প্রকল্পে কেলেঙ্কারি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূলনেত্রী। এরপর গোটা বক্তব্যেই একাধিক ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন। ব্রিগেডের এই সমাবেশকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিতে তৃণমূলনেত্রী তুলে এনেছেন, ইন্দিরার ব্রিগেডের প্রসঙ্গ। তুলে এনেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের পর বিজয়োৎসব পালনের ইতিহাস। তুলে এনেছেন, রাজনৈতিকভাবে বিপরীত মেরুতে থাকা জ্যোতি বসুর ব্রিগেড প্রসঙ্গও। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই বোঝাতে চেয়েছেন, বিজেপিকে সরানোই মূল লক্ষ্য। এতে প্রয়োজনে নিজেদের মধ্যেকার মতভেদকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এদিনের ব্রিগেড সমাবেশকে তৃণমূলনেত্রী বিজেপির শেষের শুরু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এরপর আমরা দেশের প্রতিটি প্রান্তে যাব। আমি চন্দ্রবাবু নায়ডুকে বলব অন্ধ্রপ্রদেশে সমাবেশ করতে, সেখানে আমরা সবাই যাব। দিল্লিতে কেজরিওয়ালকে বলব সভা করতে, সেখানে যাব। বিহারে তেজস্বীকে বলব তোমরাও কর, লালুজিকে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে তবু ভয় পেও না। বিজেপির শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। সরকারের এক্সপায়ারি ডেট শেষ হয়ে গিয়েছে।”
আলাদা আলাদা রাজ্যের নেতাদের উজ্জিবীত করার পর মমতা বলেন, “অনেক হয়েছে আচ্ছে দিন, এবার বিজেপিকে বাদ দিন।” তৃণমূলনেত্রীর দাবি, বিজেপি গোটা দেশে শূন্য পাবে। এরপরই তিনি জানিয়ে দেন, ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আবার সমাবেশ হবে। তবে, সেটা নির্বাচনের পর। নতুন সরকার গঠনের পর। জনগণকে ধন্যবাদ জানাতে ব্রিগেডের আয়োজন করা হবে। সেই ব্রিগেডে সব নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
বিজেপি বিরোধী ভোট বিভাজন রুখতে হবে, মমতার মঞ্চে বার্তা কংগ্রেস নেতার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
এ যেন স্পষ্ট জোট বার্তা। রাজ্য নেতারা বারবার বলছেন, তৃণমূলের সঙ্গে জোট কোনওভাবেই নয়। কিন্তু, কেন্দ্রীয় নেতারা কী আদৌ সেকথা শুনছেন? ব্রিগেডের সভায় অভিষেক মনু সিংভির বক্তব্যের পর আবারও সেই প্রশ্নটি মাথাচাড়া দিল। এরাজ্য থেকেই মমতার সমর্থনে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর কথাবার্তাতে তাই মমতার প্রশংসা শোনা যাওয়াটা হয়তো স্বাভাবিক ছিল। স্থানীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতার কথা ভেবে তিনি হয়তো মমতার প্রশংসায় রাশ টানতে পারেন, এমনটাই প্রত্যাশা করছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা। কিন্তু তেমনটা হল না, বিজেপি বিরোধী শক্তিকে একত্রিত করতে মমতার যে পরিশ্রম তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাহুল গান্ধীর দূত। একই কথা বললেন মল্লিকার্জুন খাড়গেও। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে একজোট হতে হবে, এটাই ছিল খাড়গের বক্তব্যের মূল বার্তা। তিনি বলেন, মন না চাইলেও আমাদের হাত মিলিয়ে চলতে হবে।অন্যদিকে, খাড়গের মাধ্যমে এই জনসভাকে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়েছেন সোনিয়া গান্ধীও। ইউপিএ চেয়ারপার্সনের বার্তা,” কৃষকদের সংকট বাড়ছে। দেশ অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে সমস্যায়। গণতন্ত্রে ভরসা ফেরাতে আমি মোদির বিরুদ্ধে এই লড়াইকে শুভেচ্ছা জানায়।”
‘ইভিএম চোর মেশিন’, ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে ইভিএম বর্জনের ডাক ফারুক আবদুল্লাহ-দৈনিক আজকাল
সুদূর কাশ্মীর থেকে এসেছেন তিনি। কেন্দ্র থেকে মোদি সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত প্রবীণ ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাহ। একসময় ভূস্বর্গ শাসন করেছেন তিনি। সেই ভূস্বর্গ আজ নরকে পরিণত করেছে বিজেপি সরকার। ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে বিজেপির সেই অপশাসনকে তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। ফারুক এদিন বলেছেন, জাতী ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আত্মবলিদানের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা এসেছে সেই স্বাধীনতা আজ বিপন্ন হতে বসেছে। যাঁর মূলে মোদি অমিত শাহ।
কাশ্মীরে যে পরিস্থিতি বিজেপি তৈরি করেছে তা কখনও চায়নি সেখানকার বাসিন্দারা। কাশ্মীরিরা মনে প্রাণে ভারতীয়। তাঁরা ভারতের সঙ্গেই থাকতে চায় বলে এদিন বলেছেন তিনি।
কাশ্মীরের মানুষ মোদির বিরোধিতা করলেই তাঁদের পাকিস্তানি বলা হচ্ছে। এভাবেই ভূস্বর্গের মানুষকে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বিজেপির এই অপশাসনকে উৎখাত করতে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দেশ বলেছেন, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট ব্যালটে করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। ফারুকের দাবি ‘ইভিএম চোর মেশিন’। এর আগেও একাধিক রাজনৈতিক নেতা ইভিএমের কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন। তারমধ্যে ফারুক আবদুল্লাহও ছিলেন। তিনি এর আগেও ইভিএম বাতিলের ডাক দিয়েছেন। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে আবারও সেই দাবিকে জাগিয়ে তুললেন ফারুক। তিনি অভিযোগ করেছেন বিশ্বের কোনও দেশে ইভিএমে ভোট হয় না। একমাত্র ভারতেই হচ্ছে। সেটা কোনওভাবেই আর হতে দেওয়া যাবে না।
দেশে নতুন সরকার গড়ার লক্ষ্যে ইভিএম বাতিলের ডাক দিয়েছেন ফারুক আবদুল্লাহ। বাংলার মানুষকে কাশ্মীর ঘুরতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৯