করোনাভাইরাস: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা বাণিজ্যমন্ত্রীর
-
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি
চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশেও। এরই মাঝে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা, বাড়ছে দাম। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
বাংলাদেশের মোট আমদানির প্রায় ২৬ শতাংশই আসে চীন থেকে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীন থেকে ১৩ হাজার ৬৫১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়। এর বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৮৩১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। দিন দিন উভয় দেশে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে; বলা যায়, অনেকটাই চীন নির্ভর বাংলাদেশ। তাই করোনাভাইরাসের কারণে অনেকটাই চাপে পড়বে বাংলাদেশ।
চীন থেকে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর উপকরণসহ শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়। অন্যদিকে, পোশাক, চামড়াসহ বেশকিছু পণ্য রপ্তানি হয়। বর্তমানে চীন থেকে পণ্য জাহাজীকরণ, বুকিং এবং বিক্রি আপাতত বন্ধ রয়েছে। যেসব পণ্য দেশে আসছে সেগুলো এক মাস আগেই বুকিং করা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পণ্যের কাঁচামাল সংকট দেখা দিলে রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। রপ্তানিজাত বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামালের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে চীন থেকে। সংকট কাটাতে বিকল্প বাজার খুঁজছে বাংলাদেশ।
ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন তৈরি পোশাক পণ্যের রপ্তানিকারকেরাও। বিশেষ করে ওভেন পোশাকের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কাপড় আমদানি করা হয়। যার একটি বড় অংশ চীন থেকে আসে। আবার বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ ডলারের প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানি বন্ধ হয়ে আছে। করোনা ভাইরাস বিস্তৃত হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আজ (রোববার) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন একটি বড় মার্কেট। সেখান থেকে হাজারো পণ্য আসে। তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল চীন থেকে আসে। সুতরাং দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। আগামীকাল (সোমবার) এ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। প্রতিবেদনে বোঝা যাবে সমস্যা কত গভীর।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক আছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়েই এর প্রভাব পড়বে। তবে কত কতটা গভীর প্রভাব পড়বে, তা সময়ই বলে দেবে। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ চাইলের দ্রুত আমদানি ও রপ্তানি গন্তব্য বদলে ফেলা সম্ভব নয়।
শুধু আমদানি রপ্তানিই নয়, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগও অনেক। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে বিপুল সংখ্যক চীনা। করোনার সংক্রমণ দীর্ঘায়িত হলে ঝুলে যাবে এসব প্রকল্পের কাজ। এতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে সঙ্গে ব্যয়ও বাড়বে।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এই সংকট চলমান থাকলে ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য। যার ফলে সার্বিক রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।