ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯ ১২:৫০ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২০ ফেব্রয়ারি বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম

  • যুক্ত হলো আরেকটি স্প্যান, ১২শ মিটারে পদ্মা সেতু-দৈনিক ইত্তেফাক
  • একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত: নজরুল-দৈনিক প্রথম আলো
  • ওসি মোস্তফা কামালের সম্পদের পাহাড়- দৈনিক যুগান্তর
  • হাসিনার প্রশ্ন, ভারতের নাগরিকত্ব বিল কেন?-দৈনিক মানবজমিন
  • গ্যাস নিয়ে বহুমুখী সঙ্কট- দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • মাসুদ আজহার–হাফিজ সইদকে প্রকাশ্যে আসতে নিষেধ পাক সেনার-দৈনিক আজকাল
  • উত্তেজনা কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ করুক ভারত-পাকিস্তান, আহ্বান রাষ্ট্রপুঞ্জের-দৈনিক আনন্দবাজার
  • আদালত অবমাননায় দোষী অনিল আম্বানি, ৪৫৩ কোটি টাকা জরিমানার নির্দেশ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২২ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন আপনি?

২. ‘সৌদিকে তড়িঘড়ি স্পর্শকাতর পরমাণু প্রযুক্তির যোগান দিচ্ছে আমেরিকা’- মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ এ তথ্য দিয়েছে। আমেরিকার এই পদক্ষেপ কেন?

একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত: নজরুল-দৈনিক প্রথম আলো

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার দাবি যুক্তিসংগত। তিনি আরও বলেন, যারা গণতন্ত্র হত্যা করেছে, তারাও আজ পর্যন্ত জনগণের কাছে ক্ষমা চায়নি।

আজ বুধবার রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান এই মন্তব্য করেন। তাঁতি দলের ৩৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির নেতা-কর্মীরা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।

১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের ভেতর থেকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি উঠেছে—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই দাবি তো সবার। জামায়াত স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। এ জন্য তাদের দুঃখ, লজ্জা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। এটা যেমন যুক্তিসংগত দাবি, তেমনি আরও যুক্তিসংগত দাবি আছে। স্বাধীনতার বিরোধিতা যারা করেছে, অবশ্যই তাদের শাস্তি ও বিচার চাই।

ওসি মোস্তফা কামালের সম্পদের পাহাড়-দৈনিক যুগান্তর

ওসি মোস্তফা কামাল

সাভারে দেড় কোটি টাকায় কিনেছেন ১৫ কাঠা জমি * আশুলিয়ার কাঁইচাবাড়িতে কোটি টাকায় কেনা জমিতে বাড়ি করে ভাড়া * নবাবগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও মুকসুদপুরে সাধারণ মানুষের দাবি- সঠিক তদন্ত হলে মিলবে আরও গোপন সম্পদ

ঢাকার নবাবগঞ্জের সর্বত্রই এখন আলোচনার বিষয় ওসি মোস্তফা কামাল। প্রায় দুই বছর ৭ মাস পার হলেও একই থানায় আছেন বহাল তবিয়তে। তার অবৈধ সম্পদের হিসাব দাবি করেছেন নবাবগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও মুকসুদপুরের সাধারণ মানুষ।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে অবৈধ সম্পদের নানান চমকপ্রদ তথ্য। তারা দাবি করেন, সঠিক তদন্ত করলে মিলবে আরও গোপন সম্পদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মন্তব্য- সঠিক তদন্ত করলে ওসি মোস্তফা কামালের থলে থেকে আরও বিড়াল (অবৈধ সম্পদ) বেরিয়ে আসবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওসি মোস্তফা কামাল সাভার থানায় থাকাকালে সেখানেও তিনি অবৈধ অর্থ উপার্জনের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ২০০০ সালে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদান করেই তিনি পুলিশের পোশাককে অবৈধ অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন। তার এমন কর্মকাণ্ড পুলিশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করেন ঢাকা জেলার একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করে যুগান্তরকে বলেন, ওসি কামালের দাপটে অনেকে নীরবে চোখের জল ফেলেছে। দুদকের উচিত তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করে বিচারের আওতায় আনা। সাধারণ একজন পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি করে এত অর্থবিত্তের মালিক হলেন কী করে, তা বোধগম্য নয়।

পুলিশের ওসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোস্তফা কামাল দু’হাতে টাকা উপার্জন করেন। তার অবৈধ উপার্জনের পরিমাণ প্রায় শতকোটি টাকা বলে ধারণা করছি।

সরকারি দলের একজন সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রীর (গোপালগঞ্জের) দোহাই দিয়েই তিনি সব অপকর্ম জায়েজ করে নিচ্ছেন। ওসি মোস্তফা কামালের বেতন স্কেল ৩৫ থেকে ৪২ হাজারের মধ্যে। অথচ তিনি ও তার পরিবার ঢাকা শহরে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দামি গাড়িতেও।

মঙ্গলবার ওসি কামালের অবৈধ সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর, ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ফোন করে যুগান্তরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। অনুসন্ধান করে তার অবৈধ সম্পদের তথ্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার জন্যও তারা অনুরোধ জানান।

হাসিনার প্রশ্ন, ভারতের নাগরিকত্ব বিল কেন?-দৈনিক মানবজমিন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ভারতে নাগরিকত্ব বিষয়ক সংশোধিত বিলের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ভারতে নাগরিকত্ব বিল কি নির্বাচনী তৎপরতা? এ বিলের অভিপ্রায় কি সে সম্পর্কে তিনি বুঝতে পারেন না বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবিতে গালফ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন বিনসাল আবদুল কাদের ও সমিহা জামান। এরই মধ্যে ভারতের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ এই বিলটি পাস করেছে। তবে উচ্চকক্ষে গিয়ে তা বাতিল হয়ে গেছে। এ নিয়ে জানতে চাওয়া হয় শেখ হাসিনার কাছে। তিনি উত্তরে বলেন, কেন এই বিল, আমি বুঝতে পারি না।

যুক্ত হলো আরেকটি স্প্যান, ১২শ মিটারে পদ্মা সেতু-দৈনিক ইত্তেফাক

পদ্মা সেতুতে যুক্ত হলো আরেকটি স্প্যান

পদ্মা সেতুতে যুক্ত হলো আরো একটি স্প্যান। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে জাজিরা প্রান্তের ৩৫ ও ৩৬ নম্বর খুঁটির ওপর ধূসর রঙের ‘৬ই’ নম্বর এই স্প্যানটি বসিয়ে দেয়া হয়। এই নিয়ে জাজিরা অংশে সেতুটি দৃশ্যমান হলো ১০৫০ মিটার। এ ছাড়া মাওয়া প্রান্তে আরো দৃশ্যমান রয়েছে ১৫০ মিটার।

ইতোপূর্বে ৭টি স্প্যান বসানোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সকাল থেকে স্প্যানটি বসানোর কাজ শুরু হয়। স্প্যান বহনকারী ক্রেনটিকে পিলারের ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের পজিশন অনুযায়ী রাখা হয়। এরপর লিফটিং ক্রেনের সাহায্যে রাখা হয় পিলারের ওপর। দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় জটিলতা ছাড়াই সফলভাবে বসানো হয় ‘৬ই’ নম্বর স্প্যানটি। এছাড়া আগামী ১০ মার্চের মধ্যে জাজিরা প্রান্তে ৩৪ ও ৩৫ নম্বর খুঁটির ওপর ৬-ডি নামের আরেকটি স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে।

এদিকে পদ্মায় এখন নেই তীব্র স্রোত, কেটে গেছে নকশা জটিলতা। সময়টা অনুকূল, আর সেটাকে কাজে লাগিয়ে নদী জুড়ে এখন চলছে কাজ। এর আগে জাজিরা প্রান্তে ৬টি ও মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে অস্থায়ীভাবে একটি স্প্যান বসানো হয়।

পদ্মা সেতুর এক প্রকৌশলী জানান, সেতুর সব খুঁটির নকশা সম্পন্ন হওয়ায় এখন সেতুটি দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাপ দেয়া হয়েছে। তারা যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করেন। সবকিছু ঠিক থাকলে সেতুর উপর দিয়ে ২০২০ সালে যান চলাচল হচ্ছে।

গ্যাস নিয়ে বহুমুখী সঙ্কট-দৈনিক নয়া দিগন্ত

গ্যাস

গ্যাসের চাহিদা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। কিন্তু মজুদ বাড়ছে না। নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হওয়ায় গ্যাসের বিদ্যমান মজুদও ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে চাহিদা মেটাতে উচ্চমূল্যের জ্বালানি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে গ্যাসের গড় দাম। বেশি দামে আমদানি করে কম মূল্যে বিক্রি করায় ভর্তুকিও বেড়ে যাচ্ছে। এ ভর্তুকি কমাতে হলে গ্যাসের মূল্য বিদ্যমান দামের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়াতে হবে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে সামনে পুরোপুরি উচ্চমূল্যের জ্বালানিনির্ভর হয়ে পড়বে দেশ। বিদ্যুতের উৎপাদনব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দাম বেড়ে যাবে সার ও অন্যান্য শিল্পজাত পণ্যের। বাড়বে সব ধরনের পণ্যের উৎপাদনব্যয়। ফলে দেশের শিল্পখাত অচলাবস্থায় পড়ে যাবে। এমনি পরিস্থিতিতে গ্যাস নিয়ে এই বহুমুখী সঙ্কট মেটাতে অভ্যন্তরীণ গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

জানা গেছে, নতুন উৎপাদন না বাড়ানো পর্যন্ত ২০০৯ সাল থেকে আবাসিক ও শিল্পে গ্যাসসংযোগ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সীমিতভাবে কোনো কোনো সময় সংযোগ চালু করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি অব্যাহত রাখা হয়নি। এর পরেও গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে গ্যাসের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ঘাটতি ছিল ৫০ কোটি ঘনফুট। এখন সরকারি হিসেবেই এ ঘাটতি ১০০ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়ে গেছে। পেট্রোবাংলার গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পরিসংখ্যান মতে ‘শিল্প, আবাসিক ও পরিবহন বাদে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায়ই চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে ১২১ কোটি ঘনফুট।’ যেমন : ওইদিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের চাহিদা ছিল প্রায় ২১০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ করা হয় ১১২ কোটি ঘনফুট। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ছিল ৯৮ কোটি ঘনফুট। আর সার কারখানাগুলোতে ওইদিন গ্যাসের চাহিদা ছিল প্রায় ৩২ কোটি ঘনফুট। কিন্তু ওইদিন সরবরাহ করা হয় ১৮ কোটি ঘনফুট। ওইদিন সার কারখানাগুলোতে চাহিদার চেয়ে ১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ করা হয়। শিল্প ও আবাসিকে গ্যাসসংযোগ উন্মুক্ত করে দিলে এ ঘাটতি আরো বেড়ে যেতো। 

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

আদালত অবমাননায় দোষী অনিল আম্বানি, ৪৫৩ কোটি টাকা জরিমানার নির্দেশ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

অনিল আম্বানি

রাফালে বিতর্কে নতুন করে বিপাকে অনিল আম্বানি এবং তাঁর সংস্থা রিলায়েন্স কমিউনিকেশন। আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন রিলায়েন্স গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার। তাঁকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে ৪৫৩ কোটি টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত। এই সময়ের মধ্যে টাকা শোধ না দিলে জেলের ঘানি টানতে হবে আম্বানিকে। অনিল আম্বানির সঙ্গে রিলায়েন্সের আরও দুই ডিরেক্টর দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আর-কমের দুই সহযোগী সংস্থাকেও ১ কোটি টাকা করে জরিমানা দিতে হবে।

এরিকসন ইন্ডিয়া আম্বানির বিরুদ্ধে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার একটি মানহানির মামলা করে। সেই মামলায় রিলায়েন্সের হয়ে সওয়াল করেছেন প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি এবং কপিল সিব্বল। দুই নামজাদা আইনজীবী মামলা লড়লেও লাভ হয়নি। এরিকসন ইন্ডিয়ার টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় রিলায়েন্স কমিউনিকেশনকে। কিন্তু শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশ মানেনি অনিল আম্বানির সংস্থা। যার জেরে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। আগামী এক মাসের মধ্যে তাঁকে এরিকসন ইন্ডিয়াকে ৪৫৩ কোটি টাকা দিতে হবে জরিমানা হিসেবে। সেই সঙ্গে এরিকসন ইন্ডিয়ার প্রাপ্য টাকার ১১৮ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ৪ সপ্তাহের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে ৩ মাস জেলে থাকতে হতে পারে আম্বানিকে। রিলায়েন্সের দুই সহকারী সংস্থাকে জরিমানা দিতে হবে ১ কোটি টাকা করে। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, রিলায়েন্স কমিউনিকেশন ইচ্ছে করে এরিকসন ইন্ডিয়াকে তাদের প্রাপ্য ৫৫০ কোটি টাকা দিচ্ছিল না।

এদিকে, এই মামলায় আম্বানির পরাজয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। আম্বানির সংস্থাকে রাফালের বরাত দেওয়া নিয়ে আগে থেকেই মোদি সরকারকে আক্রমণ শানাচ্ছিল কংগ্রেস। এবার কংগ্রেস নেতারা বলতে শুরু করেছেন, যে সংস্থা ইচ্ছে করে ঋণ শোধ করে না, সেই সংস্থার উপর রাফালের মতো যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত? 

উত্তেজনা কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ করুক ভারত-পাকিস্তান, আহ্বান রাষ্ট্রপুঞ্জের-দৈনিক আনন্দবাজার

তারা চাইলে রাষ্ট্রপুঞ্জ মধ্যস্থতা করবে। ভারত ও পাকিস্তানকে  মঙ্গলবার এমন বার্তাই দিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

পুলওয়ামা হামলা পর ভারত ও পাকিস্তানে যে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে, হুমকি-পাল্টা হুমকির পালা চলছে তাতে দু’দেশেই একটা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গুতেরেসের তাই আহ্বান, এই উত্তেজনা কমাতে দু’দেশই যেন দ্রুত পদক্ষেপ করে। ওই দিন সাংবাদিক বৈঠক করে রাষ্ট্রপুঞ্জ প্রধানের মুখপাত্র স্টেফানি ডুয়ারিচ বলেন, “সেক্রেটারি জেনারেল ভারত-পাকিস্তান দু’দেশকেই সংযত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। যদি এ বিষয়ে কোনও সহযোগিতা চায় তারা, তা দিতেও প্রস্তুত রাষ্ট্রপুঞ্জ।” ডুয়ারিচ আরও বলেন, “পুলওয়ামা হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার যে আবহ তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় পাক মদতে পুষ্ট জইশ জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলায় ৪০ জন জওয়ান নিহত হন।

মাসুদ আজহার–হাফিজ সইদকে প্রকাশ্যে আসতে নিষেধ পাক সেনার-দৈনিক আজকাল

ঘরে–বাইরে এখন প্রচণ্ড চাপে রয়েছে পাকিস্তান। কারণ পুলওয়ামায় হামলা চালিয়ে মোট ৪৯ জন সিআরপিএফ জওয়ানকে খুন করেছে তারা। যার দায় স্বীকার করেছিল জৈশ–ই–মহম্মদ জঙ্গি গোষ্ঠী। এই জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রধান মাসুদ আজহার। ২৬/‌১১ হামলার মাস্টারমাইন্ড হল হাফিজ সইদ। তাই পাকিস্তান সেনা তাদের এখন বেশকিছুদিন প্রকাশ্যে আসা থেকে একটু দূরে থাকতে বলেছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি তকমা পাওয়া এই দুই জঙ্গিকে এখন প্রকাশ্য সভা–সমাবেশেও আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে সব সভা–সমাবেশে নয়।

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২০