প্রয়োজনে নাফ নদী সাঁতরিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের পক্ষ নেব: চরমোনাই পীর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, "মিয়ানমার যদি অনতিবিলম্বে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর বর্বর, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড বন্ধ না করে প্রয়োজনে আমরা নাফ নদী সাঁতরিয়ে আমাদের মুসলিম ভাইদের পক্ষ নেব ইনশাআল্লাহ।"
আজ (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে নেতাকর্মীদের জড়ো হতে বাধা দেয় পুলিশ। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী গুলশানে অবস্থিত মিয়ানমার দূতাবাস অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলসহ স্মারকলিপি জমা দেয়ার জন্য রওনা দেয়। মিছিলটি বিজয়নগর মোড়ে পৌঁছলে পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্ব জনমত অগ্রাহ্য করে আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নগ্ন ও সর্বাত্মক হামলায় কোনো বিবেকবান মানুষ বিচলিত না হয়ে পারে না।
চরমোনাই পীর বলেন, পৃথিবীর তাবত মানবতাবাদী মানুষের মাতমের দীর্ঘশ্বাস, আত্মার আহাজারি, নৈতিক সমর্থনের কেন্দ্রবিন্দু রোহিঙ্গার জনগণ। রোহিঙ্গাদের এই আহাজারি প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের। সর্বোপরি এ আর্তনাদ ন্যায়ের পথে সমগ্র উম্মাহর আর্তনাদ, মুসলিম মিল্লাত ও বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের আর্তনাদ।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। আদমশুমারিতে রোহিঙ্গাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তাদের নাগরিকত্ব বহাল, শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ মায়ানমার সরকারের নিপীড়ন থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ, ওআইসি, ন্যাম, আসিয়ান ও সার্কসহ সকল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি
আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার প্রতিবাদে আগামী ৯ ডিসেম্বর জেলায় জেলায় বিক্ষোভ, ১৬ ডিসেম্বর দেশব্যাপী দোয়া ও কুনুতে নাজেলা, ১৮ ডিসেম্বর মিয়ানমার অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি সফলে দলমত নির্বিশেষে সকল ধর্মপ্রাণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান চরমোনাই পীর।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৬