পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা
তৃণমূল নেতা হত্যার জেরে নিহত কমপক্ষে ১২, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিজেপির
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার রামপুরহাটে ভাদু শেখ (৩৮) নামে এক তৃণমূল নেতা নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টা সহিংসতায় কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে প্রধান বিরোধীদল বিজেপি।
আজ (মঙ্গলবার) রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘এই রাজ্য ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগোচ্ছে।’ বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘রাজ্য জুড়ে অরাজকতার শাসন চলছে। মুখ্যমন্ত্রী, যিনি পুলিশমন্ত্রীও বটে, বিন্দুমাত্র লজ্জা থাকলে তার পদত্যাগ করা উচিত। ১০ জনকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হল। আর কথায় কথায় গুজরাট, উত্তর প্রদেশ দেখায় তৃণমূল! এই ব্যর্থতা মুখ্যমন্ত্রীর। আমার বার বার মনে হচ্ছে, এই রাজ্য ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগোচ্ছে।’
রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের মুখপাত্র ও রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ অবশ্য ওই ঘটনাটিকে স্থানীয় গ্রাম্য বিবাদ বলে দাবি করেছেন। আজ (মঙ্গলবার) এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য বলেন, পুলিশ এ ব্যাপারে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাতে বোমা নিক্ষেপের ফলে তৃণমূলের আঞ্চলিক নেতা ভাদু শেখ (৩৮) নিহত হয়। ওই ঘটনায় বীরভূমের রামপুরহাট এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ভাদু শেখ রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান ছিলেন। তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ হত্যার বদলা নিতে বগটুই গ্রামের পাঁচটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, ওই ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, ফায়ারব্রিগেড সূত্রে প্রকাশ, এ পর্যন্ত দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে তিন জনের ঝলসানো লাশ উদ্ধারের পর আজ মঙ্গলবার সকালে আরও সাত জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। বীরভূমের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী বলেন, একটি বাড়িতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ফটিক শেখ ও ছোট লালন শেখের পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে বিরাট পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছেছে। ঘটনাস্থলে গেছে সিআইডি এবং ফরেন্সিক টিম। নিহত ভাদু শেখ ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ভাদু শেখের ভাই বাবর শেখ নিহত হন। তিনিও সক্রিয়ভাবে তৃণমূল করতেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।