বিশ্বের শীর্ষ চিন্তাবিদদের তালিকায় শেখ হাসিনা
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৪ জানুয়ারি বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি মুজাহিদুল ইসলাম। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ভিক্ষা করেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন শিশু সুখী!-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- তারেকের সঙ্গে কথা বলে ডিএনসিসি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত: ফখরুল-দৈনিক প্রথম আলো
- আমি তো কিছুই দেখতে পারছি না, আদালতে খালেদা জিয়া-দৈনিক যুগান্তর
- বিশ্বের শীর্ষ চিন্তাবিদদের তালিকায় শেখ হাসিনা ‘-দৈনিক ইত্তেফাক
- কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩-দৈনিক মানবজমিন
ভারতের শিরোনাম:
- প্রধানমন্ত্রী পদে রাহুলকেই সমর্থন, চার দিনেই পছন্দ বদল কুমারস্বামীর-দৈনিক আনন্দবাজার
- মোদির বিরুদ্ধে বারাণসীতে প্রার্থী হতে পারেন প্রিয়াঙ্কা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- ব্যালট পেপার নয়, ভোট হবে ইভিএমেই: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশের কয়েকটি খবর
আমি তো কিছুই দেখতে পারছি না, আদালতে খালেদা জিয়া-দৈনিক যুগান্তর
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার চার্জ গঠনের শুনানিতে হাজির করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে তাকে বসানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন- ‘আমি তো কিছুই দেখছি না। আমি তো আপনাকেও (বিচারক) দেখছি না। এই দেয়াল তো এর আগে ছিল না, এখন কোথা থেকে এলো। আমি এখানে থাকব না, আমি এখান থেকে চলে যাব।’ বৃহস্পতিবার আদালতে প্রবেশ করার পর বিচারককে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। আদালতে যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বসানো হয়, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন। এর পর বিচারক বলেন, বসার জন্য আগামীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিশ্বের শীর্ষ চিন্তাবিদদের তালিকায় শেখ হাসিনা-দৈনিক ইত্তেফাক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী 'দ্য ফরেন পলিসি' বিশ্বের সেরা চিন্তাবিদদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে শীর্ষ ১০০ চিন্তাবিদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 'দ্য ফরেন পলিসি' বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে বলেছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যা চালায়। ভয়ে বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসে। রোহিঙ্গাদের দেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বনেতৃত্বের দৃষ্টি কেড়েছেন তিনি। এখন শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে তৎপরতা শুরু করেছেন।
নিরাপত্তার কারণে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিরোধিতা করছে। তা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার সরকার লাখো রোহিঙ্গাকে দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে।
তারেকের সঙ্গে কথা বলে ডিএনসিসি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত: ফখরুল-দৈনিক প্রথম আলো
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন নিয়ে বিএনপি দলের শীর্ষ নেতা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবে । দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ বৃহস্পতিবার এ কথা বলেছেন গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ডিএনসিসির মেয়র পদের তফসিল ঘোষণা করেন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দেশের উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী মার্চ মাসে।
বড় অর্থনীতি, মেগা প্রকল্প ও হারিয়ে যাওয়া মানুষ-দৈনিক প্রথম আলো
ই সপ্তাহের মূল আলোচনা ছিল ওয়েলথ এক্সের নতুন প্রতিবেদন। ‘বড়লোক’ বৃদ্ধির হারে আমরা বিশ্বে ‘তৃতীয়’ হয়েছি১। এর আগে বিশ্বের ‘অতি বড়লোক’ বৃদ্ধির তালিকায় প্রথম হয়েছিলাম২। এখন আবার বিশ্বব্যাংক বলছে, অতি গরিবের তালিকায় আমরা ‘পঞ্চম’৩। আরও একটা খবর হচ্ছে, এই মুহূর্তে ‘বড় অর্থনীতি’র তালিকায় আমরা বিশ্বে ৪১তম। ২০৩৩ সালের মধ্যে ২৪তম হবে বাংলাদেশ। গড়ে ৭ শতাংশ হবে জিডিপি৪। পাশাপাশি আরও কিছু খবর দেখছি। পাঁচ বছরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা৫। বেগুনের দাম কেজিতে দুই টাকা: কৃষক ঋণগ্রস্ত, কোল্ড স্টোরেজ নেই। গত ১২ বছরে ৩৬ হাজার প্রবাসী শ্রমিকের কফিন এসেছেন ঢাকায়। ঋণের বোঝা আর ভয়াবহ মানসিক চাপ বেশির ভাগ মৃত্যুর কারণ৬।
মেগা প্রকল্প আর হারিয়ে যাওয়া মানুষ
দেশে জিডিপির উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে আছে সরকারের মেগা প্রকল্পের ব্যয়। আর একেকটি মেগা প্রকল্পের উত্থানের পেছনে আছে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি হারানো মানুষের একেকটি মেগা দুঃখ-উপাখ্যান। পায়রা বন্দর আর বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে এখন পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজার একর জমি অধিগ্রহণ হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে উচ্ছেদ হবে ২০ হাজার মানুষ৯। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কৃষকের পাকা ধানের খেতে বালু ভরাট করে শত শত মণ ধান নষ্ট করে জমি কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে১০। মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে এলএনজি টার্মিনাল, সমুদ্রবন্দর, আর দুটি কয়লা প্রকল্প মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার একর কৃষিজমি হারিয়েছে কৃষক। দুই প্রকল্পের মাঝখানে আটকে পড়া ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষও উচ্ছেদ-আতঙ্কে আছে১১। রামপাল কয়লা প্ল্যান্টের কারণে প্রায় তিন হাজার সংখ্যালঘু পরিবার১২ জমি হারিয়ে কে কোথায় হারিয়ে গেছে, সেই খবর কে রাখে। এসব এলাকার স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করলেই বোঝা যায়, ক্ষতিপূরণের নামে কী অদ্ভুত প্রহসন চলে এই দেশে১৩। তার ওপর কায়েম হয়েছে ভয় ও ত্রাসের রাজত্ব। রামপাল, পায়রা, মাতারবাড়ী সবখানেই।
মেগা প্রকল্পের খরচ/ঋণ
এই তথ্য এখন কারও অজানা নয় যে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প/মহাসড়কের ব্যয় সারা পৃথিবীর মধ্যে শীর্ষে। ভারতে কিলোমিটারপ্রতি ১০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে চার লেনের নতুন মহাসড়ক। চায়নাতে লাগছে ১৩ কোটি, ইউরোপে ২৮ কোটি১৮। আর এখানে দুই লেনের সড়ক চার লেন করতে গড়ে খরচ পড়ছে ৫৯ কোটি টাকা। ঢাকা-মাওয়া রুটের নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে ৯৫ কোটি টাকা১৯! অর্থাৎ ভারতের প্রায় ৯ গুণ! ইউরোপেরও তিন গুণ। মহাসড়ক বাদে অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির খরচ কয়েক দফায় বেড়ে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি ছাড়িয়ে গেছে২০। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে নির্মাণের খরচ বাংলাদেশের মোট বাজেটের চার ভাগের এক ভাগ! এদিকে এসব প্রকল্পের কারণে জিডিপিতে ঋণের অংশ বাড়ছে। এই মুহূর্তে বাজেটের তিন ভাগের এক ভাগ ঋণ। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু ঋণ ১৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার টাকায়২১।
এসব মহাখরুচে টার্মিনাল, মহাসড়ক আর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবিশ্বাস্য খরচের দায়ভার কে নেবে? কে নেবে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ৫৬ হাজার কোটি টাকা২২ খেলাপি ঋণের দায়? আর কে! আছে তো এক জনগণের পকেট। ১০ বছরে আট দফায় বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। বেড়েছে কৃষকের সেচের খরচ। বেড়েছে ভ্যাট। গ্যাসের দাম ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫০ টাকা। মহাসড়ক আর সেতুগুলোতে একই অবস্থা। বুড়িগঙ্গা, কর্ণফুলী, রূপসা, পাকশী, মেঘনা-গোমতীসহ দেশের মোট ৫১টি সেতুতে বাড়তি টোল আদায় চলছে। কিছু ক্ষেত্রে টোল বেড়েছে ৭০০ ভাগ পর্যন্ত২৩। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফ্লাইওভার তৈরি হয়েছে ঢাকায়২৪, কিন্তু গণপরিবহনের হাল শোচনীয়। আপাতদৃষ্টিতে মধ্য আয়ের দেশে এগুলো সামান্য ব্যয়বৃদ্ধির নমুনা। কিন্তু প্রতিবার শ্রমিক আন্দোলনগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ৭ শতাংশ জিডিপির দেশেও মাত্র কয়েক শ টাকার হেরফেরে কি হাল হয় শ্রমিক পরিবারগুলোর। তাহলে অর্থনীতি ৪১তম হোক বা ২৪ হোক, তাতে মানুষের লাভ কী?
কথিত ক্রসফায়ারে নিহত একরামুলের পরিবারকে চুপ থাকার ‘নির্দেশ’-দৈনিক প্রথম আলো
- গত বছরের ২৬ মে কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন একরামুল
- ফোনে রেকর্ড হয়ে যায় একরামুল নিহত হওয়ার আদ্যোপান্ত
- একরামুলের স্ত্রীর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ
- একরামুলের স্ত্রীর দাবি, হত্যার প্রমাণ মুছে ফেলতেই এই চেষ্টামুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার তথ্য জানা নেই বলছে
- র্যাব
র্যাবের কথিত ক্রসফায়ারের সময় টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হকের ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোনের একটি সচল থেকে গিয়েছিল। সংযুক্ত ছিল অন্য প্রান্তে থাকা স্ত্রী আয়েশা বেগমের মুঠোফোনের সঙ্গে। আর তাতেই রেকর্ড হয়ে যায় হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত। আয়েশার অভিযোগ, সেই মুঠোফোনটি জিম্মায় নিতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি পক্ষ।
গতকাল বুধবার টেকনাফের খালিয়াপাড়ায় একরামুল হকের পৈতৃক বাড়িতে বসে কথা হচ্ছিল একরামুলের বিধবা স্ত্রী আয়েশা বেগমের সঙ্গে।কক্সবাজারের টেকনাফ ও মহেশখালী উপজেলায় পৃথক দুই কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছেন। টেকনাফে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুজন সন্দেহভাজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। আর মহেশখালীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তি ‘শীর্ষ ডাকাত’ বলে দাবি করেছে পুলিশ।
ভিক্ষা করেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন শিশু সুখী!-দৈনিক নয়া দিগন্ত
বই, খাতা ও কলম নয় একটি পুরাতন বাজারের ব্যাগ নিয়ে সকালে বাড়ি থেকে বের হয় শিশু সুখী(৭)। সাথে থাকে ছোট ভাই আমিন উল্লাহ(৫)। কনকনে শীতে ফুটফুটে চেহারায় মলিন জামায় আচ্ছাদিত শিশু সুখী তার ছোট ভাই আমান উল্লাহ।
ছোট ভাইকে নিয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধায় উপজেলার নিজসরাইল সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে কাপাঁ কাপাঁ কন্ঠে শিশু সুখী বলেন মামা কিছু সাহায্য দিবেন? একটি পুরনো বাজারের ব্যাগ হাতে মায়াবী চেহারার শিশু দুটির সাহায্য চাওয়ার ব্যপারটি হঠাৎ হৃদয়কে যেন নাড়িয়ে তুলেছে। কেমন যেন অন্তরে শিশু দুটির প্রতি একটু মায়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের সাথে কথা বলার সময় ডুকরে কেঁদে উঠেন শিশু সুখী।এই প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের নন্দীপাড়ার বাবুর মন্দির এলাকায় তাদের বাড়ি। পিতার নাম জসিম মিয়া এবং মাতার নাম হোসেনা বেগম। অন্যত্র বিয়ে করে ভাই বোনসহ মায়ের কোনো খবর নেন না তাদের পিতা জসিম। অভাব অনটনের সংসারে সুখীসহ তাদের ভাই-বোনের ভরণ-পোষনের একমাত্র অবলম্বন তাদের মা ছাড়া আর কেউ নেই। নানা, নানী, মামা, খালা কেউ না থাকায় নানীর রেখে যাওয়া জায়গায় একটি টিন শেডের ঘরে তাদের বসবাস।সংসারের আর্থিক ব্যয়ভার বহনে মাঠি কেটে প্রতি দিন ২শ টাকা রোজগার করেন তাদের মা। তা দিয়ে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের ভরণ-পোষণ। এই স্বল্প টাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের মায়ের। তাই মায়ের নির্দেশেই বাজারের ব্যাগ নিয়ে প্রতিদিন সাহায্যের জন্য বাড়ি থেকে বের হতে হয় তাদের। দিন শেষে কোন দিন ১ শ টাকা আবার কোনদিন তাও জোগার করা সম্ভব হয় না।
এদের মধ্যে বোন সুমাইয়াকে নিয়ে কিছু দিন পূর্বে সুখী সাহায্য চাইতে গিয়ে প্রিয় বোন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় বলে কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান সুখী। তার পরেও অভাবের তাড়নায় ছোট ভাই আমিন উল্লাহকে নিয়ে আর্থিক সাহায্যের জন্য প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সারাদিন সাহায্যের জন্য কালিকচ্ছ, সরাইলসহ অন্যান্য এলাকায় ঘুরে বেড়ায় সুখী।
দুপুরে পুরী- সিঙ্গারা খেয়েই দিন পার হয় তাদের। সারা দিনে ১শত টাকার মত সাহায্য পেয়ে এশার নামাযের আযানের পরে বাড়ি ফেরেন তারা। লেখা পড়া করতে ইচ্ছে হয় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ঢুকঁরে কেদেঁ সুখী জানান, লেখা পড়া করতে খুব ইচ্ছে হয়। লেখা-পড়া করে ডাক্তার হতে চাই।
বেচেঁ থাকার লড়াইয়ে আলু আর পাঙ্গাস কিনতে পুরাতন বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে সাহায্যের ঘূর্নিপাকে পরা অবুঝ শিশু সুখীর ডাক্তার হবার স্বপ্ন আদৌ পূরণ হবে কি? সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে এলেই এই সুখীদের হাতে ভিক্ষার থলির পরিবর্তে উঠে আসতে পারে শিক্ষার বই। আর তাতেই ধীরে ধীরে পূরণ হতে পারে সুখীদের ডাক্তার হওয়ার সেই স্বপ্ন।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
প্রধানমন্ত্রী পদে রাহুলকেই সমর্থন, চার দিনেই পছন্দ বদল কুমারস্বামীর-দৈনিক আনন্দবাজার
চার দিনের মধ্যেই পছন্দ বদলে ফেললেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী জেডিএস নেতা এইচ ডি কুমারস্বামী। বললেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ও তাঁর দলের পছন্দ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। শনিবার কলকাতায় ব্রিগেডের জনসভার পর কুমারস্বামী বলেছিলেন, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সব গুণই রয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
কর্নাটকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার চালাচ্ছেন কুমারস্বামী। বুধবার কুমারস্বামী বলেন, ‘‘এটা আমাদের দলের সিদ্ধান্ত যে আমরা প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন করব রাহুল গাঁধীকে। এ ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর এটাই আমরা করব।’’ তিনি জানান, তাঁর বাবা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়াও সেটাই চাইছেন। তবে গত শনিবার ব্রিগেডে ২৩টি বিরোধী দলের সমাবেশে কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর পছন্দ বলে জানিয়েছিলেন তিনি?
ব্যালট পেপার নয়, ভোট হবে ইভিএমেই: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-দৈনিক আজকাল
বেশ কয়েকমাস ধরেই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনার দাবিতে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। কলকাতায় মহাজোটের সমাবেশেও একই প্রশ্ন তুলেছিলেন একাধিক নেতা। এমনকি, ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের সময় ইভিএম হ্যাক করা হয়েছিল বলে সম্প্রতি দাবি করেছিলেন এক হ্যাকার। তবে এত কিছুর পরেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বৃহস্পতিবার জানালেন ব্যালট পেপার নয়, ভোট হবে ইভিএমেই। মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার সুনীল অরোরাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ‘আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিতে চাই, কোনওভাবেই আর পুরনো ব্যালট পেপারকে ফিরিয়ে আনা হবে না। আমরা ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট–ই ব্যবহার করব। কারোর কোনও অভিযোগ থাকলে, তাঁরা সেটা অবশ্যই আমাদের জানাতে পারেন। কিন্তু এর পাশাপাশি একটা জিনিস পরিষ্কার করে দিতে চাই, কোনওভাবেই ইভিএম মেশিন বাদ দিয়ে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ করা হবে না।
মোদির বিরুদ্ধে বারাণসীতে প্রার্থী হতে পারেন প্রিয়াঙ্কা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সক্রিয় রাজনীতিতে এলেন। এটা ছিল বুধবার কংগ্রেসের প্রথম চমক। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই এল দ্বিতীয় চমক। যখন প্রদেশের কংগ্রেসের শীর্ষ দুই নেতা জোর গলায় দাবি করলেন, এবার বারাণসীতে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সে ব্যাপারে নাকি পরিকল্পনাও সেরে ফেলেছে কংগ্রেস হাইকমান্ড।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই নেতার দাবি, উত্তরপ্রদেশে নানা কারণে এখন বিজেপি বিরোধী তথা প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া প্রবল। প্রিয়াঙ্কা যদি কোনওভাবে মোদিকে হারিয়ে দিতে পারেন তাহলে ইতিহাসের পাতায় জায়গা পাবেন ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসাবে। তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। আর যদি হেরে যান (স্বল্প বা বড় ব্যবধানে) তাহলেও কংগ্রেস বা গান্ধী পরিবারের হারানোর কিছু নেই। সবাই বলবেন ‘রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতার’ কারণে ‘লড়াই করে’ হেরে গিয়েছেন ‘হেভিওয়েট’ মোদির কাছে। এতে প্রিয়াঙ্কার রাজনৈতিক কেরিয়ারে তেমন কোনও ক্ষতি হবে না।
গগৈর পর বিচারপতি সিক্রিও সরে দাঁড়ালেন নাগেশ্বর রাও মামলা থেকে-দৈনিক আনন্দবাজার
প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর পর এ বার সুপ্রিম কোর্টে নাগেশ্বর রাও মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি এ কে সিক্রি। এম নাগেশ্বর রাওকে সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান করার সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গত সপ্তাহে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে। শুনানির আগের দিন সেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান দেশের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তার পর মামলাটি যায় বিচারপতি সিক্রির এজলাসে।
সরে দাঁড়ানোর জন্য দু’টি কারণ দেখিয়েছেন বিচারপতি সিক্রি। একটি, ‘ব্যক্তিগত কারণ’। এও বলেছেন, ‘‘এটা এই মামলার শুনানির সঠিক সময় নয়।’’ সিবিআইয়ের পরবর্তী প্রধান কে হবেন, তা ঠিক করতে বৃহস্পতিবারই বৈঠকে বসার কথা তিন সদস্যের নির্বাচক কমিটির। যে কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৪