করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩,৪৭১
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i80613-করোনাভাইরাস_বাংলাদেশে_২৪_ঘণ্টায়_সর্বোচ্চ_৪৬_জনের_মৃত্যু_শনাক্ত_৩_৪৭১
বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪৬ জনের। এসময় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৪৭১ জন। একদিনের ব্যবধানে মৃত্যু ও শনাক্তের দিক দিয়ে এ দুটোই সর্বোচ্চ সংখ্যার রেকর্ড।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ১২, ২০২০ ১০:৩৩ Asia/Dhaka
  • অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা
    অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪৬ জনের। এসময় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৪৭১ জন। একদিনের ব্যবধানে মৃত্যু ও শনাক্তের দিক দিয়ে এ দুটোই সর্বোচ্চ সংখ্যার রেকর্ড।

আজ (শুক্রবার) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৯৫০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৯০টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩২২টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৩ হাজার ৪৭১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪৬ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৯৫-এ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৫০২ জন। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ২৪৯ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৬ শতাংশ।

করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লকডাউন পরবর্তী সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

'করোনা আক্রান্ত রোগী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না'

এদিকে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিববুল্লাহ হিল বাকি নদভী বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। করোনা রোগী হলেই তার সেবাশুশ্রুষা আমরা বাদ দিয়ে দিচ্ছি। হাদীসে আছে যতক্ষণ একজন ব্যক্তি রোগীর সেবা করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকবে। কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

তিনি বলেন, করোনায় মারা গেলে তার দাফন কাফনের সহযোগিতা থেকেও দূরে থাকছে কতিপয় আত্নীয়-স্বজন। এ ধরণের কাজ মোটেই উচিত হবে না। অনেক জায়গায় শোনা যাচ্ছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন কাফনে বাধা দেয়া হচ্ছে। অথচ করোনায় মৃত ব্যক্তির ৩ ঘন্টা পরে তার জীবাণুর অস্তিত্ব থাকে না বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্বীকৃত।

পেশ ইমাম বলেন, করোনায় মারা গেলে তার প্রতি কোনো খারাপ ধারণার পরিবর্তে উনি যে শহীদি মর্যাদা পেয়েছেন তার জন্য তার প্রতি সম্মানবোধ থাকতে হবে।

অন্যদিকে, নগরীর সেগুনবাগিচাস্থ 'মসজিদে নূর'-এর খতীব মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম সুবহানী খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে মুমিনের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। মহান আল্লাহ তার বান্দাদের পরিপূর্ণ মুমিন হিসেবে দেখতে চান। এ জন্য কখনো কখনো লাইলাতুল কদরের মতো মহাসুযোগ দান করেন। আবার নেতিবাচক পন্থায়ও আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়ার অবস্থা তৈরি করেন।

তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সর্বোপরি রসূল (সা.) এর সুন্নতের ওপর বেশি বেশি আমল করতে হবে। চলমান সঙ্কটে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রসূল (সা.) এর সুন্নতের কোনো বিকল্প নেই বলেও খতীব উল্লেখ করেন।

লালবাগের ইসলামবাগ বড় মসজিদের খতীব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি আজ খুৎবার বয়ানে বলেন, মুমিনকে যে কোনো পরিস্তিতিতে ঈমানের ওপর অবিচল থাকতে হবে। ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ধৈর্য্য ও সংযমের মাধ্যমে ঈমানী গুণ অর্জন করতে হবে। সক্ষমদেরকে অক্ষমদের পাশে থাকতে হবে। মাওলানা আফেন্দি বলেন, সকল ধরণের অমানবিক আচরণ বন্ধ করতে হবে। অনাচারের পথ ছেড়ে আল্লাহ ও তার রসূলের (সা.) পূর্ণ অনুগত হতে হবে। তা’হলেই আল্লাহর রহমত মুমিনের ওপর বর্ষিত হবে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।