উন্নয়নের স্বার্থে আরেকবার সরকারে থাকা একান্ত প্রয়োজন: শেখ হাসিনা
-
বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আরও পাঁচটি বছর ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন আওয়ামী লীগের। কারণ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শেষ করতে আরেকবার ক্ষমতায় যাওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে হতদরিদ্র বলে কিছু থাকবে না। প্রত্যেকটি মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান যেটুকু বাকি আছে, সেটাও আমরা করতে সক্ষম হবো। সেজন্য আমাদের আরও পাঁচটি বছর সরকারে থাকা একান্তভাবে প্রয়োজন।”
আজ (সোমবার) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজয় দিবসের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশে গত দশ বছরে ‘কল্পনাতীত স্বেচ্ছাচারিতার’ যে অভিযোগ করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দশ বছরে আমরা যে পরিবর্তনটা এনেছি, সেই পরিবর্তনটা অনেকের চোখে পড়ে না। যখন মানুষ ভালো থাকে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়, তখন তারা বলে এটা নাকি স্বেচ্ছাচারিতা। স্বেচ্ছাচারিতা কী করে হল- এটা আমার প্রশ্ন। কী দেখতে পেল তারা?”
এর আগে আজ সকালে ১৪ দফার ইশতেহার ঘোষণা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ক্ষমতায় এলে দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না বলে জানায় এই জোট। একথার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেখলাম, ঘোষণা করেছে যে ১০ বছরের স্বেচ্ছাচারিতাকে নাকি পরিবর্তন করবে। তাহলে পরিবর্তন কি জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাই সৃষ্টি, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশে আবার সন্ত্রাস, আবার সেই ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার তালিকা, আবার নির্বাচনের নামে প্রহসন, এই পরিবর্তন তারা আনতে চান?”
ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে সরকার প্রধান কে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “তাদের সরকার প্রধান কে হবে? এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারী সে হবে? না, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আইভী রহমানের হত্যাকারী, সাজা পাওয়া আসামি সে হবে? বা যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাজা দিয়েছি, তাদের কেউ হবে? সেটা তো স্পষ্ট করে তারা জানায় নাই।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধাপরাধীরা কিভাবে নমিনেশন পায়? কিভাবে তারা প্রার্থী হয়? যারা বাংলাদেশই চায়নি। আর তাদের দোসর কারা? আমাদের এই স্বনামধন্য, যারা তত্ত্বকথা দিয়ে, অনেক মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে। আমি আর কারো নাম নিতে চাই না। কারণ মনে হয় যেন, এখন এই নামই মুখে আনা উচিত না। আমার তাদের জন্য করুণা হয়। কারণ তারা দিকভ্রষ্ট। তারা ভ্রষ্টা হয়ে গেছে। তাদের আর কোনো নীতি নাই। নীতিভ্রষ্ট।”
২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সুবর্ণজয়ন্তী যখন পালন করব তখন দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ গড়ে তুলব। সেজন্য আরও পাঁচটি বছর সরকারে থাকা একান্তভাবে প্রয়োজন। সেজন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাই। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে। স্বাধীনতাবিরোধী, খুনি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী, গ্রেনেড হামলাকারী, দুর্নীতিবাজ, অস্ত্র চোরাকারবারি, সাজাপ্রাপ্ত খুনি আসামি এরা এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেবে না।”
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের ওপর আমার আস্থা আছে। বিশ্বাস আছে, বাংলাদেশের জনগণ কখনও ভুল করে না। তাদের সাংবিধানিক অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। সে সাহসও পাবে না। বাংলাদেশের জনগণ আমাদের ভোট দেবে সেটা আমি বিশ্বাস করি।”
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আবদুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, লেখক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন প্রমুখ।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন