খালেদার ঐক্য’র আহ্বানে ২০ দলের পূর্ণ সমর্থন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেবে বিএনপি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i14470-খালেদার_ঐক্য’র_আহ্বানে_২০_দলের_পূর্ণ_সমর্থন_জঙ্গিবাদের_বিরুদ্ধে_কর্মসূচি_দেবে_বিএনপি
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সম্প্রতি সারা দেশে হামলা এবং অতি সম্প্রতি গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্য’র যে ডাক দিয়েছিলেন; ২০ দলীয় জোটের নেতারা তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ১৩, ২০১৬ ২০:৪৫ Asia/Dhaka
  • প্রেস ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম
    প্রেস ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সম্প্রতি সারা দেশে হামলা এবং অতি সম্প্রতি গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্য’র যে ডাক দিয়েছিলেন; ২০ দলীয় জোটের নেতারা তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।

বুধবার রাত ১০টায় গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে তিনি একথা জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজধানীর গুলশানে উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের হামলায় দেশি-বিদেশি অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটার পরপরেই বিএনপি চেয়ারপারসন সংবাদ সম্মেলন করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কিছু উর্ধ্বতন নেতা এবং ১৪ দল খালেদা জিয়ার সেই আহ্বানকে উপক্ষা করেছে। ফলে উপেক্ষা করেছে দেশের জনগণের আশা-প্রত্যাশাকে। শুধু তাই নয়, জাতির প্রতি কিছুটা হলেও তারা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। যে জাতির এই মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন, এই ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য, সেই মুহূর্তে তারা জাতিকে বিভক্ত করতে চাইছেন এবং জাতিকে আরো গভীর সংকটে ফেলতে চাইছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়ার এই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ১৪ দল ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা উল্টো বিএনপির ওপর দায় চাপিয়েছেন। আজকের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০ দলীয় জোট মনে করে, জাতির এই সংকট কালে বিএনপির চেয়ারপারসনের জাতীয় ঐক্য’র ডাক ফিরিয়ে দিয়ে সমস্যাকে আরো ঘনীভূত করেছে ক্ষমতাসীনরা।’

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের এই কঠিন সংকট মুহূর্তে আওয়ামী লীগ জাতিকে বিভক্ত করতে চায়। তারা চলমান সংকটকে আরও গভীরে ফেলতে চায়।

২০ দলীয় জোটের বৈঠকে খালেদা জিয়া

রাত সোয়া ৮টায় শুরু হয়ে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা চলে বৈঠকটি। বৈঠকে গুলশান হামলা ও শোলাকিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০ দলের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। জোটের বৈঠকের পর দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও কয়েকজন উপদেষ্টা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল আরো জানান, দেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক এবং পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

বৈঠকে ২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ জাতীয় পর্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহম্মদ ইবরাহিম, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টিআই ফজলে রাব্বি মিয়া, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান এডভোকেট আজহারুল ইসলাম, এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।#

পার্সটুডে/এআর/১৪