জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে যেসব বিষয় থাকা জরুরি
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সাভারের রানা প্লাজা কারখানা ধসে কমপক্ষে ১ হাজার ১০০ শ্রমিক মারা যান। আহত হন সহস্রাধিক।
২০১২ সালের ২১ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১১ জন পোশাকশ্রমিক পুড়ে মারা যান। জীবন বাঁচাতে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েও মারা যান অনেকে। আগুনের লেলিহান শিখার মাঝে শত শত শ্রমিকের বাঁচার আকুতি আর কান্না, নাড়া দিয়েছিলো সারা বিশ্বকে। এ ঘটনায় শতাধিক শ্রমিক আহত হন। অনেকেই এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শুধু পোশাকশিল্পই নয়, অর্থনীতির সব খাতে শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন খুবই জরুরি। যেখানে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের সময় এসেছে। অবিবেচক নিয়োগকর্তারা নিরাপত্তাব্যবস্থায় কাটছাঁট করার ঘটনায় শ্রমিক হতাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
চট্টগ্রামে কনটেইনার ডিপো ও অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং অতি সম্প্রতি বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে গেল। কয়েক হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেল। এই অবস্থায় বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের দিকে হাটছে। তাই ২০২৪ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ হতে হলে সব প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও অধিকারকে বাংলাদেশের সকল পর্যায়ে আবশ্যিক বিবেচ্য বিষয়ে পরিণত করতে হবে। স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন ও যৌথ দর-কষাকষির সুযোগ জোরালো করতে হবে বলেও আলোচনা চলছে শ্রম অধিকার বিশ্লেষক মহলে।
এমন বাস্তবতায় আজ ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস। ‘নিশ্চিত করি শোভন কর্মপরিবেশ, গড়ে তুলি স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হওয়া দিবসটির লক্ষ্য অর্জনে সরকারের কিছু উদ্যোগের কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ এহছানে এলাহী। তিনি বলেন, সরকার শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের জন্য মাঠ পর্যায়ে তাদের তদারকি টিম বাড়িয়েছে, কাজও চলছে পুরোদমে। আর শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানান তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির। তিনি বলেন, আইএলওর সঙ্গেও বিজিএমইএর কিছু প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মালিক ও শ্রমিকের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরী বলেও মন্তব্য করেছেন এই বিজিএমইএ নেতা।
কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ নানা মহল থেকেই বারবার দেয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে তদারকির দায়দায়িত্ব যাদের রয়েছে, তাদের উদাসীনতা কিংবা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগও কম নয়।
একই সাথে শিল্প কলকারখানা কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন অনুযায়ী নিরাপত্তার ব্যাপারে কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় স্পষ্টভাবে কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের কথা বলা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়াটা দুঃখজনক। তাই শ্রম আইনের নিয়মনীতির যথাযথ প্রয়োগ জীবনের নিরাপত্তার প্রয়োজনেই জরুরি বলে মনে করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ। #
পার্সটুডে/বাদশা রহমান/রেজওয়ান হোসেন/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।