সাম্প্রতিক সময়ে ১০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে: জাতিসংঘ
-
ইউএনএইচসিআর ব্যাংকক শাখার মুখপাত্র ভিভিয়ান টান
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হামলা থেকে প্রাণে বাঁচতে সাম্প্রতিক সময়ে কমপক্ষে ১০ হাজার রোহিঙ্গা সেদেশ থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।
বুধবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ব্যাংকক শাখার মুখপাত্র ভিভিয়ান টান বলেছেন, ‘বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমাদের ধারণা, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশে ১০ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে ঢুকেছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাচ্ছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের আচরণ মানবতাবিরোধী অপরাধের মতোই।‘ বিবৃতিতে গত জুনে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্য উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘২০১২ সালের সহিংসতার ঘটনার সূচনা থেকে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক বলে মেনে নেয়নি, স্বাস্থ্যসুবিধা ও শিক্ষার সুযোগ, এমনকি মুক্তভাবে চলাফেরার সুযোগ থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।‘
ওএইচসিএইচআর বলেছে, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার ওই প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছিল, তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার সরকার।...রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার ধরন মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে গণ্য করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।’
গত ৯ অক্টোবর অজ্ঞাত পরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের হাতে মিয়ানমারের ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার পর সেখানে নিরীহ মুসলমানদের ওপর ফের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হামলা শুরু হয়েছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনে বসবাসরত প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখেছে, রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলোর কয়েক হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।#
পার্সটুডে/এআর/১