রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের বিশেষ দূতের বাংলাদেশ সফর; বিশ্লেষকদের অভিমত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i30874-রোহিঙ্গা_সংকট_সমাধানে_মিয়ানমারের_বিশেষ_দূতের_বাংলাদেশ_সফর_বিশ্লেষকদের_অভিমত
সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রতিদিনই ঢুকছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানরা। নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে এসে অনেক আগে থেকেই কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করেছে তারা। সবশেষ রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গুলি, অগ্নিসংযোগ আর নির্যাতনে নতুন করে বাংলাদেশে আসার হিড়িক পড়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ১৩, ২০১৭ ১৬:৩৫ Asia/Dhaka

সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রতিদিনই ঢুকছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানরা। নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে এসে অনেক আগে থেকেই কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করেছে তারা। সবশেষ রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গুলি, অগ্নিসংযোগ আর নির্যাতনে নতুন করে বাংলাদেশে আসার হিড়িক পড়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, গত বছরের ৯ অক্টোবরের পর মিয়ানমার থেকে প্রায় ৬৫ হাজার নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নিবন্ধিত এসব রোহিঙ্গার পাশাপাশি আরও প্রায় তিন লাখ অনিবন্ধিত এদেশে অবস্থান করছে।

সংকট সমাধানে আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সবশেষ মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সূচি’র বিশেষ দূত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিয়াও থিন বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তার এ সফরে নতুন করে মিয়ানমারের এসব নাগরিক ফিরিয়ে নেয়া এবং বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের প্রবণতা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। এরই প্রেক্ষিতে সমস্যা সমাধানে আলোচনার পাশাপাশি, বর্ডার লিয়াজো অফিস স্থাপনসহ দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়াসহ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নুর খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে দুদেশের মধ্যে আলোচনা হবে প্রধান কাজ। আর নির্যাতনের শিকার হয়ে আহত অবস্থায় যারা এখনও রাখাইন রাজ্যে অবস্থান করছেন তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন করতে হবে। সেইসঙ্গে বাংলাদেশে যারা এসেছেন তাদের তালিকা করে সহায়তা দিতে হবে। কিন্তু এর কোনটিই সেভাবে এগুচ্ছে না। আর এটি রাজনৈতিক ইস্যু হওয়ায় দুদেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জাতীয়তার স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক মহলকে কাজ করতে হবে বলেই মনে করেন এ মানবাধিকার কর্মী।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক শক্তি প্রদর্শনকে জরুরি মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক, অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান। তিনি আরও বলেন, স্বল্প মেয়াদে ফল পেতে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি থাকতে হবে। মিয়ানমারসহ আশপাশের দেশগুলো সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি শক্তির প্রয়োগও করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। এ শক্তিকে সামনে আনতে হবে। এছাড়া দ্রুত ফল পাওয়ার সম্ভবনা কম বলেই মনে করেন এ বিশ্লেষক।

সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের স্মরণাপন্ন হওয়াকে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা মনে করছেন অধ্যাপক শাহীদুজ্জামান। জাতিসংঘে গেলে মিয়ানমারের সঙ্গে চীন ও ভারতের সুসম্পর্কের কারণে বাংলাদেশের পক্ষে ফল পাওয়া নিয়েও শঙ্কা করছেন তিনি।#

পার্সটুডে/শামস মন্ডল/গাজী আবদুর রশীদ/১৩