নেতানিয়াহুর সফরকে ঘিরে ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে: পশ্চিমবঙ্গ জামায়াত
ইহুদিবাদী ইসরাইল গোটা বিশ্বজুড়ে জুলুম নির্যাতন চালানোয় নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভারত সফরের প্রতিক্রিয়ায় ওই মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের আমীর মুহাম্মদ নূরুদ্দিন।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে আজ (বুধবার) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার নিজ রাজ্য গুজরাট সফর করছেন। আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে সবরমতী আশ্রম পর্যন্ত দুই নেতা ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিশাল রোড শো করেন। পরে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিবিজড়িত সবরমতি আশ্রমে পৌঁছে চরকা কাটেন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী।
ভারতে মহাত্মা গান্ধীকে 'জাতির জনক ও অহিংসার পূজারী' হিসেবে মনে করা হয়।
এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামী হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের আমীর মুহাম্মদ নূরুদ্দিন আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রোড শো করছেন বা তাকে যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন- এসবে একটু বাড়াবাড়িই করা হচ্ছে। নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক হবে না হবে তা আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতেই হবে। কিন্তু এরমধ্যে গান্ধীজিকে জড়িয়ে নেয়া এবং গান্ধীজির চরকা কাটা এসব করে আসলে বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে। একদিকে মানুষের উপরে জুলুম, নির্যাতন অবিচার, অন্যদিকে গান্ধীজির চরকা কেটে তার নীতি অনুসরণের কথা প্রকাশ্যে আনা এগুলো মানুষকে ধোঁকা দেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।’
মুহাম্মদ নূরুদ্দিন বলেন, ‘নেতানিয়াহুর ভারত সফরকে ঘিরে ভারতে শান্তিকামী, স্বাধীনতাকামী মানুষদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠন জামায়াতে ইসলামী হিন্দ, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, মুসলিম মজলিশ-ই মুশাওয়ারাত, মিল্লি কাউন্সিল প্রভৃতি সংগঠনের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহু'র ভারত সফরের বিরোধিতা করা হয়েছে এবং তারা তাদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। ভারতের মানবতাবাদী বহু সংগঠন নেতানিয়াহুর এই সফরকে ভালোভাবে মেনে নেননি। তার কারণ হচ্ছে নেতানিয়াহু এমন একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী যে দেশ গোটা বিশ্বে অরাজকতা সৃষ্টি করা, অশান্তি সৃষ্টি করা এবং গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার কাজ করে চলেছে।’
তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হওয়া সত্ত্বেও সেদেশের এক একটি অঞ্চল ইসরাইল জোর করে দখল করে নিচ্ছে। ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক জেরুজালেমকে সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলের রাজধানী হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। নেতানিয়াহু ওই ঘোষণাকে বাস্তবায়িত করার জন্য গোটা দুনিয়াজুড়ে চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশ সফর করে এ ব্যাপারে সমর্থন আদায় করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফ্রান্স, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেউই আমেরিকার পাশে থাকেনি। অবশেষে জাতিসংঘে ওই প্রস্তাব খারিজ হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

মুহাম্মদ নূরুদ্দিন বলেন, ‘ভারত চিরকালই নির্জোট আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং সবসময় তারা ফিলিস্তিনিদের সমর্থন জানিয়ে এসেছে। কিন্তু ভারত সরকার ফিলিস্তিনিদের পরিবর্তে ইসরাইলকে তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চায়। সেজন্য ইসরাইলের সঙ্গে তারা সখ্যতা তৈরি করছে। ভারত সরকারের ওই পরিবর্তন মানবতা, গণতন্ত্র, ভারতীয় ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয় বলে ভারতের বিশিষ্ট নাগরিকরা মনে করে।’
ফিলিস্তিনের মজলুম জনগণের প্রতি ভারতের সহানুভূতি ঐতিহাসিকভাবে রয়েছে, কিন্তু ভারত সরকার সেই নীতি থেকে সরে আসছে বলেও মুহাম্মদ নূরুদ্দিন মন্তব্য করেন#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৭