নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগের ২১ অঙ্গীকার, বিএনপির ১৯ দফা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i66680-নির্বাচনী_ইশতেহারে_আওয়ামী_লীগের_২১_অঙ্গীকার_বিএনপির_১৯_দফা
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি তাদের নিজ নিজ দলের ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮ ১৬:১৯ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি তাদের নিজ নিজ দলের ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা করেছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এতে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার করা হয়েছে। এসব অঙ্গীকারের মধ্যে দুটি বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি- আমার গ্রাম-আমার শহর; যেখানে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি।

ওদিকে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ তরুণ প্রজন্মকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ ১৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

'এগিয়ে যাবো একসাথে, ভোট দেবো ধানের শীষে'- স্লোগানকে সামনে রেখে ‘ভিশন ২০৩০’-এর আলোকে ইশতেহারটি তৈরি করা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার পক্ষে তিনি ইশতেহার পাঠ করেন।

ইশতেহার হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করব। শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দিব। আগামী ৫ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। পাকা সড়কের মাধ্যমে সকল গ্রামকে জেলা/উপজেলা শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ছেলেমেয়েদের উন্নত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। সুপেয় পানি এবং উন্নতমানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থানের জন্য জেলা/উপজেলায় কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। ইন্টারনেট/তথ্য প্রযুক্তি সর্বত্র পৌঁছে যাবে।”

তরুণ যুবসমাজ: ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সোনার বাংলা-এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রধানতম শক্তি হচ্ছে যুবশক্তি। দেশের এই যুবগোষ্ঠীকে সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জনে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রসারিত করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় ‘যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, “নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা লাভের সুযোগ-সুবিধা অবারিত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সর্বজনীন মানবাধিকার সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে কোন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা করা হবে। মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে। আগামী ৫ বছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত হবে।

এর আগে ইশতেহার ঘোষণার আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, প্রকৌশলী, বুদ্ধিজীবী, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, দেশি-বিদেশি সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত রয়েছেন।

ইশতেহার ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

ওদিকে, বিএনপির ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা ১৯ দফার অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, অর্থনীতি, মুক্তিযোদ্ধা, যুব নারী ও শিশু, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, জ্বালানি, তথ্য ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যাণ, কৃষি ও শিল্প, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা ও পুলিশ, আবাসন, পেনশন ফান্ড ও রেশনিং ফান্ড প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ, পররাষ্ট্র এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ।

ইশতেহার ঘোষণাকালে মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। পাশাপাশি দুই মেয়াদের বেশি একব্যক্তি যাতে প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারেন সে ব্যবস্থা করা হবে।

মানুষের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে গিয়েই খালেদা জিয়া আজ কারাবন্দি হয়ে আছেন বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্ষমতায় গেলে সরকারের সঙ্গে মতবিরোধ হলে কারো কণ্ঠরোধ করা হবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষা হবে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে সমৃদ্ধ। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য একটি পৃথক শিক্ষা চ্যানেল চালু করা হবে। স্বল্প আয়ের পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্বল্প সুদে শিক্ষা ঋণ চালু করা হবে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, শিক্ষার ওপর থেকে সব ধরনের ভ্যাট বাতিল করা হবে। ভ্যাটবিরোধী, কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সব মামলা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বেকারদের ভাতা দেওয়া হবে।

নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নেতৃবৃন্দের নামে আপত্তিকর প্রচারণা রোধে সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি উৎসাহিত করা হবে।

উল্লেখ্য, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গতকাল নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ‘প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ’-স্লোগানে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনাসহ অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়। সব ধরনের প্রতিশ্রুতি সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যে পূরণের আশ্বাসও দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপির ইশতেহার ঘোষণাকালে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মইন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী ও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৮

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন