জ্ঞানেশ কুমারের বিদায় হবে, মোদি সরকারেরও পতন হবে: রাহুল গান্ধী
-
রাহুল গান্ধী (মাঝে)
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতন ঘটবে এবং তারপরই ভারতে "গণতন্ত্রের মেরামত" শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে তিনি তরুণদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ (শনিবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে রাহুল লেখেন, "জ্ঞানেশ কুমারকে বিদায় নিতে হবে। এ সরকারকেও বিদায় নিতে হবে। এর পরই গণতন্ত্র মেরামতের কাজ শুরু হবে।"
পোস্টের সঙ্গে তিনি সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলে "ইন্ডিয়া" জোটের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া নিজের বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপও যুক্ত করেন।
এর আগে গতকাল (শুক্রবার) ওই সেন্ট্রাল হলে জোটের এমপিদের উদ্দেশে রাহুল বলেছিলেন, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের চেয়েও "অনেক গভীর সমস্যা" রয়েছে এবং তার সমাধানে বর্তমান সরকারের পতন প্রয়োজন। তিনি বলেন, এটি এমন বিষয়, যার জন্য লড়াই করা এবং জীবন দেওয়া যায়।
রাহুলের দাবি, গত তিন-চার দিনে বিরোধীরা যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তা বজায় রাখতে পারলে সরকার পড়ে যাবে। তিনি আরও দাবি করেন, বিরোধীদের প্রতিবাদে সরকারের ভিত কেঁপে গেছে এবং সরকার এখন ভীতসন্ত্রস্ত।
"সবাইকে গ্রেপ্তার করুন"
এক্সের আরেকটি বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন রাহুল। তিনি লেখেন, "মি. মোদি, আপনার যা খুশি করুন। সব পুলিশকে ডাকুন: ১০,০০০, ২০,০০০, ৫০,০০০, আপনার যা ইচ্ছা। সব নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সব তরুণদের গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন।"
রাহুল আরও লেখেন, তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নরেন্দ্র মোদি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়ছেন এবং তাঁদের "একদম ভেতর থেকে" চেনেন। তাঁর ভাষায়, "এই লোকদের মূল বৈশিষ্ট্য কাপুরুষতা"। তিনি নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত, জ্ঞানেশ কুমার ও অজিত দোভালের নাম উল্লেখ করে বলেন, তাঁদের চারপাশের জায়গা ক্রমে ছোট হয়ে আসছে এবং বিরোধীরাই সেই জায়গা ছোট করে আনছে।
দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা, সমালোচনায় কংগ্রেস
সরকারের কড়া নিরাপত্তা ও দিল্লিজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপাল। এক্সে তিনি লেখেন, সব ট্রেন বন্ধ, ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, গণগ্রেপ্তার চলছে, দিল্লি লকডাউনে পরিণত হয়েছে এবং সিআরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, "মোদি-শাহ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিজস্ব জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে" এবং এক "একনায়কের" বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অহিংস আন্দোলন ও সত্যাগ্রহকে নির্মমভাবে দমন করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনে ভিন্নমত
এদিকে ভোটার তালিকার এসআইআর কার্যক্রম–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও আদেশের বিরুদ্ধে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে "দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস"-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। জবাবে কমিশন জানায়, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ভিন্নমত ও পর্যবেক্ষণ স্বাভাবিক আলোচনারই অংশ। তাদের সব আদেশের পূর্ণ আইনি বৈধতা রয়েছে এবং তা প্রতিষ্ঠিত সংবিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১০