ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ: রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট নেতাদের সঙ্গে নির্বাচন-উত্তর শুভেচ্ছা বিনিময় করার ইচ্ছা জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে তিনটায় গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট ছাড়াও গতকাল (শনিবার) বাম গণতান্ত্রিক জোটের আটটি দলের ১৬ নেতা একই আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এরই মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জানিয়েছেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে যাচ্ছেন না।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিলের এজেন্ডা থাকলে আমরা সংলাপে যাব, না হলে যাব না। এটাই ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির সিদ্ধান্ত। ভোট ডাকাতির নির্বাচনে বিজয়ীকে শুভেচ্ছা জানাতে কেন যাব?"
ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ২ ফেব্রুয়ারি শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে গণভবন থেকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য চা-চক্রের আমন্ত্রণ পেয়েছি কিন্তু এতে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এ প্রসঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, তারা গণভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য চিঠি পেয়েছেন। তবে এ নিমন্ত্রণে যাবার সুযোগ নেই কারণ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের অধিকার কেড়েও নিয়ে তাদের অপমান করেছে, বিরোধী দলকে শূন্য অবস্থায় নিয়ে গেছে, সেখানে এরকম নিমন্ত্রণ একটা মশকরা ছাড়া কিছুই নয়।
এর আগে ১৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল, তাদের সঙ্গে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বসবেন। কিন্তু সংলাপ নিয়ে বক্তব্য দেয়ার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সুর পালটে ওবায়দুল কাদের পরদিন জানান, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূলত নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করতে তাদের আমন্ত্রণ জানাবেন। এখানে সংলাপের কোনো বিষয় নেই।'
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্টসহ ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গণভবনে সংলাপ করেছিলেন। এরপরই মূলত প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি এবং 'ভোট ডাকাতি'র অভিযোগ এনে এসব দল নতুন করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ দেশি-বিদেশি সংগঠন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী যারা নির্বাচনের পরদিনই 'সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন হয়েছে' বলে সাক্ষ্য দিয়েছিল তারা এখন উল্টো সুর গাইতে শুরু করেছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ ৬ ফেব্রুয়ারি
এদিকে ৩০ ডিসেম্বরের বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে মতামত বিনিময়ের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।
সংলাপে কাদের ডাকা হবে জানতে চাইলে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচন, যেটা জাতিকে হতবাক করে দিয়েছে। এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষ যারা আছেন, যারা মত প্রকাশ করবেন। যারা অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পথ খুঁজে দেবেন, তারা এই সংলাপে অংশ নেবেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৭
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন