সহিংসতার বিষয়ে ইসি'র প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা: বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i66655-সহিংসতার_বিষয়ে_ইসি'র_প্রশ্নবিদ্ধ_ভূমিকা_বিভিন্ন_মহলের_প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে হামলা–সংঘাতের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিভিন্ন ঘটনায় ‘বিব্রত’ ‘দুঃখ প্রকাশ’ আর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে প্রতিষ্ঠানটি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮ ১৫:৪২ Asia/Dhaka
  • সিইসি কে এম নূরুল হুদা
    সিইসি কে এম নূরুল হুদা

বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে হামলা–সংঘাতের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিভিন্ন ঘটনায় ‘বিব্রত’ ‘দুঃখ প্রকাশ’ আর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ১০ ডিসেম্বর প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে ক্রমে হামলা–সংঘাতের ঘটনা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত শতাধিক জায়গায় প্রচারে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হামলার শিকার হচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী–সমর্থকেরা।

গতকাল ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে: সিইসি

তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

প্রার্থীদের প্রচারে হামলা অব্যাহত

এবার নির্বাচনী সংঘাতে এখন পর্যন্ত দুজনের প্রাণহানি হয়েছে। দুজনেই আওয়ামী লীগের। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আফরোজা আব্বাস, মাহবুব উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আবু সাইয়িদের প্রচারে হামলা হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরও। প্রায় প্রতিদিনই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি তাদের প্রার্থীদের প্রচারে হামলা-বাধা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইসিতে লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করছে।

গণতান্ত্রিক বাম জোটও ঢাকা ১২,১৩, ১৪, পটুয়াখালী-৪, কুষ্টিয়া-৩, সাতক্ষীরা-১ আসনে প্রচারে বিভিন্নভাবে বাধার দেওয়া হচ্ছে বলে ইসিতে অভিযোগ দিয়েছে।

নির্বাচনে  বিএনপি নেতা কর্মীরা মাঠে নামাতে পর্যন্ত পারছে না-এমনটি  অভিযোগ করেছে তৃণমূল পর্যায়ের বরিশাল-২ নির্বাচনী এলাকার একজন  বিএনপি কর্মী।

এ এলাকার একজন মহিলা ভোটার জানালেন, নির্বাচনের মাত্র ১৩ দিন বাকি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন প্রার্থী বা তাদের কোন সমর্থক-কর্মী তাদের কাছে ভোট চাইতে আসেনি।

'কমিশন ব্যবস্থা নিলে আপত্তি নেই'

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে তার দলের কোনো আপত্তি থাকবে না।

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেছেন, কয়েকটি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি অভিযোগ যাচাই করে সত্যতা পায়নি। তবে কোন কোন এলাকার ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি, তা সচিব স্পষ্ট করেননি।

'সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়'

হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসি কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, এসব ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে নির্বাচন কমিশন। কারণ, সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুলিশকে এ নিয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, দু'এক জায়গায় কিছু বদলিও করা হয়েছে।

'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার দায়িত্ব ইসির'

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বলেছন, নির্বাচনের আগে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার দায়িত্ব ইসির। নির্বাচনের সময় পুলিশও নির্বাচন কমিশনের অধীনে। কিন্তু সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় ইসি গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। এভাবে চললে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ থাকবে না, কোথাও কোথাও নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৭

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন