কথাবার্তা: নিউইয়র্ক সিটি যেন মৃত্যুপুরী, শুধু লাশ গোণা চলছে
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৮ এপ্রিল শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- সন্দেহভাজন অনেকে পরীক্ষার বাইরে-দৈনিক প্রথম আলো
- করোনা: উহানের ল্যাব নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক -দৈনিক ইত্তেফাক
- করোনা মোকাবিলায় ‘জাতীয় টাস্ক ফোর্স’ গঠনের দাবি ফখরুলের-দৈনিক ইত্তেফাক
- করোনার ভয়াল থাবা-ভাসমান মানুষেরা কোথায় আছে, কি খাচ্ছে-দৈনিক মানবজমিন
- করোনায় মারা গেল আরও ৯ জন, নতুন আক্রান্ত ৩০৬
- জনগণের জীবন নিয়ে জুয়া খেলবেন না: রিজভী -দৈনিক যুগান্তর
- দেশে ১০০ চিকিৎসক, ৫৭ নার্স ও ৫৮ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত -বাংলাদেশ প্রতিদিন
- লকডাউন উপেক্ষা করে জানাযায় অর্ধলক্ষাধিক মুসল্লি -দৈনিক সমকাল
ভারতের শিরোনাম:
- দেশে করোনায় মৃত বেড়ে ৪৮০ জন, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত আরও ৯৯১-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- লকডাউনের দ্বিতীয় পর্বে আরও কড়াকড়ি রাজ্যে, নামল কমব্যাট ফোর্স -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- লকডাউনে খেতে না পেয়ে গলায় দড়ি দিলেন বিহারের শ্রমিক! স্ত্রী বলছেন, ‘আর ভাত জুটবে না’ -দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. করোনাভাইরাসের এই মহামারীর মধ্যে অনেকে আশংকা করছেন বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আপনার কী মনে হয়?
২. ফিলিস্তিনি বন্দীদের করোনা থেকে রক্ষা করার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:
করোনা বিশ্ব: টানা ৩ দিন রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় গেল ২৫৩৫ জনের প্রাণ-যুগান্তরের এ খবরে লেখা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে পরাক্রমশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র আজ এক অণুজীবের তাণ্ডবে নাস্তানাবুদ। টানা তিনদিন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর রেকর্ড গড়েছে দেশটি। গত ২৪ ঘণ্টায় তার আগের দিনের ২ হাজার ২৮২ জনের মৃত্যুর রেকর্ড ভেঙেছে। এক দিনের ব্যবধানে দেশটিতে মারা গেছে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ। একদিনে করোনাভাইরাসে যে কোন দেশে মৃত্যুর রেকর্ড এটি। গত তিনদিন ধরেই রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যু হচ্ছে দেশটিতে। এর একদি আগে ছিল ২২৮২ জন, দুই দিন আগে ছিল ২৪০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু নিউইয়র্কেই মারা গেছে ১০২৫ জন। চীনের উহান থেকে গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়। তারপর তিন মাস পার হয়েছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণের কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সারাবিশ্ব। এর মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বস্ত অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। দিনদিন অবস্থা আরও অবনতি হচ্ছে। ক্রমাগত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ২ হাজার ৫৩৫ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কে মারা গেছে ১৭ হাজার ১৩১ জন।
এদিকে আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে গেছে সবাইকে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৯ হাজার ৭৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৩২ হাজার ১৬৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৬০ হাজার ৫১০ জন।
শুধু লাশ গোনা চলছে, নিউইয়র্ক সিটি যেন মৃত্যুপুরী-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
নিউইয়র্ক মানেই ছিল একসময় স্ট্যাচু অব লিবার্টি, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, টাইমস স্কয়ার, রকফেলার সেন্টার, সেন্ট্রাল পার্ক, অ্যাম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, ব্রুকলিন ব্রিজ, মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়। এর কোনও একটি বাদ পড়লেও বাঙালিদের চলে। কিন্তু তাদের কাছে জ্যাকসন হাইট্সের নাম বাদ পড়লে নিউইয়র্কের পরিচয় যেন পূর্ণ হয় না। জ্যাকসন হাইট্সকে নিউ ইয়র্ক নগরীর বাঙালিদের তীর্থস্থান বললেও ভুল হবে না। বলা যেতে পারে, জ্যাকসন হাইট্সের গুরুত্ব তাঁদের কাছে তার চেয়েও বেশি। মহাকাশের যাত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভুত কল্পনা চাওলার নামানুসারে ৭৪ স্ট্রিট এবং ৩৭ অ্যাভিনিউ-এর নামকরণ হয় কল্পনা চাওলা ওয়ে। এই জ্যাকসন হাইট্সকে ঘিরে বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি ও নেপালিদের এক বিশাল বাজার। শাড়ি-গহনা-রেশমি চুড়ি থেকে পাটা-পুতা— কী নেই সেখানে! একটা সময় ছিল যখন ৭৪ স্ট্রিটকেই জ্যাকসন হাইট্স বলা হতো।
শত শত বাঙালির কলরবে মুখর জ্যাকসন হাইটস এখন করোনায় আক্রান্ত। পুরো জ্যাকসন হাইটস যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। কোনও লোক-জন নেই। রেস্তোরাঁ, দোকানপাট— সব বন্ধ। প্যাটেল ব্রাদার্স আর সবজিমান্ডি খোলা ছিল-জনসাধারণের নিত্যনৈমত্তিক বাজারের জন্য। সেই দুটি বিশাল স্টোরও গত ৭দিন ধরে বন্ধ। শুধু শোনা যায় অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের আওয়াজ। কেননা দুই ব্লক দূরেই রয়েছে এলমহার্স্ট হাসপাতাল। সেই হাসপাতাল এখন মৃত্যুর খোঁয়াড়। সংকুলান হচ্ছে না স্থানের। তাই গেটের সামনে তাঁবু খাটিয়ে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা চলছে। প্রতিদিনই শ’খানেক করোনা রোগী মারা যাচ্ছে এই হাসপাতালে। হাসপাতালের সামনেই সারি সারি লাশ। সামনে ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে সর্বক্ষণ। লাশ উঠছে আর উঠছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের পরবর্তী উপকেন্দ্র হতে পারে আফ্রিকা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-দৈনিক প্রথম আলো
পৃথিবীতে বৈষম্য কত, দেখিয়ে দিল করোনাভাইরাস: করবিন-দৈনিক প্রথম আলো
যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিনের মতে, করোনাভাইরাস সংকট বিশ্ব বৈষম্যকে উন্মোচিত করেছে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছে, তবে মহামারিটি রাজনৈতিক মনোভাব বদলাচ্ছে বলে এক সুন্দর বিশ্ব হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার আল–জাজিরার নতুন সোশ্যাল মিডিয়া অনুষ্ঠান ‘দ্য নিউ নরমাল’–এ প্রচারিত সাক্ষাৎকারে করবিন করোনাভাইরাস কীভাবে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধানকে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে আলোচনা করেন।
করোনা বাংলাদেশ:
করোনায় মারা গেল আরও ৯ জন, নতুন আক্রান্ত ৩০৬-দৈনিক যুগান্তর
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩০৬ জন। করোনায় একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা এটি সর্বোচ্চ। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট ৮৪ জনের মৃত্যু ও ২ হাজার ১৪৪ জন আক্রান্ত হলেন। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ৮জন। এ নিয়ে মোট ৬৬ জন করোনা রোগী সুস্থ হলেন।
সন্দেহভাজন অনেকে পরীক্ষার বাইরে-দৈনিক প্রথম আলোর এ খবরে লেখা হয়েছে, কোভিড–১৯ আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। এ কারণে সন্দেহভাজন অনেকে রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি চলছে। সারা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণাও করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ২৯টি জেলা লকডাউন (অবরুদ্ধ) করেছে সরকার। দেশে শনাক্ত হওয়া মোট রোগীর ৩৮ শতাংশের বেশি (৭০৪ জন) এসব এলাকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব এলাকা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকায় আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তূলনামূলকভাবে সহজে শনাক্ত (কন্টাক্ট ট্রেসিং) করা সম্ভব। তাঁদের পরীক্ষার আওতায় আনা গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে আসবে। এ ছাড়া এসব এলাকায় কারও মধ্যে লক্ষণ–উপসর্গ দেখা দিলে তাদেরও পরীক্ষার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু এসব এলাকায় রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার পরিসর সেভাবে বাড়ছে না। শেখ হাসিনার ১ লাখ কোটি টাকার বরাদ্দ মানুষসহ দেশ ও অর্থনীতিকে বাঁচাবে: তথ্যমন্ত্রী-যুগান্তরের এখ খবরে লেখা হয়েছে, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করোনা পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকাসহ সমগ্র দেশ ও অর্থনীতিকে বাঁচাবে।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয়ে দেয়া বক্তব্যে হাছান মাহমুদ একথা বলেন। তিনি এ সময় জানান, প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের এ বরাদ্দ দেশের মোট জিডিপির ৩.৩ শতাংশ।
এছাড়াও বহু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চলমান উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫০ লাখ নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য মাসে পরিবারপ্রতি ৩০ কেজি চাল ১০ টাকা কেজি দরে বছরে ৭ মাস দিচ্ছে সরকার, যা মূলত আড়াই কোটি মানুষের অন্নসংস্থান করছে। বছরপ্রতি সময় বাড়ানোরও চিন্তা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেশে ১০০ চিকিৎসক, ৫৭ নার্স ও ৫৮ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত-বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, দেশে করোনার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে দায়িত্ব পালনকারী প্রায় ১০০ জন চিকিৎসক, ৫৭ জন নার্স ও ৫৮ জন পুলিশ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) প্রধান সমন্বয়ক ডা. নিরূপম দাশ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘করোনায় সংক্রমিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১০০ জনে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা যদি এভাবেই বাড়তে থাকে তবে রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য কোনো ডাক্তার থাকবে না।’ ডা. নিরূপম দাশ আরো বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকায়।
রাজধানীর লকডাউন অবস্থা: জরিমানায়ও কমছে না জনসমাগম-দৈনিক যুগান্তর
র্যাব-পুলিশের নিয়মিত অভিযানেও কমছে না মানুষের অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি। করোনার বিস্তার রোধে মানুষের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পরও গত কয়েকদিনে অন্তত ৪ শতাধিক ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। বাজারগুলো তো নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, দেশে করোনার বিস্তার চলছে জ্যামিতিক হারে। রাজধানীর অলিগলিতেও মানুষের জটলা দেখা যাচ্ছে।
পেটের তাগিদে রাইড শেয়ারিংয়ের চালক ও দু-একটি সিএনজি অটোরিকশাকে দেখা গেলেও অনেকেই অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন। এ অবস্থায় মানুষকে লকডাউন মানতে বিকল্প চিন্তা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বলতে গেলে রাজধানী এখন সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। বাস-ট্রেন-নৌ যোগাযোগ বন্ধ। অকারণে ঘোরাঘুরি ঠেকাতে ১৪ এপ্রিল থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করেছেন।
করোনার ভয়াল থাবা-ভাসমান মানুষেরা কোথায় আছে, কি খাচ্ছে-দৈনিক মানবজমিন
ম্যাডাম আমারে দেন, আমারে দেনগো ম্যাডাম...।’ একের পর এক আবদার। ফকিরাপুল থেকে কমলাপুরের দিকে যেতেই চোখে পড়ে ভাসমান মানুষের ভিড়। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঘরে থাকার কথা বলা হলে আলম বলে, আমারতো ঘরই নাই। কই থাকুম। প্রায় ১৫ বছর যাবত স্ত্রীকে আর তিন সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন রশিদ। আরামবাগ-নয়াপল্টনমুখী রাস্তার পূর্বপাশের ফুটপাতে তার ঝুপড়ি ঘর। মাটি কাটা, ইটভাঙ্গার মতো কায়িক শ্রমে চলছিলো তার সংসার। করোনাকালে চরম সঙ্কটে পড়েছে তার পরিবার। খেয়ে না খেয়ে কাটাচ্ছেন দিন রাত। বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার হিসেব অনুসারে দেড় কোটির ওপরের জনসংখ্যার এই ঢাকার ফুটপাতে বাস করেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। এছাড়া বস্তিতে থাকেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। তারা সবাই এই করোনাকালে প্রচণ্ড দুর্ভোগের শিকার।
বাংলাদেশ থেকে রোগী আসা বন্ধ থাকায় বিপন্ন অর্থনীতি-দৈনিক মানবজমিন
বাইপাস এর স্টেডিয়ামের ধারে বিশাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালই বলি, আর দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুরের সারি সারি ঝাঁ চকচকে হাসপাতালগুলোই বলি, লকডাউন এর ফলে বাংলাদেশ থেকে রোগী আসা বন্ধ থাকায় সবারই নাভিশ্বাস। দীর্ঘদিন ওপিডি বন্ধ রেখেছিলো হাসপাতালগুলো, কিন্তু সরকারের নির্দেশে সেগুলো একে একে খুলছে। কিন্তু বিমান যোগাযোগ বন্ধ, চলছে না মৈত্রী ট্রেন, সড়ক পথও বন্ধ। বাংলাদেশি রোগী না থাকায় ধুঁকছে হাসপাতালগুলো। শুধু কি হাসপাতাল? এই হাসপাতালগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হোটেল, গেস্ট হাউস, ভাতের হোটেল, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, ওষুধের দোকানগুলোও বিপন্ন বাংলাদেশের রোগী না থাকায়। শনিবার সকালে সরজমিনে দেখতে গিয়েছিলাম এইরকমই একটি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে, মুকুন্দপুরে। হাসপাতালের বিখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট বললেন, আমাদের হাসপাতালের নাম ডাক আছে হার্ট এর চিকিৎসার জন্যে। কিন্তু প্রায় পঞ্চান্ন শতাংশ রোগী আসে বাংলাদেশ থেকে।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
দেশে করোনায় মৃত বেড়ে ৪৮০ জন, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত আরও ৯৯১-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
দেশে মেয়াদ বেড়েছে লকডাউনের। কিন্তু এর মধ্যেও রোজই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৯১ জনের করোনা সংক্রমণের খবর মিলেছে। ফলে সারা দেশে এখন আক্রান্তের সংখ্যা এখন বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৩৩৮ জন। বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় তা ৪৩ জন বেড়ে হয়েছে ৪৮০। এর মধ্যে শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রেই মারা গিয়েছেন ২০১ জন।
লকডাউনে খেতে না পেয়ে গলায় দড়ি দিলেন বিহারের শ্রমিক! স্ত্রী বলছেন, ‘আর ভাত জুটবে না’-দৈনিক আজকাল
করোনা নয়। লকডাউনে খেতে না পেয়ে মরতে হল দিল্লিবাসী বিহারের এক শ্রমিককে। আত্মহননের পথ বেছে নিলেন দিল্লির সরস্বতিকুঞ্জের বাসিন্দা ছাবু মণ্ডল। বয়স ৩৫। বাবা–মা, স্ত্রী এবং চার সন্তান সহ বাড়িতে মোট আটটি মাথা। কারোরই খাবার জুটছে না। ঘরে একদানা চালও নেই। শেষবার নিজের ফোন বেচে সামান্য খাবার কিনে এনেছিলেন ছাবু। দিল্লির গুঁরগাওয়ে বাড়িতে বাড়িতে ছবি আঁকার কাজ করতেন তিনি। কাজের জন্যে এদিক সেদিকও যেতে হত। লকডাউনের জেরে একবার আটকেও পড়েছিলেন। ভাত জুটছে না, তাতে কী! স্বামী কোনওমতে বাড়ি ফিরে এসেছেন, তাতেই বেশ খুশি হয়েছিলেন স্ত্রী পুণম। ছাবু বাড়ি ফেরার আগে থেকেই ভাত জুটছিল না। প্রতিবেশির বাড়িতে গিয়ে হাত পাততে হত প্রত্যেকদিন। নয়ত এলাকায় কেউ খাবার দিতে এলে অল্প হলেও খেতে পেত ছাবু–পুণমের পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশুটা। গুঁরগাওতে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে বাস ওই আটজনের। লকডাউনে বেশকয়েক দিন ধরেই কাজ নেই ছাবুর। ঘরে এক পয়সাও নেই। আর সহ্য করতে পারেননি। বাড়িতে কেউ নেই দেখে গলায় দড়ি দিলেন। কাঁদতে কাঁদতে পুণম বলছেন, ‘স্বামী ছিল। ভরসা ছিল। এখন তো আরোই ভাত জুটবে না।’
চিনের মতো করোনার সঠিক তথ্য দিচ্ছে না অনেক দেশই! ইঙ্গিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
চিন করোনা মৃত্যু নিয়ে পরিসংখ্যান বদলে দিতেই যেন ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে আসছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, শুধু চিন নয়, এমন অনেক দেশেই মৃতের বা আক্রান্তের সংখ্যাটা বর্তমানে যেটা দেখানো হচ্ছে, তার থেকে বেশি। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলেই আসল সংখ্যাটা বোঝা যাবে। উল্লেখ্য গতকালই চিন স্বীকার করে, কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণে চিনের ইউহান শহরে যত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল, সংখ্যাটা তার চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক আধিকারিক বলছেন, “এটা সত্যিই একটা চ্যালেঞ্জ। সব আক্রান্তকে শনাক্ত করা এবং মৃতের সংখ্যার হিসেব রাখাটা বেশ কঠিন। আমার মনে হয় বিশ্বের আরও অনেক দেশই এখন আসল পরিসংখ্যান দিচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তাঁদের আরও একবার সবটা পর্যালোচনা করতে হবে।” বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি বিভাগের ডিরেক্টর মাইকেল রায়ান আবার বলছেন, বিশ্বে সব দেশকেই এই ধরণের পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৮