বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯৩০, নতুন শনাক্ত ২৭৩৫
-
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও জনের ৪২ মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মারা গেলেন ৯৩০ জন। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৭৩৫ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৫০৪ জন।
আজ (সোমবার) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৪২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৮ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে আট জন, সিলেট বিভাগে এক জন, বরিশালে বিভাগে দুই জন, রংপুরে বিভাগে একজন, রাজশাহী বিভাগে এক জন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুই জন, খুলনা বিভাগে দুই জন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ ও নারী নয়জন। মোট শনাক্তের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ৫২টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬১টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৯৪৪টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৯৩১টি।
তিনি আরো বলেন, ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৫৭ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ৫০৭ জন।
এর আগে গতকালও সর্বোচ্চ ৪২ জনের মৃত্যু হয়। আর নতুন করে শনাক্ত হন ২৭৪৩ জন।
আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় আরও একজন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। এবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ সকাল ৮টার দিকে বাড্ডার এ এম জেড স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়ে গত ২৯ মে থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৪৩ বছর বয়সী এই চিকিৎসক।
ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেইফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিস-এফডিএসআরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ২১ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
কক্সবাজারে আরও ৪ এলাকা লকডাউন
ওদিকে, করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজার জেলার চারটি এলাকা লকডাউন করেছে প্রশাসন।
টেকনাফ পৌর এলাকা, চকরিয়া পৌর এলাকা ও উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়ন এবং উখিয়া উপজেলার কোটবাজার স্টেশন ও আশাপাশের ৩টি ওয়ার্ডকে নতুন করে ‘রেড জোন’ ঘোষণা দিয়ে লকডাউন করা হয়েছে।
রোববার সকাল ১১টায় কক্সবাজারের কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ‘রেড জোন’ ঘোষণা দিয়ে লকডাউন করার এ তথ্য জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও জেলা করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির সমন্বয়ক মো. আশরাফুল আফসার।
আগামী ২১ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত পর্যন্ত রেড জোন ঘোষিত এসব এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকবে।
এর আগে, শনিবার কক্সবাজার পৌর এলাকাকে দেশের ‘প্রথম রেড জোন’ ঘোষণা করে নতুন করে লকডাউন করা হয়েছিল।
লকডাউনের আওতায় থাকা এসব এলাকায় ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ সব ধরনের সভা-সমাবেশ বা গণজমায়েত বন্ধ থাকার পাশাপাশি কাঁচা বাজার, মুদির দোকান, মার্কেট ও বিপণী বিতান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। বন্ধ থাকবে ব্যক্তিগত ও যে কোন ধরনের গণপরিবহন। এসময় মানুষকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লক-ডাউন কবলিত এলাকায় ফার্মেসিসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন ও কোভিড-১৯ মোকাবিলার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি চলাচল করতে পারবে। এছাড়া সপ্তাহে দু’দিন (রোববার ও বৃহস্পতিবার) স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে খোলা থাকবে কাঁচা বাজার ও মুদির দোকানসহ নিত্যপণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।