বাংলাদেশে ৭ জনের নমুনা পরীক্ষা: কোয়ারান্টাইনে ৪, আইসোলেশনে ৮
-
অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা
বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত সন্দেহে সাতজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কারো শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত করা যায়নি। এই মুহূর্তে চার জনকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। আর পর্যবেক্ষণের জন্য আটজনকে রাখা হয়েছে আইসোলেশনে।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘গত ২১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১২৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আমরা সাতজনের নমুনা পরীক্ষা করেছি। গতকাল যে সাতজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে সেখানে আমরা করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাইনি। তার মানে হচ্ছে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিনজন।'
আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত এই তিনজন বাদে হাসপাতালের আইসোলেশনে (বিচ্ছিন্নভাবে) আছেন আটজন। এই আটজন আক্রান্ত হয়েছেন এমন সন্দেহে তাদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আমরা আরো চারজনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রেখেছি। আইইডিসিআরে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রান্ত সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ২৫ জন। ২১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সেবা নিয়েছেন ২২৫ জন।’
করোনায় আক্রান্ত ৩ জনকে ছাড়পত্র কবে দেওয়া হবে জানতে চাইলে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে তাদের যে পরীক্ষা করা হয়েছে সেটা পর পর দুইবার নেগেটিভ না আসলে তাদের ছেড়ে দেওয়ার কোনো অনুমতি নেই।
ফ্লোরা বলেন, বিদেশ থেকে দেশে ফিরে ১৪ দিন সেলফ কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। এটাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই আমাদের হটলাইনে যোগাযোগ করুন। সব মিলিয়ে আমাদের ১২টি হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফোন করুন, পরামর্শ পাবেন। এছাড়াও আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ নাম্বারেও ফোন করা যাবে।
মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরের হটলাইনে কল দিয়েছেন দুই হাজার ৭৭৮ জন। গত ২১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত হটলাইনে মোট কলের সংখ্যা সাত হাজার ৭১০ জন। তবে এর মধ্যে বেশ কিছু কল আছে মাস্ক কোথায় পাবেন বা তার পরীক্ষা করার দরকার আছে কি না-এসব সংক্রান্ত।’
আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা আরও বলেন, এই রোগের কোনো প্রতিষেধক এখনো নেই। হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। নিয়মিত সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে। অসুস্থ হলে বাসায় থাকা উচিত। অসুস্থ অবস্থায় বাইরে যেতে হলে মাস্ক ব্যবহার করুন। হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন। বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তি বা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মেলামেশা আপাতত পরিহার করুন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।