করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার হিড়িক; নতুন রেড জোন বান্দরবান
বাংলাদেশে করোনা রোগীদের সেবায় হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটের কথা আগেই গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এবার সংকটের আশঙ্কা থেকে অনেকেই অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে বাসায় মজুদ করে রাখছেন বলে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বীকার করেছে।
আজ (মঙ্গলবার) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, তারা যেন এভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে আগাম মজুদ না রাখেন। কারণ এতে হাসপাতালে ভর্তি জরুরি রোগীদের প্রয়োজনে সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া, ডাক্তারের পরামর্শ বা দক্ষ টেকনিশিয়ানের সহযোগিতা ছাড়া অক্সিজের ব্যবহার বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।
এদিকে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এক দফা লাফ দিয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও আক্রান্তের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সংখ্যা ছুঁয়েছে। সোমবার (৮ জুন) থেকে মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৪৫ জন। গতকাল ছিল এ সংখ্যা ৪২। এ নিয়ে করোনায় এ যাবৎ মোট প্রাণহানি হলো ৯৭৫ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে রয়েছেন, ঢাকা বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১১, সিলেটের ২ রাজশাহী ২ এবং রংপুর ২ জন ।
তাছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ১৭১ জন। গতকাল এ সংখ্যা ছিল ২৭৩৫। এ যাবৎ শনাক্ত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৬৭৫ জন।
নতুন রেড জোন বান্দরবান
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার কারণে বান্দরবান সদর ও রুমা উপজেলাকে রেড জোন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম হোসেন রেজা এ তথ্য জানিয়েছেন ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২ টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর থাকবে। এর আগেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধ। সকল দোকান, মার্কেট, বাজার, হাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,ব্যক্তিগত ও গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। নিত্যপণ্য বহনকারী হালকা ও ভারী যানবাহন রাত ৮টা থেকে থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে।
মাগুরায় মানববন্ধন
ওদিকে, করোনা প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণে করোনা টেস্ট ও করোনা রোগীর চিকিৎসার যথাযথ আয়োজনসহ ৮ দফা দাবিতে মাগুরা জেলা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় গণকমিটির উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা দেশের মতো মাগুরা জেলাতেও করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মাগুরাতে দুইজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার পর তাদের নমুনা পরীক্ষা করে জানা গেছে তারা করোনা পজিটিভ ছিলেন। শুরু থেকে গণকমিটি মাগুরা জেলায় করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ নমুনা টেস্টের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে। আইসিইউ ও কমপক্ষে ৫টি ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু বরাবরের মতো মাগুরা জেলার মানুষের চিকিৎসা সেবার আয়োজনের দাবি উপেক্ষিতই রয়ে গেছে।
মানববন্ধন থেকে নেতৃবৃন্দ অন্য যে সব দাবি তুলে ধরেন তার মধ্যে রয়েছে- করোনা দুর্যোগের সময় শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা, বাসের ৬০% বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করা এবং দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী প্রতিটি পরিবারকে ন্যূনতম ৬ মাস আর্মি রেটে রেশন বরাদ্দ করতে হবে।
তাছাড়া, ২৫০০ টাকা বরাদ্দ ও বিশেষ ওএমএস কার্ড বিতরণের তালিকা অনলাইন ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ করা। ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি দলীয়করণ বন্ধ করা এবং করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় দলীয়করণ বাদ দিয়ে সর্বদলীয় গণকমিটি গঠন করারও দাবি জানায় গণকমিটি।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/আশরাফুর রহমান/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।