ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ মানি না,মানব না: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
https://parstoday.ir/bn/news/india-i126616-ইউনিফর্ম_সিভিল_কোড’_মানি_না_মানব_না_মমতা_বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে বলেছেন, ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ মানি না, মানব না।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ০৯, ২০২৩ ১৫:০২ Asia/Dhaka
  • ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ মানি না,মানব না: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে বলেছেন, ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ মানি না, মানব না।

তিনি আজ (বুধবার) বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঝাড়গ্রামে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন। মমতা কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে নিশানা করে বলেন, ‘হঠাৎ করে বলছে এখন ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ (অভিন্ন দেওয়ানি বিধি) করো। মানে ওদের নিয়মে বিয়ে করতে হবে। কেন করবে? আদিবাসীদের বিয়ের পদ্ধতি, মুসলিমদের বিয়ের পদ্ধতি আলাদা, হিন্দুদের আলাদা, হিন্দুদের মধ্যে সাব-কাস্ট যারা আছেন তাদের আলাদা, পারসিকদের আলাদা, জৈনদের আলাদা, পাঞ্জাবিদের আলাদা পদ্ধতি। এটা বুঝতে হবে। গায়ের উপর চাপিয়ে দিলেই হবে না। তাই আমি আজকে বলে যাচ্ছি ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ মানি না, মানব না। যা চলছে তাই চলবে। অর্থাৎ, যে যার স্বাধীন মতো জামা কাপড় পরবে, খাওয়া দাওয়া করবে, পড়াশোনা করবে, চলাফেরা করবে, তার ধর্মকে প্রতিপালন করবে- এটাই আমার বলার।’    

ভারতে বহুলালোচিত প্রস্তাবিত ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ বা ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’র বিরুদ্ধে গতকাল (মঙ্গলবার) কেরালা বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব পাস হয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মিজোরাম বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে দেশে অভিন্ন দেওয়ানী বিধি বাস্তবায়নের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে একটি সরকারী প্রস্তাব পাস হয়েছিল। এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’র বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।  

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার সম্প্রতি দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের লক্ষ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। এর বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহল থেকে  প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। ভারতে মুসলিমদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে শরীয়াহ বিধি চালু রয়েছে। কিন্তু ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’কার্যকর হলে সেই বিধি গুরুত্ব হারাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরকম কোনো আইন বাস্তবায়িত হলে বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, বা সম্পত্তির উত্তরাধিকারের, দত্তক ইত্যাদির মত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সম্পদ্রায়ের মানুষজন নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী যে ভিন্ন ভিন্ন ‘ব্যক্তিগত আইন’ অনুসরণ করেন, তা আর থাকবে না। ধর্ম, লিঙ্গ, বা যৌন অভিরুচি নির্বিশেষে সবার জন্য একটিই অভিন্ন আইন হবে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/৯       

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন