হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার অর্থ হলো ইরানকে নিরস্ত্র করা!
-
ইরানের দৈনিক কেইহান পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হোসেইন শরিয়তমাদারি
পার্সটুডে- ইরানের দৈনিক কেইহান পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হোসেইন শরিয়তমাদারি এই পত্রিকায় একটি নিবন্ধে লিখেছেন,
১- দুর্ভাগ্যবশত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংলাপ এবং বার্তা বিনিময়ে জড়িত কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিরা আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে জনসাধারণকে সঠিক প্রতিবেদন বা পর্যাপ্ত তথ্য দেন না (!)। তবে, একই সময়ে গণমাধ্যম, বিদেশী কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞরা যাদের মধ্যে কয়েকজন আলোচনায় দায়িত্বে রয়েছেন, তারা অল্প সময়ের ব্যবধানে তাদের বক্তব্য এবং কলম ব্যবহার কোরে এমন সংবাদ ও প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, যার বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও, জনমত গঠনে কার্যকর হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে আল জাজিরার একজন প্রতিবেদকের কথা উল্লেখ করা যায় যিনি বলেছেন, "মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া"! যদি সত্য হয় তাহলে বলতে হবে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রকৃত অর্থ হলো শত্রুদের আগ্রাসন এবং সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আক্রমণের বিপরীতে ইরানকে নিরস্ত্র করা।
২- সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসলামী ইরানের শত্রুদের নতজানু করার অন্যতম প্রধান এবং সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হলো হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া এবং এই কৌশলগত জলপথের উপর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আইনগত সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এই অবস্থায়, এটি খুলে দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের আইনগত সার্বভৌমত্ব বিলুপ্ত করা হলে বিন্দুমাত্র সন্দেহ যে ইরান কার্যত নিরস্ত্র হয়ে পড়বে।
৩- এখন, শত্রুদের বৈরিতা ও ষড়যন্ত্র মোকিাবেলায় হরমুজ প্রণালীর প্রতিরোধমূলক ভূমিকার কয়েকটি ইতিবাচক উদাহরণ ও দিক দেখে নেওয়া যাক!
* তেলবাহী জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের আইনগত অধিকার থেকে বছরে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ থেকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার আয় হবে ইরানের। সুতরাং, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ফল হলো আমাদের দেশের জন্য একটি মারাত্মক অর্থনৈতিক আঘাত।
* তেল ও তেলজাত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, যার ফলে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে।
* নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীদের পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলার একটি অত্যন্ত কার্যকর হাতিয়ার হচ্ছে হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ।
* ইরানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর কষাকষির ক্ষেত্রে হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্র বিরাট ভূমিকা রাখবে।
* বিশ্বের অর্থনৈতিক ধমনী নিয়ন্ত্রণকারী একটি দেশ হিসেবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইরানের জন্য ভূমিকা তৈরি হবে।
* "পেট্রোডলার"-এর সাথে গুরুতর সংঘাত এবং এটিকে রিয়াল বা অন্যান্য ডলার বহির্ভুত মুদ্রা দ্বারা প্রতিস্থাপন, যা মার্কিন অর্থনীতি এবং ওয়াইল্ড ওয়েস্টের জন্য একটি বড় আঘাত।
* বীমা, সামুদ্রিক পরিসেবা এবং ট্রানজিট ফি-তে একটি উল্লেখযোগ্য ও রাজস্ব আয়ের মাধ্যম।
* ভারত মহাসাগরের সামুদ্রিক বাণিজ্যে ইরানের জন্য শক্তিশালী সামুদ্রিক অবস্থান এবং একটি নির্ণায়ক ভূমিকা তৈরি করা। ইসরায়েলি সংবাদপত্র 'ইয়াদিওত আহারনোত'-এর মতে,
হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের আধিপত্য ওই দেশটিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা থেকে সুরক্ষিত করেছে! #
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।