সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে পুলিশের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়েছে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
-
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনেয়ী।
পার্সটুডে: ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনেয়ী জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন পর্যায়ে ইরানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে শত্রুপক্ষের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি এ বাহিনীর সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন। এ ছাড়া বাহিনীটির সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং তথ্য বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) পরিকল্পিত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।
তাঁর পূর্ণাঙ্গ বার্তাটি নিচে তুলে ধরা হলো।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
নিরাপত্তা মহান আল্লাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত। প্রিয় ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে—বড় শহর থেকে শুরু করে গ্রাম ও মহল্লার ক্ষুদ্রতম জনবসতি পর্যন্ত, বৈরী আবহাওয়া ও বিচিত্র ভৌগোলিক পরিস্থিতিতে দুর্গম সীমান্ত পাহারা দেওয়া থেকে শুরু করে পাহাড়, সাগর, সমতল, বনাঞ্চল এবং দেশের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলো পর্যন্ত—নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৃতিত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতার। তাঁরা ইরানের নিরাপত্তার অন্যতম মজবুত স্তম্ভ।
এই নিরাপত্তা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামাজিক ও নৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনসাধারণের স্বস্তি নিশ্চিত করে। এ ধরনের মূল্যবান সেবা আল্লাহর পথে জিহাদ হওয়ার পাশাপাশি জনগণের শক্তিশালী সমর্থনও লাভ করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেতৃত্ব ও সদর দপ্তর থেকে শুরু করে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত সর্বস্তরে এ বাহিনীর অবদান বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় এ ভূমিকার প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
অপরাধী মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুশিবির পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে আঘাত হানার জন্য যে বিশেষ গুরুত্ব ও তৎপরতা দেখিয়েছে, তা এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।
কিন্তু সমাজের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ভিত্তিগুলোর ওপর চালানো শত্রুপক্ষের এই ন্যক্কারজনক ও বিদ্বেষপূর্ণ আঘাত—যার ঐতিহাসিক নজির নেই— সাহসী সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সামান্যতম শিথিলতাও আনতে পারেনি। এমনকি রাস্তায় কিংবা যানবাহনে অবস্থান করেও তাঁরা তাঁদের নিজস্ব কর্মস্থল ও ঘাঁটিতে পালন করা দায়িত্ব ও কর্তব্য একইভাবে সম্পন্ন করেছেন।
এ কারণেই নির্যাতিত হয়েও শক্তিশালী ইরানি জাতি দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীদের নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার জন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
অন্যদিকে, সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সমাজের ভেতর থেকেই উঠে এসেছেন। জনগণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টিকারী আচরণের মাধ্যমে তাঁরা এই মূল্যবান প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলতে পারেন।
অনেক সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের পরিশ্রম ও আত্মত্যাগকে কিছু মানুষ স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে ধরে নিতে পারেন। কিন্তু তাঁদের এই অবমূল্যায়িত অবস্থান ও অখ্যাতিই মহান আল্লাহর দরবারে তাঁদের প্রতিদান আরও বাড়িয়ে দেয়।
নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর জনবল, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—সব দিক থেকেই সার্বিক শক্তিশালীকরণ প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং তথ্য বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকল্পিত ব্যবহার ফারাজার দায়িত্ব পালনের মান উন্নত করা ও কার্যক্রম সহজতর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পুলিশের মর্যাদাবান শহীদদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা ও তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করছি। এ বাহিনীর সব পরিবার, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেনাসদস্য ও সাহসী সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিশেষ করে ফারাজার সাহসী, অক্লান্ত ও বিচক্ষণ কমান্ডার এবং তাঁর প্রচেষ্টার প্রশংসা করছি।
আমাদের নেতা—আল্লাহ তাঁর আবির্ভাব ত্বরান্বিত করুন—এর দোয়ার বরকতে আশা করি, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা আরও সমুন্নত করার ক্ষেত্রে তাঁরা আগের চেয়েও বেশি সফল হবেন।
সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনেয়ী