প্রশ্ন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের, পাল্টা জবাব তৃণমূলের
রোহিঙ্গাদের মতো সমস্যা উদ্বাস্তুদের হলে তৃণমূল কী দায়িত্ব নেবে?
ভারতের কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলকে নিশানা করে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা হয়েছে, মতুয়াদের সঙ্গে তা হলে তখন কী তৃণমূল তাদের দায়িত্ব নেবে?
তিনি আজ (সোমবার) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওই মন্তব্য করেন। শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়ের (মতুয়া)লিখিত সাংবিধানিক, সাংবিধানিক স্বীকৃতি কী আছে ভারতবর্ষে? আমরা যে ‘ওপার বাংলা’ থেকে এসেছি। মনে করুন কেন্দ্রীয় সরকারে কোনো একটা সরকার ভবিষ্যতে গঠন হল, ১০০ বছর পরে, ৫০ বছর পরে ৬০ বছর পরে গঠন হল, তারা যদি বলে, সেই সময়কালে কোন লোকগুলো বাংলাদেশ থেকে এসেছে, তাদের বংশধর কারা? যেটা রোহিঙ্গাদের সাথে হয়েছে, হতে পারে কোনো সরকারের মনে হল, এদের আমরা বোঝা নিতে পারছি না, এই লোকগুলোকে বের করে দাও। হতেই পারে, সরকার সবকিছুই করতে পারে। সেখানে সাংবিধানিক যদি স্বীকৃতি থাকে, এই সম্প্রদায়, বা বিশেষ করে ‘উদ্বাস্তু’ বা আমাদের ‘মতুয়া’ সম্প্রদায়, ‘নমশূদ্র’ সম্প্রদায়, ‘রাজবংশি’ এরা যারা এসেছে ওপার থেকে, তাদের একটা সাংবিধানিক জায়গা তৈরি হল (সিএএ)। এখানে যদি সাংবিধানিক জায়গা না তৈরি হয়, ‘রাজ্য সরকার’ যে গলা ফাটাচ্ছে, ভোটার কার্ড থাকলে আপনি নাগরিক। কিন্তু ৫০ বছর পরে কী সেই দায়িত্ব নেবে?’
এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র শান্তনু সেন এমপি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘তিন বছর আগে সংখ্যাধিক্যের জোরে, গাজোয়ারি করে একটা বিল পাশ করানোর পর, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পরেও তিন বছরের মধ্যে রুল ফ্রেম করতে পারেনি। ‘সিএএ’ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা একেক রাজ্যে একেক রকম কথা বলে। অমিত শাহ (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) বাংলায় এসে একরকম কথা বলেন, অসমে গিয়ে আরেকরকম কথা বলেন। তাদের রাজ্য নেতৃত্ব এক ধরণের কথা বলেন, তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আরেক ধরণের কথা বলেন।’ ‘সিএএ’ হচ্ছে বিজেপির কাছে সাপের ছুঁচো গেলা। আর মতুয়াদের জন্য (মুখ্যমন্ত্রী) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ে বড় দরদি কেউ নেই’ বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল মুখপাত্র শান্তনু সেন এমপি। #
পার্সটুডে/এমএএএইচ/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।