কথাবার্তা: করোনা আতঙ্ক-ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ!
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৮ মার্চ বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- করোনায় বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু: আইইডিসিআর -দৈনিক প্রথম আলো
- ঢাকা মেডিক্যালের চার চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টিনে-দৈনিক ইত্তেফাক
- করোনা আতঙ্ক- ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ-দৈনিক মানবজমিন
- যারা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছতে চেয়েছিল তারা নিশ্চিহ্নের পথে: ওবায়দুল কাদের-দৈনিক যুগান্তর
- করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশকে যেসব পদক্ষেপ নিতে বলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-দৈনিক যুগান্তর
- করোনা চিকিৎসায় যত টাকা প্রয়োজন দিতে প্রস্তুত সরকার : অর্থমন্ত্রী-বাংলাদেশ প্রতিদিন
- করোনায় যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রে ২৭ লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা-দৈনিক সমকাল
ভারতের শিরোনাম:
- হোম আইসোলেশনে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী, দেশে আক্রান্ত বেড়ে ১৪৭ -দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- করোনায় পরোয়া নেই, অযোধ্যায় রামনবমীতে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েতের সম্ভাবনা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- ‘গোমূত্র পানে কোনও ক্ষতি নেই, আমিও খেয়েছি’, করোনা তাড়াতে গোমূত্রের পক্ষে সওয়াল দিলীপের-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. বাংলাদেশে আরো করোনা রোগী শণাক্ত হয়েছে এবং সংখ্যাটা ধীরে হলেও বাড়ছে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জামাদি পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই বলে গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে। কী বলবেন আপনি?
২. করোনাভাইরাসের মহামারিতে সারা বিশ্ব যখন মারাত্মকভাবে সংক্রমিত তখন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা। কীভাবে দেখছেন এ ঘটনাকে?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কযেকটি খবর:
করোনাভাইরাস সম্পর্কিত আপডেট খবরে দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনাম- করোনায় বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু: আইইডিসিআর
এ খবরে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। দেশে এই প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলো।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা আজ বুধবার বিকেলে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন। আইইডিসিআরর বেলা সাড়ে তিনটায় এই সংবাদ ব্রিফিং হয়।
মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তি পুরুষ। তাঁর বয়স ৭০ বছর। মারা যাওয়া ব্যক্তি বিদেশ থেকে আসা ও সংক্রমিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানান আইইডিসিআর পরিচালক। মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, ওই ব্যক্তি (মারা যাওয়া) উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি তাঁর হার্টে স্টেন্ট পরানো ছিল।
করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশকে যেসব পদক্ষেপ নিতে বলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-দৈনিক যুগান্তর
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে করোনাভাইরাস মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ভয়াবহ সেই পরিস্থিতি ঠেকাতে সীমান্ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণজমায়েত বন্ধ করে দেয়াসহ দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলেছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ড. পুনাম ক্ষেত্রপাল সিং এসব কথা বলেন। বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও উত্তর কোরিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশের প্রায় সবগুলোতেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এসব দেশের সরকারগুলোকে।
করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর-দৈনিক মানবজমিন
দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তবে দেশের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালও পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে তার দাবি।আজ দুপুরে বিএসএমএমইউতে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ জ্বর সর্দিতে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা না মেলার তথ্য সঠিক নয়। সরকার হোম কোয়ারেন্টিনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যে কোন ধরনের সভা-সমাবেশ ও জমায়েত সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে যারা বিদেশ থেকে আসছেন তারা হোম কোয়ারেন্টিন মানছে না।এ ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
করোনাভাইরাস: পরীক্ষার অভাবে বাড়বে বিপদ-দৈনিক প্রথম আলো। যুগান্তরে লেখা হয়েছে, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনে শাট ডাউন’করা হবে বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের শনাক্ত করতে অনেক দেশই যথেষ্ট পরীক্ষা করছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ উদ্বেগ হচ্ছে এটাই। সংস্থাটির মহাপরিচালক গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলেছেন, ‘সব দেশের প্রতি আমাদের বলার বিষয় হচ্ছে “পরীক্ষা, পরীক্ষা, পরীক্ষা”।’ মানে করোনা আক্রান্ত হিসেবে কাউকে সন্দেহ হলে প্রথম কাজ হলো পরীক্ষা করানো। ডব্লিউএইচও কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি। কিন্তু এই বার্তা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশের জনঘনত্ব ও এখানকার মানুষের জীবনযাপনের ধরন বিবেচনায় নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞই বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
এ অবস্থায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষায় আমাদের কার্যক্রম কি সন্তোষজনক?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলার মূল পথ হচ্ছে সংক্রমণ শনাক্ত করা, তাদের বিচ্ছিন্ন করা এবং সংক্রমিতরা কাদের সংস্পর্শে এসেছে, তাদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টিনে রাখা। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষার একক ও একমাত্র কর্তৃত্ব রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। আর কাউকে এ পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ১৭ কোটি লোকের এই দেশে কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা গেলে এই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কিছু ফোন নম্বরে ফোন করতে হবে। তারপর তারা কিছু প্রশ্ন করে সন্তুষ্ট হলে তাকে পরীক্ষা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় গত মঙ্গলবারের প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী ২৬৮ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে।
করোনাভাইরাস পরীক্ষার একক কর্তৃত্ব আইইডিসিআরের হাতে রাখা বা আর কাউকে তা করতে না দেওয়া কতটা যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত? কেন এই রক্ষণশীল কৌশল? আইইডিসিআরের হটলাইনে ফোন করলে মূলত দুটি প্রশ্ন করা হয়; সম্ভাব্য আক্রান্ত ব্যক্তি বিদেশ থেকে এসেছেন কি না। দ্বিতীয়ত, বিদেশ থেকে আসা কারও সংস্পর্শে এসেছেন কি না। এর ওপর ভিত্তি করেই পরীক্ষা করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুধু এসব প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিতে গেলে নিশ্চিতভাবেই বিপদে পড়তে হবে। এখন যাঁরা সংক্রমিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রবাসীদের সংস্পর্শে আসা স্থানীয় ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাঁরা সংক্রমিত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আগে স্থানীয় আরও কতজনকে সংক্রমিত করে গেছেন, তা কিন্তু অজানা থেকে যাচ্ছে। ফলে সরাসরি প্রবাসী বা বিদেশ থেকে আসা কারও সংস্পর্শে না এসেও অনেকে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। সেদিন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে সন্দেহভাজন করোনা সংক্রমিত যে ব্যক্তি পালিয়ে গেলেন, তাঁর হদিস পাওয়া গেছে কি না আমরা এখনো জানি না। যদি তিনি সত্যিই করোনা সংক্রমিত হয়ে থাকেন, তাহলে এরই মধ্যে কতজনকে তিনি সংক্রমিত করেছেন, কে জানে! দৈনিকটির অন্য একটি শিরোনামে লেখা হয়েছে, করোনাভাইরাস: সংক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতি কি যথেষ্ট
ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ-দৈনিক মানবজমিনের প্রতিবেদন
চারদিকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক। দেশে দেশে করোনার ত্রাস। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব সবচেয়ে বড় সঙ্কটের মুখোমুখি। লক ডাউন শহরের পর শহর। বড় বড় মেগাসিটিগুলো মানুষশূন্য। বাংলাদেশেও করোনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি ১০ জন করোনা আক্রান্তের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দু’ সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, আরো ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। বলা হচ্ছে, করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতিতে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।
এই যখন অবস্থা তখন অনেক মানুষই ঢাকা ছাড়ছেন। গত দুই/তিন দিনে রেলওয়ে স্টেশন ও বাস স্ট্যান্ডে বহু মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে অনেক শিক্ষার্থী এরই মধ্যে ঢাকা ছেড়েছেন। এই সুযোগে বাসগুলো ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। হানিফ পরিবহনের একজন কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণার পর যাত্রীসংখ্যা বেশ বেড়েছে। তবে ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। আরেকটি পরিবহনের কর্মকর্তা বলেন, গত এক সপ্তায় প্রায় অর্ধেক যাত্রী কমে গিয়েছিল। কিন্তু সোমবার থেকে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনেও যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। ফেরিতেও গাড়ির চাপ ছিল বেশি।
ওদিকে, মঙ্গলবার ছুটির দিনে রাজধানীর রাস্তা-ঘাট ছিল বেশ ফাঁকা। বুধবার অফিস-আদালত খোলা থাকলেও আগের মতো মানুষ ছিলেন না রাস্তায়।
করোনা সম্পর্কিত অন্যান্যা খবর: যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ রাজ্যেই করোনা সংক্রমণ। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের সবকটিতেই করোনা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। বেড়েছে মৃতের সংখ্যা। সর্বশেষ ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতে করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গভর্নর জিম জাস্টিস প্রথম করোনা আক্রান্তের বিষয়ে বলেছেন, আমরা জানতাম এই রোগ আসছে। সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার মতো একই রকম লকডাউনের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে নিউ ইয়র্ক সিটিতে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মারা গেছেন ১০৮ জন। আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৩০০।
মারা যেতে পারেন ২৬০০০০ এ কোন লন্ডন! মানবজমিন
এ কোন লন্ডন! চিরচেনা লন্ডনের রাতের চিত্র বা দিনের চিত্র দেখে যে কেউ থমকে যাবেন। পুরো অচেনা এক নগরীর রূপ নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত নগরীর অন্যতম লন্ডন। চারদিকে খাঁ খাঁ। রাজপথ, হোটেল, রেস্তরাঁ, পাব সব শূন্য। মনে হতে পারে প্রাচীন কোনো নগরী। আগে এখানে মানুষের বসবাস ছিল। এখন নিস্তব্ধ চারদিক। কোথাও জনমানুষের দেখা নেই।
ভৌতিক পরিবেশ। রাস্তায় কেউ বেরুলে এমন লন্ডনকে দেখে গা-শিউরে উঠবেন- কোথায় এসে পৌঁছালাম। থিয়েটার জনশূন্য, পাব-এরও একই অবস্থা। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জনসাধারণকে ঘরের ভেতর অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, ১২ সপ্তাহ সামাজিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে। এ সময়ে ঘরে বসেই কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, সব অপ্রয়োজনীয় কাজ বন্ধ রাখতে। এড়িয়ে চলতে বলেছেন অত্যাবশ্যকীয় না হলে ভ্রমণ। সোমবার রাতে এমন পদক্ষেপকে ‘ড্রাকোনিয়ান’ বা কঠোর বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তবে বলেছেন, জীবন রক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি সোমবার রাতে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর মানুষে মানুষে উপচে পড়া লন্ডনের রাজপথ দেখা যায় জনশূন্য। লন্ডনে খুব ব্যস্ত চায়না টাউনের রাস্তা দেখে গা-শিউরে ওঠে। এখানেই মানুষের গায়ে গায়ে ধাক্কা লাগতো। সেখানে হঠাৎ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছেন দু’একজন মানুষ। ওয়েস্ট এন্ডে ভীষণ ব্যস্ত থাকতো পাবগুলো। তা এখন খাঁ খাঁ করছে। লন্ডনের এ খবর দিয়েছে সেখানকার অনলাইন ডেইলি মেইল। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, করোনা ভাইরাস এখন বৃটেনে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এ জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
পরিবহনমন্ত্রী গ্রান্ট শেপস বলেছেন, গত সপ্তাহে ট্রেনের যাত্রী কমে গেছে এক পঞ্চমাংশ। করোনা ভাইরাসের কারণে এমন অবস্থা হয়েছে। যদি অবিলম্বে নাটকীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে এই ভাইরাসে মারা যেতে পারেন দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ- মন্ত্রীদের এ বিষয়ে সতর্কতা দেয়ার পরে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতে সরকারি পর্যায়ের যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, যদি সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে বৃটেনে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজারের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
যারা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছতে চেয়েছিল তারা নিশ্চিহ্নের পথে: ওবায়দুল কাদের-দৈনিক যুগান্তর
যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের নাম মুছে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পরে যারা জাতির পিতার নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের নাম একদিন মুছে যাবে। তারা আজ নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। আরও এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে এসে আমরা নতুন করে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা কায়েম করবই।
দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সহযোগিতা কামনা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে হবে। মুজিববর্ষে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা আজ নতুন করে শপথ নিচ্ছি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
হোম আইসোলেশনে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী, দেশে আক্রান্ত বেড়ে ১৪৭-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
নোভেল করোনাভাইরাসের জেরে গোটা বিশ্বের মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ছুঁইছুঁই। এমন পরিস্থিতিতে ভারতেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত ভারতে মোট কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ১৪৭। এ দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে, মোট আক্রান্তের মধ্যে ২৫ জন বিদেশি নাগরিক। নোভেল করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত এ দেশে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি সুস্থও হয়ে উঠেছেন ১৪ জন। মহারাষ্ট্র, কেরল-সহ দেশের একাধিক রাজ্যে করোনার প্রকোপ দেখা দিলেও, এত দিন বাংলা সুরক্ষিতই ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার লন্ডনফেরত এক যুবকের শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাস ধরা পডে়ছে। এ ছাড়াও কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে আরও ১৮ জনকে। দেশের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মহারাষ্ট্রেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখনও পর্যন্ত সেখানে ৪১ জন কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কেরল। সেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৭। উত্তরপ্রদেশে ১৬ জন কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকি করোনা কবল থেকে রক্ষা পায়নি ভারতীয় সেনাবাহিনীও।
করোনায় পরোয়া নেই, অযোধ্যায় রামনবমীতে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েতের সম্ভাবনা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
করোনা আতঙ্কে বড় জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র। বেশ কিছু শহরে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। তাতে কী! ধর্ম তো আলাদা। তাই করোনাকে পরোয়া না করেই রামনবমীতে অযোধ্যায় (Ayodhya) জমায়েত হতে চলেছেন লক্ষাধিক মানুষ। যা নিয়ে আশঙ্কায় চিকিৎসকরা। অযোধ্যার জেলা প্রশাসনিক আধিকারিকরাও রীতিমতো উদ্বিগ্ন।
করোনার জেরে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ধর্মস্থান বন্ধ করা হয়েছে। তালিকায় আছে সিদ্ধি বিনায়ক মন্দিরের মতো জায়গা। বড় জমায়েত এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের বিক্ষোভ সমাবেশগুলি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকী, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের কেউই হোলিতে জমায়েত করেননি। অথচ, যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ সরকার রামনবমীর (Rama Navami) মেলাতে কোনওরকম নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। উলটে প্রশাসনের তরফে আয়োজকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। অযোধ্যার জেলা মেডিক্যাল অফিসার মেলার বিরোধিতা করায় তাঁকে উপরমহল থেকে ভর্ৎসনা করা হয় বলেও সূত্রের খবর।
‘গোমূত্র পানে কোনও ক্ষতি নেই, আমিও খেয়েছি’, করোনা তাড়াতে গোমূত্রের পক্ষে সওয়াল দিলীপের
‘গোমূত্র পানে কোনও ক্ষতি নেই, আমিও গোমূত্র খেয়েছি।’ ফের করোনা তাড়াতে গোমূত্র পানের পক্ষে সওয়াল করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। গোমূত্র করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক, এই বিশ্বাসে সোমবার উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকায় গোমূত্র পানের একটি কর্মসূচি আয়োজন করেন উত্তর কলকাতার এক বিজেপি নেতা। সেই ঘটনা ঘিরে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। বিষয়টি নিয়ে যখন নানা কথা উঠে আসছে ঠিক সেই সময়েই গোমূত্রের পক্ষে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘গোমূত্র পানে কোনও ক্ষতি নেই। যুগে যুগে আমাদের দেশের লোকেরা গোমূত্র পান করেছে। তাঁরা সবাই সুস্থ রয়েছেন। আমিও গোমূত্র খেয়েছি। প্রয়োজনে আবার খাব। এতে সমস্যার কিছু নেই।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৮