তিস্তার পানি বণ্টন ও সীমান্ত হত্যা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i88262-তিস্তার_পানি_বণ্টন_ও_সীমান্ত_হত্যা_নিয়ে_ভারতের_পররাষ্ট্রমন্ত্রীর_বক্তব্যের_প্রতিক্রিয়া
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শংকর একদিনের সফরে ঢাকা এসে জানিয়ে গেছেন যে, তিস্তা নিয়ে আগের অবস্থানেই রয়েছে নয়াদিল্লি। তিনি আরো বলেছেন, সীমান্তে অপরাধ বন্ধ হলে থাকবে না হত্যাকাণ্ড।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মার্চ ০৫, ২০২১ ১২:৪০ Asia/Dhaka

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শংকর একদিনের সফরে ঢাকা এসে জানিয়ে গেছেন যে, তিস্তা নিয়ে আগের অবস্থানেই রয়েছে নয়াদিল্লি। তিনি আরো বলেছেন, সীমান্তে অপরাধ বন্ধ হলে থাকবে না হত্যাকাণ্ড।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সাথে গতকাল ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে এক বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৈঠক করেন উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে দরকার অপরাধ দমন করা- ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শমসের মবিন চৌধুরী বলেছেন, সীমান্তে অপরাধ আর হত্যাকে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই। ভারত ও শ্রীলঙ্কার সমুদ্র সীমানা লঙ্ঘনের দায়ে সেখানে গুলি করা হয় না। আটক করা হয়, বিচার করা হয়। আর বাংলাদেশ সীমান্তে যা করা হচ্ছে তা  বিচারবহির্ভূত হত্যা।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিস্তা নিয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির রাতেই এক টেলিভিশন টক শো’ তে বলেছেন, ভারত এ মুহূর্তে তিস্তা নিয়ে কোনো আলোচনায় যাচ্ছে না এটাই বাস্তব। তবে চীন ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহ ঘুরিয়ে মঙ্গোলিয়ার দিকে নেবার যে পরিকল্পনা করছে তাতে তিস্তায় আর পানিই মিলবে না।

উল্লেখ্য, তিস্তায় পানি প্রবাহ কমে যাবার কারণে উত্তরাঞ্চল ক্রমাগত মরুভূমি হতে শুরু করেছে এবং বর্ষায় এই অঞ্চলে বন্যাও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুষ্ক মৌসুমে উত্তরের নদী তিস্তার মূল অববাহিকায় পানিপ্রবাহের কোনো চিহ্ন নেই। অথচ তিন মাস আগেও সেখানে ছিল ঢল আর বন্যা।

দেশের সবচেয়ে বড় তিস্তা সেচ প্রকল্পের জন্য ১০ হাজার কিউসেক আর নদীর ন্যূনতম ধারা ধরে রাখতে ৪ হাজার কিউসেক পানি প্রয়োজন এখন। অথচ দুই-তিন হাজার কিউসেক পানির নিশ্চয়তাও নেই।

উজানে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের এক লাখ ১১ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য এলাকা কমতে কমতে ঠেকেছে ৫০ হাজার হেক্টরে।

এ ছাড়াও তিস্তার পানি শূন্যতা বাংলাদেশকে নানাবিধ সংকটে ফেলেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।