অসমে উচ্ছেদ অভিযানের নামে মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগ: বনধের ডাক আমসু’র
-
উচ্ছদ অভিযানের নামে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ
অসমের কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের নামে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে অসম বনধের ডাক দিয়েছে অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বা ‘আমসু’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অসম বন্ধের ডাক দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অসমের কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বসতি গড়ে তোলা হয়েছিল এমন অভিযোগে সোমবার উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে পুলিশের গুলিতে আঞ্জুমা খাতুন ও ফকরুদ্দিন নামে দু’জন নিহত এবং অন্য ১০ জন আহত হন। যদিও গুলিতে নিহত হওয়ার কথা পুলিশ মানতে রাজি হয়নি।
পুলিশি অভিযানে হাতি, বুলডোজার, রোলার ইত্যাদি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট এলাকার ঘরবাড়ি। মানুষজন ক্ষতিপূরণের দাবিতে প্রতিরোধ গড়ে তুললে এক পর্যায়ে তাদের লাঠিপেটা করা, কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়াসহ গুলি চালালে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বিজেপি শাসিত অসম সরকারের ওই অমানবিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ, আইআইউডিএফ প্রধান মাওলানা বদরউদ্দিন আজমল প্রমুখ।
উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের গুলি চালানোর প্রতিবাদে আজ সিপিআই(এম), সিপিআইসহ ১১ টি রাজনৈতিক দল গুয়াহাটিতে মিছিল করবে বলে জানিয়েছে।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেছেন, উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে ‘জাতি, মাটি ও ভেটি’ রক্ষা করার কথা বলা হচ্ছে। তার প্রশ্ন, ‘হিন্দু হলে জাতি বলা হচ্ছে, মুসলিমরা কী অসমিয়া জাতির অন্তর্ভুক্ত নয়? মুসলিমদের উচ্ছেদ করা হলে জাতি রক্ষা হবে, বলার অর্থ কী? এভাবে কী বার্তা দিতে চাচ্ছে বিজেপি মিত্র জোট সরকার?’
তরুণ গগৈ জানান, উচ্ছেদ হওয়া লোকজনের কেউই অবৈধ দখলদার নয় এবং মারিগাঁওয়ে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ওইসব মানুষ তৎকালীন অগপ সরকার ওই অঞ্চলে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দেয়। সরকার যদি তাদের বসবাসের সুযোগ করে দেয় তাহলে তারা অবৈধভাবে বসবাসকারী হয় কী করে? প্রশ্ন তুলেছেন গগৈ।
রাজ্যের সাবেক বনমন্ত্রী রাকিবুল হোসেন বলেন, ‘বান্দরডুবি, দেওচুর পালখোয়া এলাকা কাজিরাঙ্গার অন্তর্ভুক্ত নয়। এই এলাকার জমি বনবিভাগের নয়। তা সত্ত্বেও বিজেপি মিত্রজোট সরকার কেবলমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে ওই অভিযান চালিয়েছে।’
এআইইউডিএফ প্রধান মাওলানা বদরউদ্দিন আজমল ওই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘শুধু মুসলিমদের জন্যই কী পুলিশের গুলি জমিয়ে রাখা হয়েছিল?’ উচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিরা কেউ বাংলাদেশি বা অবৈধভাবে বসবাসকারী নয়। তারা মুসলিম হওয়ার কারণেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলেও মন্তব্য করেন আজমল। জাঠ আন্দোলন অথবা বেঙ্গালুরুর প্রতিবাদকারীদের সামলাতে যদি পুলিশ সংযম দেখাতে পারে তাহলে অসম পুলিশ কেন তা পারল না- সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
অসম সরকারের পরিষদীয় মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারি সাফাই দিয়ে বলেছেন হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। যদিও রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেছেন, ‘সরকার আরো এক মাস অপেক্ষা করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে উচ্ছেদ অভিযানে নামলে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি ঘটত না।’
আজ গণমাধ্যমের একটি সূত্রে প্রকাশ, শুধু কাজিরাঙ্গা এলাকাই নয়। দুই মাস আগে বিটিসি এলাকার চিরাং জেলায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামের ১২০০ টি পরিবার উচ্ছেদ করে প্রায় ৩৮ হাজার একর জমি আরএসএস ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী রামদেবকে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি জোট সরকার। মুসলিমদের রাজ্য ছাড়া করার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী আরএসএসের নির্দেশে বেছে বেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছেন বলেও ওই সুত্রটি জানিয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২০