সিপিএম ও কংগ্রেসকে গণতান্ত্রিকভাবে কবর দেয়ার ডাক মমতার
https://parstoday.ir/bn/news/india-i6814-সিপিএম_ও_কংগ্রেসকে_গণতান্ত্রিকভাবে_কবর_দেয়ার_ডাক_মমতার
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার সীমান্ত এলাকা বাগদায় এক নির্বাচনি জনসভায় সিপিএম ও কংগ্রেসকে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে কবর দেয়ার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ (বুধবার) দুপুরে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে বাগদার জনসভায়। বাগদার তৃণমূল প্রার্থী উপেন বিশ্বাসের সমর্থনে এই জনসভায় বাম–কংগ্রেস জোটের তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
এপ্রিল ১৩, ২০১৬ ১৬:৩৬ Asia/Dhaka

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার সীমান্ত এলাকা বাগদায় এক নির্বাচনি জনসভায় সিপিএম ও কংগ্রেসকে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে কবর দেয়ার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ (বুধবার) দুপুরে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে বাগদার জনসভায়। বাগদার তৃণমূল প্রার্থী উপেন বিশ্বাসের সমর্থনে এই জনসভায় বাম–কংগ্রেস জোটের তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল প্রার্থী সম্পর্কে মমতা বলেন, ‘এখানকার প্রার্থী হয়েছেন ড. উপেন বিশ্বাস। উপেনদা সম্পর্কে যত কম বলা যায় তত ভালো। এই মানুষটা সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। এই মানুষটা আমাদের সমাজের গর্ব। তিনি (কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা) সিবিআইয়ের একজন সৎ কর্মকর্তা ছিলেন। উপেন বিশ্বাসের নাম সারা ভারত জোড়া। তিনি পরিশ্রমী মানুষ, ভালো কর্মী এবং ভালো কাজ বোঝেন। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন ‘উপেনদাকে তো আমরা চাই, কী বাগদার মানুষ? জনতা সমস্বরে চিৎকার করে তার কথায় সমর্থনসূচক সায় দেন।’

তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘তপসিলি, আদিবাসীদের জন্য কাজ করা, ওবিসি ১৭ শতাংশ কোটা থেকে ৯৭ শতাংশ সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের সংরক্ষণ দেয়ার কাজে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করেছেন উপেন বিশ্বাস। তাই একে আপনাদের জয়ী করতে হবে।’

রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মমতা বলেন, পাঁচ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা স্বাধীনতার পরে আগে বাংলায় কখনো হয়নি। সিপিএমের ৩৪ বছরে উন্নয়নের ‘উ’ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মমতা বলেন, ‘সিপিএমের আমলের কাজের যদি নাম বলি তা হল- ধানতলা, মরিঝাঁপিতে মানুষ হত্যা করা, মজদুর হত্যা করা, নেতাইতে গণহত্যা করা, সিঙ্গুরে তাপসী মালিককে ধর্ষণ করে হত্যা করা, নন্দীগ্রামে ধর্ষণ করে হত্যা করা এসব ছাড়া সিপিএমের কাছে কোনো উন্নয়নের কাজ পাওয়া যাবে না।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আমলের কথা যদি বলেন, তাহলে বলব ৪১টি মাল্টিসুপার হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট কল্যাণীতে হচ্ছে, জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান দফতর কল্যাণীতে হচ্ছে, দুর্গাপুরে নতুন বিমানবন্দর হয়েছে, বাংলায় ১৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, ৪৬ টি সরকারি কলেজ, ৯ টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ, প্রত্যেক যায়গায় আইটিআই, পলিটেকনিক কলেজ, কিষাণ বাজার, মডেল স্কুল, শিশু সাথী, তাত সাথী, সবুজ সাথী, যুবশ্রী, কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রীসহ বিভিন্ন উন্নয়ন হয়েছে।

উন্নয়ন প্রসঙ্গে মমতা রাজ্যের বিরোধী নেতা বাম জামানার সাবেক মন্ত্রী সূর্যকান্ত মিশ্রের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘সিপিএমের যে নেতা বড় বড় কথা বলেন, তিনি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালগুলোকে ‘জীবন্ত যমালয়ে’ পরিণত করেছিলেন। মানুষ দাঁড়িয়ে ঢুকত, আর শুয়ে ফেরত আসত। ফ্রি বেড তুলে দেয়া হয়েছিল, অনেক ওষুধ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ সকলের জন্য বিনা পয়সায় হাসপাতালে পরিষেবা পাওয়া যায়।’

সিপিএম-কংগ্রেস জোট প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘আগামী ২৫ এপ্রিলের নির্বাচনে এবার ভালো করে ওই দুটোকে গণতান্ত্রিক উপায়ে কবর দেবেন। বিজেপি প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘ওরা বলছে, বাংলা কেউ গড়েনি, আমরা গড়ে দেব। আমি বলব তোমাদের দাঙ্গা গড়তে আসতে হবে না। তোমরা দিল্লিতে যাও, বাংলায় এসে দাঙ্গা বাঁধাতে চাও, তোমাদেরকে আমরা চাই না।’

বাম-কংগ্রেস জোট প্রসঙ্গে তিনি মজা করে বলেন, ‘বাংলায় একটা গান আছে জানেন তো, ‘দাদা তোর পায়ে পড়ি রে, মেলা থেকে বউ এনে দে …।’ সিপিএম এখন কংগ্রেসকে বলছে, কংগ্রেস তোর পায়ে পড়ি রে, তোর ভোট টা দিয়ে দে রে। না দিলে আমি হেরে মরব রে। আমার সাইনবোর্ড রবে না রে।’ মমতা এদিন সকলকে তৃণমূলকে সমর্থনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বাংলা নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানান।# (এমএএইচ/এআর)