কুষ্টিয়ায় হোমিও চিকিৎসক হত্যার দায় স্বীকার করল আইএস
কুষ্টিয়ায় সদরের বটতৈল এলাকায় হোমিও চিকিৎসক মীর সানাউর রহমানকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএস বা দায়েশ।
বিশ্বব্যাপী জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী বেসরকারি সংস্থা মার্কিন সংস্থা সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ আইএস’র সহযোগী সংবাদ সংস্থা ‘আমাক’-এর বিবৃতির বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে। আইএস’র বিবৃতিতে হয়েছে, ‘বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কুষ্টিয়ায় খ্রিস্টধর্ম প্রচার করেন এমন এক চিকিৎসককে হত্যা করেছে আইএস’র সদস্যরা।’
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল এলাকায় ছানোয়ার রহমান (৬০) নামের এক হোমিও চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় চিকিৎসকের সঙ্গে থাকা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুজ্জামানও হামলার শিকার হয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল সকালে ছানোয়ার রহমান কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বটতৈল এলাকার শিশির মাঠের নিজ বাগানবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময় একটি মোটরসাইকেলে করে তিন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কোপায়। হোমিও চিকিৎসকের মৃত্যু নিশ্চিত করে মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর গতকাল বিকেলে র্যাব-১২-এর পরিচালক শাহাবুদ্দীন খান সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশে সম্প্রতি জঙ্গিদের যেসব হামলা শনাক্ত হয়েছে, তারা যে প্রক্রিয়ায় অপরাধ করেছে, তার সঙ্গে এই হত্যার মিল রয়েছে। তাই এটাকে মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে।

ছানোয়ার রহমান ও সাইদুজ্জামান দুজনেই কুষ্টিয়ার বিখ্যাত বাউল গানের ভক্ত ছিলেন। হোমিও চিকিৎসক মাঝে মাঝে নিজের বাড়িতে বাউল গানের আসরের আয়োজন করতেন বলে এএফপিকে জানিয়েছেন তাঁর শ্যালক ওবায়দুর রহমান।
এএফপি দাবি করেছে, বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার অধিকারী, ধর্মনিরপেক্ষ লেখক, ব্লগার এবং সংখ্যালঘু হত্যার ধারাবাহিকতায় গতকাল এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। গত কিছুদিনের মধ্যে এক বৌদ্ধভিক্ষু, একজন সমকামী অধিকারকর্মী, একজন নাট্যকর্মী, একজন উদারপন্থি অধ্যাপক, একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী দর্জি এবং সুফি মুসলিম নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আইএস এবং বাংলাদেশে আল-কায়েদার শাখা এসব হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। তবে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সরকার বারবারই বলে আসছে যে, দেশটিতে এই ধরনের জঙ্গি সংগঠনের কোনো কার্যক্রম নেই।#
পার্সটুডে/এআর/২১