বাংলাদেশে ভারতের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
শেখ হাসিনার ভারত সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিক্রিয়া
-
এফবিসিসিআই) এবং সিআইআই যৌথভাবে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন শেখ হাসিনা
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ভারতীয় ঋণ কার্যকর করার 'গুরুত্বপূর্ণ প্রথম উদ্যোগ' গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ও ভারত।
গতকাল (মঙ্গলবার) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব বিনয় মোহন কাত্রা সাংবাদিকদের বলেন, 'প্রতিরক্ষা এলওসির (লাইন অব ক্রেডিট) অধীনে প্রথম চুক্তিটি এই সপ্তাহের শুরুতে স্বাক্ষরিত হয়েছে। সামান্য পরিমাণে হলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রতিরক্ষা এলওসি হলেও এটি উন্নয়ন অংশীদারত্ব কাঠামোর একটি অংশ। নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা আছে।'
পাঁচ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আওতায় এই ঋণ প্রদানের ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি।
এদিকে, বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগের নীতির কথা উল্লেখ করে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অবকাঠামো, উৎপাদন, জ্বালানি এবং পরিবহন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সকালে নয়াদিল্লিতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) যৌথভাবে আয়োজিত ব্যবসায়ীদের এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।
সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস পরিবশিত খবরে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা অবকাঠামো প্রকল্প, উৎপাদন, জ্বালানি এবং পরিবহন খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনার জন্য ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান। এর ফলে ভারতীয় বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়, খরচ কমিয়ে বাই-ব্যাক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শিল্প স্থাপন করতে পারে।
দিল্লিতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক শেষে সফরসঙ্গী বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের জানান, ভারতের সঙ্গে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা সেপা চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে দিল্লির মান্ডি হাউসে ‘ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (ফিকি) এবং বাংলাদেশের ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির’ (এফবিসিসিআই) যৌথ আয়োজনে এক সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আনুরোধ করেছেন, ‘অনুগ্রহ করে আপনারা পূর্ব পানে তাকান। বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক ভাবনায় বাংলাদেশকে সংযুক্ত করুন। ব্যবসা-বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ ওখানেই।’
ওদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আজ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা টেকানোর দেনদরবার করতে ভারতে গেছেন। এই দেনদরবার করতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্ব কতটুকু বিক্রি করছেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। জনগণ চেয়ে আছে, প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়ে কী করছেন, কতটুকু স্বার্বভৌমত্ব বিক্রি করে নিজের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।’
এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতয়াজ আহমেদ বলেন, এবারের প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের আকাঙ্ক্ষা তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বন্টন এবং সীমান্তে হত্যা বন্ধ করা– এ দুটি প্রধান সমস্যার ক্ষেত্রে কোনো ইতিবাচক অর্জন হয়নি।
তবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের ভারত সফরে অভিন্ন সীমান্ত নদী কুশিয়ারার পানি বণ্টন নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর একটি বড় অর্জন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এ সময় এই সমঝোতা স্মারকের বিনিময়ে ভারতকে বাংলাদেশের কিছু দিতে হয়নি বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দুদিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ মনে করে ভারত অবশ্যই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। তবে এতে সময় লাগতে পারে।
এ দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় দেশের জনগণকে বাঁচাতে বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতের কাছে যা যা চাওয়া হয়েছে, তার সবটাই পেয়েছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।
বুধবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোটার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।