'স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার কোনো সরকার কেড়ে নিতে পারে না'
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেছেন, এদেশে সকলের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে। কোনো সরকার সেই স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি দেশে গোরক্ষকদের হয়রানি, ঘর ওয়াপসি (ঘরে ফেরা), ধর্মান্তরকরণ ইত্যাদির কথা তুলে ধরে 'দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে' বলে মন্তব্য করেন।
আজ (বুধবার) বিকেলে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার গোপালনগর থানা এলাকার নুড়িতলা বাজারে এক জনসভায় তিনি ওই মন্তব্য করেন।
আসন্ন ঈদুল আজহার সময় যাতে রাজ্যে বিরাজমান শান্তি অক্ষুণ্ণ থাকে সেজন্য সবার উদ্দেশে আহ্বান জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে ‘আচ্ছে দিন’ কোথায়- সেই প্রশ্ন তোলেন কামরুজ্জামান। বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তাও পূরণ করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরতে কামরুজ্জামান বলেন, ‘ব্লকগুলোতে ভোটার লিস্টে নাম তোলা ও সংশোধনের জন্য কর্মী পাওয়া যায়। কিন্তু মুসলিম ছেলে মেয়েদের ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) সার্টিফিকেট দেয়ার মতো কর্মী পাওয়া যায় না। এটি হচ্ছে প্রত্যক্ষভাবে প্রশাসনিক বঞ্চনা। এই বঞ্চনার অবসান না হলে রাজ্য সরকার যতই ওবিসিদের জন্য বড়বড় আইন তৈরি করুক না কেন, যদি তৃণমূল স্তরে, ব্লক লেভেলে প্রশাসনিক যারা দায়িত্বশীল উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের তাদের যদি আন্তরিকতার অভাব থাকে, তাহলে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সমাজের মূল স্রোতে টেনে তোলা সম্ভব হবে না।‘
তিনি রাজ্যে মুসলিমরা কিভাবে পিছিয়ে আছেন তা বোঝানোর জন্য সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদে মুসলিম সমাজের নিদারুণ দরিদ্রতা ও অশিক্ষার কথা উল্লেখ করে সেখানে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ওই সভায় দলিত নেতা ও সাম্য, শান্তি, সম্প্রীতি মঞ্চের রাজ্য সভাপতি সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস-সহ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন ও ইমাম-মুয়াজ্জিন কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩০