অসম বিধানসভায় শুক্রবারের ধাঁচে বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস ছুটি দাবি বিজেপির, তীব্র প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/india-i64694-অসম_বিধানসভায়_শুক্রবারের_ধাঁচে_বৃহস্পতিবার_অর্ধদিবস_ছুটি_দাবি_বিজেপির_তীব্র_প্রতিক্রিয়া
ভারতের অসম বিধানসভায় শুক্রবার জুমা নামাজের জন্য অর্ধদিবস ছুটি প্রথার পাল্টা হিসেবে এবার বৃহস্পতিবার পুজোর জন্য একই ঘোষণার দাবি জানালেন বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেবসহ ১০ বিধায়ক। পুজোর ছুটি না দেয়া হলে জুমা নামাজের জন্য অর্ধদিবস ছুটি বাতিল করতে হবে বলে বিজেপি বিধায়কদের দাবি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
অক্টোবর ০১, ২০১৮ ০৭:৫৪ Asia/Dhaka

ভারতের অসম বিধানসভায় শুক্রবার জুমা নামাজের জন্য অর্ধদিবস ছুটি প্রথার পাল্টা হিসেবে এবার বৃহস্পতিবার পুজোর জন্য একই ঘোষণার দাবি জানালেন বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেবসহ ১০ বিধায়ক। পুজোর ছুটি না দেয়া হলে জুমা নামাজের জন্য অর্ধদিবস ছুটি বাতিল করতে হবে বলে বিজেপি বিধায়কদের দাবি।

বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেবের নেতৃত্বে বিধায়ক যোগেন মহন, ভাস্কর শর্মা, চক্রধর গগৈ, তেরস গোয়ালা, ঋতুপর্ণ বরুয়া, মৃণাল শইকিয়া, রূপক শর্মা, বিমল বরা এবং সুরেন ফুকন বিধানসভার স্পিকার হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামীকে ওই দাবি জানিয়ে এরইমধ্যে চিঠি দিয়েছেন।

গেরুয়া শিবিরের ওই বিধায়কদের দাবি, মুসলিম বিধায়কদের জুমা নামাজ পড়ার জন্য যদি বিধানসভার অধিবেশনে বিরতি দেয়া হয় তাহলে হিন্দুদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্যও সেই ব্যবস্থা থাকবে না কেন?

এ প্রসঙ্গে অসম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক এবং দ্বীনি তালিমী বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি আজ (সোমবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ওরা যদি ছুটি আদায় করতে পারেন তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু শিলাদিত্য দেব আসলে নিজের অস্তিত্বকে মজবুত করার জন্য এসব উল্টোপাল্টা মন্তব্য করছেন। উনি এরআগে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) সম্পর্কেও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন। এভাবে মাঝেমধ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করে উনি নিজেকে হাইলাইট করাসহ আরএসএসের কাছে তার নিজের মূল্য ও অবস্থান বাড়াবার জন্য চেষ্টা করছেন। দ্বিতীয়ত, সমস্ত ভারতবাসী জানেন, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য বিজেপি’র কাছে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ ও ‘হিন্দুত্ব’র স্লোগান ছাড়া কোনো এজেন্ডা নেই।’

মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি

মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি বলেন, ‘২০১৪ সালে ওরা মানুষকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা পূরণ করতে পারেনি। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ভারতবাসীকে মূর্খ বানিয়ে সাম্প্রদায়িকতার নামে ভোটকে মেরুকরণ করার কৌশলের অন্তর্গত ওই পদক্ষেপ। আমাদের বক্তব্য হল, বৃহস্পতিবার যদি হিন্দুদের কোনো পুজো থাকে এবং সেজন্য যদি ওরা দাবি করেন, তা করুন এতে আমাদের বলার কিছু নেই।’

মাওলানা আব্দুল কাদির বলেন, ‘জুমার নামাজের জন্য ছুটি তো আমাদের লাগবেই, সেজন্য আমরা কোনো আপোস করতে পারব না। প্রাক-স্বাধীনতার সময় থেকে জুমা নামাজের বিরতি দেয়ার প্রথা চলে আসছে এবং তার বিরোধিতা যদি কেউ করে তাহলে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য তা করছেন। সরকার নিশ্চয় তা গ্রহণ করবে না। যদি দেখা যায় সরকার তা গ্রহণ করতে চলছে তখন গণতান্ত্রিকভাবে নিশ্চয়ই তার বিরোধিতা করা হবে।’

বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেবের দাবি, শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশন অর্ধছুটির হলে বৃহস্পতিবারও তাই করতে হবে। কেননা হিন্দুদের কাছে বৃহস্পতিবার হল গুরুবার। তিনি বলেন, ‘আমরা ওইদিন মন্দিরে, নামঘরে যাই অনেকে ব্রত পালনও করেন। সেজন্য বিধানসভার অধিবেশন বৃহস্পতিবার অর্ধছুটির হলে হিন্দু বিধায়কদের পুজো-অর্চনায় সুবিধে হয়।’

কংগ্রেস, এআইইউডিএফ এবং অগপ বিধায়কদের একাংশের মতে, গেরুয়া শিবিরের ওই বিধায়কদের আসল উদ্দেশ্য হল যেকোনোভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করে শুক্রবারে অর্ধছুটির প্রথা বাতিল করা।

কোনো কোনো বিধায়কের মতে, বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব ও অন্য ন’জন বিধায়ক আগে ‘রবিবাসরীয় ছুটি’র  দিনকে বাতিল করার দাবি তুলুন। কারণ, রবিবারের বন্ধটাও ধর্মীয়রীতির সঙ্গে জড়িত। খ্রিস্টানদের প্রার্থনার দিন রবিবার। বিজেপি’র ওই দশ বিধায়কের অবশ্য রবিবার নিয়ে কোনো আপত্তি নেই।

বিধানসভায় এআইইউডিএফ-এর দলনেতা হাফিজ বশির আহমেদ কাশেমি বলেন, ‘শুক্রবারের ঐতিহ্য সেই ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ দিন শুক্রবার বা জুমাবার। মুসলিমরা ওই দিনটিকে সাপ্তাহিক ঈদের চোখেও দেখেন।’

হাফিজ বশির আহমেদ কাশেমি হিন্দু বিধায়কদের দাবি মর্যাদা দেয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করে আলোচনার মধ্যদিয়ে সর্বজন সিদ্ধান্তে আসা যায় বলে মন্তব্য করেছেন।

রাজ্যটিতে এরআগে মাদ্রাসায় শুক্রবার ছুটির ঐতিহ্য বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেময় অনেক প্রতিবাদের ঢেউ উঠলেও হিমন্ত তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তার ওই পদক্ষেপে উৎসাহিত হয়ে বর্তমানে বিজেপি’র দশ বিধায়ক বিধানসভায় জুমাবারে অর্ধদিবস ছুটির ঐতিহ্য বাতিল করার খেলায় নেমেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১