নির্মাণাধীন দারখোভেইন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা: নিন্দা জানাল ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161490-নির্মাণাধীন_দারখোভেইন_পারমাণবিক_বিদ্যুৎকেন্দ্রে_মার্কিন_হামলা_নিন্দা_জানাল_ইরান
পার্সটুডে: ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (AEOI) দারখোভেইন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণস্থলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে "সন্ত্রাসী হামলা" বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় থাকা একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
(last modified 2026-07-20T09:24:18+00:00 )
জুলাই ১৯, ২০২৬ ২০:৫৪ Asia/Dhaka
  • ইরানের দারখোভেইন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
    ইরানের দারখোভেইন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

পার্সটুডে: ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (AEOI) দারখোভেইন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণস্থলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে "সন্ত্রাসী হামলা" বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় থাকা একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

AEOI-এর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় রোববার ভোর প্রায় ৩টা ৩৯ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র নির্মাণাধীন ওই স্থাপনায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

সংস্থাটি এ হামলাকে "আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী আগ্রাসী ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড" হিসেবে বর্ণনা করে জানায়, এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "দারখোভেইন প্রকল্প, যা ইরানি জাতির বৈজ্ঞানিক মর্যাদা ও আত্মনির্ভরতার অন্যতম প্রতীক, একটি অযৌক্তিক সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।"

AEOI জোর দিয়ে বলেছে, এই স্থাপনাটি ইরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমন্বিত সুরক্ষা (Comprehensive Safeguards) চুক্তির আওতায় সম্পূর্ণভাবে IAEA-এর তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীন, এবং এর সব কার্যক্রমই শান্তিপূর্ণ ও বৈধ।

সংস্থাটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতাভুক্ত একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

বিবৃতিতে IAEA-এর সাধারণ সম্মেলনের ৪৪৪ ও ৫৩৩ নম্বর প্রস্তাবের উল্লেখ করে বলা হয়, এসব প্রস্তাবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার বিরুদ্ধে হুমকি বা হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং IAEA-এর সংবিধির পরিপন্থী বলে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

IAEA-এর প্রতি আহ্বান জানিয়ে AEOI বলেছে, সংস্থাটির মহাপরিচালকের উচিত নিরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার ঊর্ধ্বে উঠে এই অপরাধের নিন্দা জানানো। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের হামলা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT), পারমাণবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং IAEA-এর সংবিধিকে আরও দুর্বল করে, তাই মহাপরিচালকের উচিত তাঁর আইনি দায়িত্ব পালন করা।

এছাড়া, AEOI বিশ্বের শান্তিপ্রিয়, স্বাধীনতাকামী ও সত্যনিষ্ঠ দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন এই আগ্রাসী তৎপরতার নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে ওঠা এ ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে।

বিবৃতির শেষে বলা হয়, "এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইরানি জাতির অদম্য সংকল্পে সামান্যতম ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না; বরং দেশের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা আরও বৃদ্ধি করবে।"

গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক হামলা শুরু করেছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন বাহিনী হরমোজগান প্রদেশের ছয়টি সেতু ধ্বংস করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন। #
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।