বিশেষ ধর্মের মানুষদের টার্গেট করে কোনো আইন সংবিধান সম্মত নয়: অধীর রঞ্জন
https://parstoday.ir/bn/news/india-i132956-বিশেষ_ধর্মের_মানুষদের_টার্গেট_করে_কোনো_আইন_সংবিধান_সম্মত_নয়_অধীর_রঞ্জন
ভারতে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগেই বহুলালোচিত ও বিতর্কিত সংশোধিত  নাগরিকত্ব আইন (সিএএ/ক্যা) কার্যকর হওয়ার জল্পনা ছড়ানোয় রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ০৪, ২০২৪ ১৫:১৭ Asia/Dhaka
  •  বিশেষ ধর্মের মানুষদের টার্গেট করে কোনো আইন সংবিধান সম্মত নয়: অধীর রঞ্জন

ভারতে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগেই বহুলালোচিত ও বিতর্কিত সংশোধিত  নাগরিকত্ব আইন (সিএএ/ক্যা) কার্যকর হওয়ার জল্পনা ছড়ানোয় রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সম্প্রতি বলেছেন, এ সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত। অনলাইন পোর্টাল তৈরি। গোটা প্রক্রিয়াটি অনলাইনে হবে। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ওই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে টার্গেট করেছেন। 

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি বলেছেন, চার/পাঁচ বছর হয়ে গেল এখনও ওই আইনের রুল তৈরি করতে পারেনি। রুল তৈরি করবে কখন? ভোটের আগে আরেকবার ধোঁকা দেবে। ওদের মূল লক্ষ্য সেটা হচ্ছে বিভাজনের রাজনীতি করা। একটা বিশেষ ধর্মের মানুষকে (মুসলিম) টার্গেট করে কোনো আইন ভারতের সংবিধান সম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি।

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা বিজেপিকে টার্গেট করে বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দিয়েছেন, ‘সিএএ’ এই বাংলায় হবে না। এটা যারা লোকসভা নির্বাচনের আগে কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তারা কিন্তু আইন প্রণয়ন করলেও  নির্দেশিকা ঠিক না হওয়ায় তা আরম্ভ করতে পারছেন না। এগুলো কোথাও না কোথাও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা বলেও মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা।

ধর্মের ভিত্তিতে কী ভাবে কাউকে নাগরকিত্ব দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন  তুলেছেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মণীশ তিওয়ারি এমপি। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের মূল ভিত্তি হল ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। তাই কী ভাবে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়া সম্ভব? তা ছাড়া বিষয়টি এখনও সুপ্রিম কোর্টের বিচারধীন। যতক্ষণ না দেশের শীর্ষ আদালত এ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না নেয়, ততদিন ওই আইনের মাধ্যমে কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়া সাংবিধানিক ভাবে অনৈতিক।’ এটা পরিষ্কার যে, এটা (সিএএ)  মেরুকরণের অস্ত্র  হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ।    

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা ‘সিএএ’ আইনে ‘মুসলিমদের বাদ’  দিয়ে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়িত হয়ে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

অন্যদিকে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা ‘সিএএ’–এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ২৩২টি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের দাবি- তারা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিরোধী নন। কিন্তু ওই আইনে (সিএএ) ‘ধর্মের ভিত্তিতে যে বৈষম্য’ করা হয়েছে, তারা সেই বৈষম্যের বিরোধী। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/৪ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।