নির্বাচনের ব্যাপারে সিইসি'র পর্যবেক্ষণ এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আগামী ৩০ তারিখে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আমেজ ও জনগণের বিপুল আগ্রহ দেখে অভিভূত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা।
আজ সকালে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় নির্বাচনের ফলাফল ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্রিফিংয়ের তিনি এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
তবে নির্বাচনী মাঠ থেকে বিরোধী প্রার্থীরা জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেছেন, এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিরোধীদলের নেতা কর্মীদের গ্রেফতার চলছে, সরকারি দলের লোকজন পুলিশের ছত্রছায়ায় প্রতিপক্ষের লোকদের মারধর করছে, হাত-পা ভেঙে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, পুলিশ প্রতিপক্ষের সক্রিয় নেতা-কর্মীদের বাড়িতে নিয়মিত তল্লাশির নামে তাদের এলাকা ছাড়া করে ফেলেছে। এ অবস্থায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের “অভিভূত” হবার বিষয়টি একরকম আত্মপ্রতারণা।
এ প্রসঙ্গে নওগাঁ ৬ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির রেডিও তেহরানকে তার এলাকার জনগণের আতঙ্কের কথা জানান। তিনি বলেন, এমনকি এলাকার আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকরাও পুলিশ ও সরকারি দলের নির্যাতন-হয়রানির ঘটনায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ।
এ বিষয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা সফর শেষে অনুরূপ পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও তারা এখন মামলা হামলার এবং নির্যাতনের ভয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।
নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে অনুষ্ঠিত আজকের ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সামান্য কোনো ভুলের কারণেও যেন মানুষের আস্থা নষ্ট না হয়। সিইসি বলেন, ফল গণনাকারী কর্মকর্তাদের সামান্য ভুলেও অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। তবে, কমিশন কোনোভাবেই ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অরাজকতা করতে দেবে না। ফল ঘোষণা সবসময়ই সারা দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে উল্লেখ করে কে এম নুরুল হুদা বলেন, কোন কারণে মানুষের সে আগ্রহে ভাটা না পড়ে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ সময়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচন সংক্রান্ত পরামর্শ চাইলে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ইভিএম মেশিন ব্যবহারের কারণে ফল গণনায় প্রযুক্তিগত কারণে কিছুটা দেরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ধৈর্ষ ধারণের নির্দেশও দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
অনুষ্ঠানে, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ভোটের দিন বিকেল পর্যন্ত ইন্টারনেটের গতি কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে । তবে ফলাফল পাঠানোর সময় ইন্টারনেটের গতি সচল রাখার কথা তিনি জানান। #
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৯
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন