করোনাভাইরাস: সিঙ্গাপুরে এক বাংলাদেশির অবস্থা আশঙ্কাজনক, গুজব না ছড়ানোর আহ্বান
-
সংবাদ সম্মেলনে (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা (ডানে)
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সিঙ্গাপুরে পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষনান টেলিফোন করে জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সিঙ্গাপুরে পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা এ বিষয়ে খোঁজ খবর রাখছেন। তবে আক্রান্ত এই বাংলাদেশি নাগরিকের ওষুধে কোনো কাজ করছে না।
আজ (বুধবার) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সংস্কার নিয়ে এক অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা এ বাংলাদেশি নাগরিকের বয়স ৩৯ বছর। তবে তার নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ কিছু মিথ্যা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারেনা। মুরগির গোশত খাওয়া, মাস্ক ব্যবহার করা থেকে শুরু করে বিদেশ ফেরত কোনো সুস্থ মানুষকে নিয়ে মিথ্যা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রতিদিনই আপডেট দেয়া হচ্ছে এবং করণীয় বিষয়গুলি বলা হচ্ছে। সুতরাং কোথাও কোনোরকম মিথ্যা গুজব ছড়ানো যাবে না এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার বাইরে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের কথায় কান দেয়া যাবে না।
বুধবার রাজধানীর মহাখালীস্থ নবনির্মিত নার্সিং অধিদপ্তরের নতুন ভবন পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের কাছে বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যখাত সবদিক দিয়ে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। ইতোমধ্যেই দেশের সকল প্রবেশ পথে ২ লাখেরও বেশি মানুষকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। সন্দেহজনক প্রায় ৭২ জন বিদেশ ফেরত মানুষকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত একজনও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা বলেছেন, দেশে সন্দেহভাজন করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ না করে সরকারি কর্মকর্তাদের উচিত সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করা, যাতে মানুষ আতঙ্কিত না হন।
সম্প্রতি সাতক্ষীরায় ছেলেকে নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের বল প্রয়োগ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তে জটিলতা তৈরি করবে।”
গুজব আতঙ্কে গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় রেনুকা বালা (৫৬) নামে এক নারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পুলিশ তার ছেলে রতন রপ্তানকে (৩৫) খুঁজছে এবং ‘তিনি (রতন) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে’ এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিলো বলে ইউএনবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে আরও বলা হয়, ভারত থেকে দেশে ফেরা রতন জ্বর ও কাশিতে ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি ভয়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাকে খুঁজতে শুরু করেন।

ফ্লোরা বলেন, “বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগের। এমন গুজবের কারণেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন।”
একইভাবে চীন এবং সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত আসা লোকজনও সামাজিক এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছেন।
ডাক্তার মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা আরও বলেছেন, “গুজবে প্রভাবিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনও দেশে ফেরত আসাদের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছেন। যা সন্দেহভাজন রোগীদের আত্মগোপনে যেতে বাধ্য করবে এবং প্রকৃত রোগীদের সনাক্তকরণে বাধার সৃষ্টি করবে।”
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া গেলে সরকারি কর্মকর্তা এবং জনগণকে হটলাইনের মাধ্যমে আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
করোনভাইরাস সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য জানতে বা সহায়তার জন্য হটলাইন নম্বরগুলো হলো- ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১ এবং ০১৯৩৭১১০০১১।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।