রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতনের কথা শুনলেন কফি আনান কমিশন
-
রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতনের কথা শুনলেন জাতিসংঘ বিশেষ কমিশন
বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গা মুসলমানরা জাতিসঙ্ঘের বিশেষ কমিশনের নিকট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের ঘটনার বর্ণনা করেছেন।
আজ (রোববার) সকালে কমিশনের তিন সদস্য মিয়ানমারের নাগরিক উইন ম্রা ও আই লুইন এবং লেবাননের নাগরিক ঘাশান সালামে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছান। প্রতিনিধিদলটির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বাকি বিল্লাহসহ বিভিন্ন সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
কক্সবাজারে পৌঁছে কমিশনের সদস্যরা বেলা ১১টার দিকে উখিয়ার বালুখালী জঙ্গলে নতুন করে গড়ে ওঠা একটি রোহিঙ্গা শিবিরে যান। জানুয়ারি থেকে এই শিবিরে কয়েক হাজার রোহিঙ্গার বসতি শুরু করেছে। এই শিবিরে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থানকালে ১৯ জন রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন কমিশন। তবে কমিশনের সদস্যরা এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
আনান কমিশনের সঙ্গে কথা বলা রোহিঙ্গা মুসলমানরা জানিয়েছে, কমিশনের সদস্যরা তাঁদের কাছে নির্যাতনের কারণ, নির্যাতনের ধরন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছেন। তাঁরা কমিশনের কাছে ঘটনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।
বিকেলে কমিশনের সদস্যরা উখিয়ার বালুখালী শিবির থেকে সড়কপথে টেকনাফের লেদায় অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। সেখানেও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন কমিশনের সদস্যরা।
আগামীকাল (সোমবার) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিকেলে প্রতিনিধিদল ঢাকায় ফিরে যাবে।
গত ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যের তিনটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় ৯ পুলিশসহ ১৮ ব্যক্তি নিহত হন। এরপর ওই রাজ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। সামরিক বাহিনীর চলমান অভিযানে আড়াই শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হন। আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয় আড়াই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। গৃহহীন প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে আশ্রয় নেয় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবিরে। এর আগে থেকে এসব শিবিরে অবস্থান করছিল মিয়ানমারের আরও অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/২৯