বাড়ি গেলেন চীন ফেরত ৩১২ বাংলাদেশি, থাকবেন আইইডিসিআর'র তত্ত্বাবধানে
-
১ ফেব্রুয়ারি চীনের উহান থেকে দেশে আসেন ৩১২ বাংলাদেশি।
চীন ফেরত ৩১২ বাংলাদেশি নাগরিককে ১৪ দিন আশকোনা হজ ক্যাম্পে পর্যবেক্ষণের রাখার পর আজ বিকেলে দ্বিতীয় দফায় স্ক্রিনিং শেষে সন্ধ্যায় তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে তারা বাড়িতে থাকলেও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর তত্ত্বাবধানে থাকবেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি চীনের উহান থেকে দেশে আসা এই ৩১২ জনকে পর্যবেক্ষণে রেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে করোনা ভাইরাসের কোনো উপস্থিতি পায়নি আইইডিসিআর। আর তাই সব ধরনের ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় তাদের নিজ বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
আজ (শনিবার) দুপুরে আইইডিসিআরের কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, বিকেলে স্ক্রিনিং ফর্ম পূরণের পর সবাইকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হবে। এছাড়া, মাস্ক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়ার পর তাদের বাড়ি পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, যদিও তারা ফ্রি তারপরও অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে তারে মাস্ক ও স্যানিটাইজার দিয়ে দেয়া হবে। এখান থেকে চলে যাওয়ার পর তাদের করণীয় কি সব পরামর্শ দেয়া হবে। এ পুরো কার্যক্রম শেষ করতে রাত হয়ে যাবে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাংলাদেশিরা বাড়ি ফেরার পরেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে আইইডিসিআর।
ঢাকায় কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন স্থগিত
এদিকে, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক আর সতর্কতার মাঝে রাজধানী ঢাকায় স্থগিত হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এসব প্রদর্শনীতে চীনের প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের অধিক সংখ্যায় অংশগ্রহণ নির্ধারিত থাকালেও তাদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) আয়োজনে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে আয়োজন হওয়ার কথা টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট মেশিনারির প্রদর্শনী। এটি ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ-সংক্রান্ত সবচেয়ে বড়ো প্রদর্শনী। কিন্তু ঐ প্রদর্শনী আপাতত বাতিল করা হয়েছে। বিটিএমএর সচিব মনসুর আহমেদ বলেন, এ প্রদর্শনীতে ৩৬টি দেশের ১ হাজার ৬৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানই প্রায় ৩০০। একই কারণে বাতিল হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক এক্সপো।
ঢাকায় বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট বড়ো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজকদের অন্যতম সেমস গ্লোবাল। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত তিনটি প্রদর্শনী স্থগিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফেব্রিক শো, খাদ্যপণ্য এবং মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট ও হেলথ ট্যুরিজমের প্রদর্শনী। চলতি মাস থেকে আগামী এপ্রিল নাগাদ এসব প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল।
মৃত্যুমিছিল থামছেই না
চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৩৩ জনে। এ রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মারা গেছেন ১৪৩ জন, আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৬৪১ জন। এতে আক্রান্তের সংখ্যা ঠেকেছে ৬৬ হাজার ৪৯২ জনে। এ পরিস্থিতিতে চোখের সামনেই স্বজনের অসহায় মৃত্যু দেখতে হচ্ছে অনেককে।
ইতোমধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, ফিনল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ ফেব্রুয়ারিতে চীনে সব ধরনের বিমান চলাচল স্থগিত করেছে।
করোনাভাইরাসের কারণে চীনের প্রতিবেশী সিঙ্গাপুরে আর্থিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং। শুক্রবার তিনি জানান, ইতোমধ্যে দেশটির অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব সার্সকে ছাড়িয়ে গেছে। চীনের পর সিঙ্গাপুরেই সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে।
এদিকে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরের কাছে পৃথক করে রাখা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের আরও ৪৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ২৯ জনই জাপানি নাগরিক। প্রমোদতরীটিসহ জাপানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৭-এ পৌঁছাল।
করোনভাইরাসের কারণে এশিয়া সফর বাতিল করার পরিকল্পনা করছে প্রমোদতরী শিল্প। এতে এ খাতের আয়ে প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে সারাবিশ্বে বিমান পরিবহন ব্যবসায়ের আয় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪০০-৫০০ কোটি ডলার কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।