ইরানের আকস্মিক জবাবের ভয়ে, ভয়াবহ আতঙ্কে দিন কাটছে ইহুদিবাদীদের
https://parstoday.ir/bn/news/event-i140908-ইরানের_আকস্মিক_জবাবের_ভয়ে_ভয়াবহ_আতঙ্কে_দিন_কাটছে_ইহুদিবাদীদের
তেহরানে ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়া যত দীর্ঘ হবে, ততই আতঙ্ক ও বিস্ময়ের মাত্রা এবং ইহুদিবাদী হানাদারদের বস্তুগত, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নেতিবাচক প্রভাব বাড়তে থাকবে।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
আগস্ট ২৩, ২০২৪ ১৫:১৪ Asia/Dhaka
  • ইরানের আকস্মিক জবাবের ভয়ে, ভয়াবহ আতঙ্কে দিন কাটছে ইহুদিবাদীদের

তেহরানে ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়া যত দীর্ঘ হবে, ততই আতঙ্ক ও বিস্ময়ের মাত্রা এবং ইহুদিবাদী হানাদারদের বস্তুগত, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নেতিবাচক প্রভাব বাড়তে থাকবে।

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়াহকে হত্যার পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার দিনক্ষণ প্রসঙ্গে জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সময় ও পরিস্থিতি বুঝে ইরান এমন হামলা চালাবে যে ইসরাইল ভাববারও সময় পাবে না।

ইসমাইল হানিয়াহ এবং ফুওয়াদ শেকারের শাহাদাতের পর, ইরানে নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ শক্তিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘোষণা করেছিলেন যে, তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে এই শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেবে।

ইসরাইলের রেডিও স্বীকার করেছে, হানিয়াকে হত্যার পর, ইহুদিবাদীরা এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসাবে প্রতিরোধ শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছে।

ইসরাইলের রাস্তায় সুনসান নীরবতা এবং প্রতিটি ইহুদিবাদীদের মুখে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কথা উল্লেখ করে ইসরাইলি রেডিও এ অবস্থাকে করোনা সময়ের অবস্থার মতো বলে বর্ণনা করেছে।

ইসরাইলের প্রচারমাধ্যমগুলো সীমান্তের ক্রসিং পয়েন্ট, বিমানবন্দরে বহু  ফ্লাইট বাতিল হওয়া যাওয়া এবং যাত্রীদের দুরবস্থার বিষয়েও কথা বলেছে।

ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও তাদের মিত্রদের সহায়তায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলার ধরণ, উদ্দেশ্য ও সময় জানার চেষ্টা করছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তেহরান ও বৈরুতে সম্প্রতি ইসরাইলের সন্ত্রাসী হামলার পর ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ইসরাইলের অর্থনৈতিক, সামরিক, নিরাপত্তা, সাইবার এবং গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

ইসরাইল সামরিক, নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও সাইবার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়া ছাড়াও, চলমান গাজা যুদ্ধের কারণে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছে অন্যদিকে লোহিত সাগর, ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরে ইয়েমেনিদের সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানের ফলে ইসরাইলের অর্থনীতিতে নতুন করে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

বর্তমানে গাজা যুদ্ধ এবং ইয়েমেনিদের পাল্টা প্রতিরোধের কারণে সমুদ্র বাণিজ্যে ইসরাইল যে বিপদে পড়েছে তা গাজা অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এবং খাদ্য,ওষুধ এবং অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস এই অঞ্চলে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইসরাইল এ বিপদ থেকে মুক্ত হবে না। অর্থাৎ ইসরাইলগামী কোনো জাহাজকে বাব আল-মান্দাব প্রাণালী অতিক্রম করতে দেয়া হবে না।

কিছুদিন আগে মিডিয়াগুলো এমন ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছিল যে, যদি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং বন্দীদের বিনিময়ের বিষয়ে দোহা আলোচনা সফল হয় তবে এটি কঠোর অবস্থান থেকে ইরানকে বিরত রাখতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ইসরাইল আলোচনার টেবিলে কেবল  তার নিজের স্বার্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেনের প্রচেষ্টাতেও কোনো কাজ হয়নি।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করায় বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি ইসরাইলের বিরামহীন বোমা বর্ষণে গাজায় আটকে পড়া ইসরাইলীও নিহত হয়েছে।

বন্দীদের মুক্ত করার অজুহাতে গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়েও ইসরাইল এখন পর্যন্ত বন্দী বিনিময় চুক্তির বাইরে তাদের একজন বন্দিকেও জীবিত মুক্ত করতে পারেনি।এমনকি ইসরাইলি বিমান হামলায় তাদের কিছু বন্দী নিহত হওয়ায় নেতানিয়াহু দেশের অভ্যন্তরে প্রচণ্ড সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।