করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে ২৪ ঘন্টায় মৃত ২২, আক্রান্ত ২,৩৮১
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i80344-করোনাভাইরাস_বাংলাদেশে_২৪_ঘন্টায়_মৃত_২২_আক্রান্ত_২_৩৮১
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ হাজার ৩৮১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৯ হাজার ৫৩৪ জন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ০১, ২০২০ ১১:৪৯ Asia/Dhaka
  •  করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে ২৪ ঘন্টায় মৃত ২২, আক্রান্ত ২,৩৮১

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ হাজার ৩৮১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৯ হাজার ৫৩৪ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২২ জন। এ নিয়ে এ যাবত মোট মৃত্যু হলো ৬৭২ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮১৬ জন। এর ফলে মোট সুস্থের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০ হাজার ৫৯৭ জনে। সোমবার দুপুরে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ তথ্য নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২টি ল্যাবের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করেছি ১৩ হাজার ১০৪টি। নমুনা পরীক্ষা করেছি ১১ হাজার ৪৩৯টি। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার ৩৬৯টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ২ হাজার ৩৮১ জন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৩৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ।’

অধ্যাপক নাসিমা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৮১৬ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ১০ হাজার ৫৯৭ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ২২ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ৬৭২ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।’

এর আগে রোববার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল ২ হাজার ৫৪৫ জন, মারা গেছে ৪০ জন। তার আগের দিন শনিবার করোনায় আক্রান্ত হয় ১ হাজার ৭৬৪ জন, মৃত্যু হয় ২৮ জনের। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর গত ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে দিনে দিনে এর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

বন্ধ হয়ে গেল ঢাবির করোনা পরীক্ষার ল্যাব

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আজ থেকে আর করোনাভাইরাসের কোনো নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ল্যাব পরিচালনায় আর্থিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ শুরু হওয়া, গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি একাডেমিক কাজে ব্যবহারসহ কয়েকটি কারণে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ  বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য বলেন, ‘আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। আর্থিক কারণে নয়, আমাদের আগে থেকেই কথা ছিল ৩১ মে পর্যন্ত আমরা এটা চালিয়ে যাব। গত ২৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এটা তো বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল নয়। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সময় দিতে হবে। ল্যাবের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি আমাদের বিভিন্ন বিভাগ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। এগুলো এখন সেখানে গবেষণার কাজে প্রয়োজন হচ্ছে। সেগুলো জীবাণুমুক্ত করে আবার সেখানে স্থাপন করতে হবে। মূলত এজন্য করোনার নমুনা পরীক্ষার কাজটা আর হচ্ছে না।’

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা ও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাবসহ মৌলিক চারটি কারণে ল্যাব বন্ধ হয়েছে বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাস রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান।

এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে  গত ৫ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস (সিএআরএস)-এর ল্যাবে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাস রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটি। গবেষণাগারে দুটি পিসিআর মেশিনে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করা হতো।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কিট, পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক খরচে চলতো এই কার্যক্রম। কিন্তু রোববার থেকে সীমিত পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ শুরু হওয়ায় নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে  বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।