কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর অত্যাচারের কোনও প্রশ্নই নেই: ডোভালের দাবি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i73474-কাশ্মীরে_সেনাবাহিনীর_অত্যাচারের_কোনও_প্রশ্নই_নেই_ডোভালের_দাবি
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বলেছেন, কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর অত্যাচারের কোনও প্রশ্নই নেই। রাজ্যে পুলিশ ও কিছু কেন্দ্রীয় বাহিনী সার্বজনিক ব্যবস্থা সামালাচ্ছে। সেনাবাহিনী সেখানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য আছে। গতকাল (শনিবার) নয়াদিল্লীতে এক সংবাদ সম্মেলনে অজিত ডোভাল ওই মন্তব্য করেছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৯ ০৮:৪১ Asia/Dhaka
  • অজিত ডোভাল
    অজিত ডোভাল

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বলেছেন, কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর অত্যাচারের কোনও প্রশ্নই নেই। রাজ্যে পুলিশ ও কিছু কেন্দ্রীয় বাহিনী সার্বজনিক ব্যবস্থা সামালাচ্ছে। সেনাবাহিনী সেখানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য আছে। গতকাল (শনিবার) নয়াদিল্লীতে এক সংবাদ সম্মেলনে অজিত ডোভাল ওই মন্তব্য করেছেন।

তাঁর দাবি, বেশিরভাগ কাশ্মীরিই ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের ১৯৯টি থানা এলাকার মধ্যে কেবলমাত্র ১০টিতে বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। অন্যগুলোতে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।

তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর কাজ হল সন্ত্রাসীদের দমন করা। পুলিশ ও আধাসেনা আইন-শৃঙ্খলা দেখে। সেজন্য সেনার বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের বাড়িতে ঢুকে অত্যাচারের অভিযোগ কোনওভাবেই খাটে না।’

ডোভাল বলেন, ‘আমরা সমস্ত নিষেধাজ্ঞাই তুলে দিতে চাই কিন্তু এটা নির্ভর করছে পাকিস্তানের আচরণের উপর। যথেষ্ট উত্তেজক ও প্রতিক্রিয়ামূলক পরিস্থিতি রয়েছে সেখানে। যদি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের দমনে পদক্ষেপ করে যাতে তারা ভারতের মাটিতে অনুপ্রবেশ না করে, যদি পাকিস্তান নিজেদের সূত্র মারফত সন্ত্রাসবাদীদের সংকেত পাঠানো বন্ধ করে দেয়, তবে এই বিধিনিষেধ তুলে নিতে পারি আমরা।’

ডোভালের দাবি, পাকিস্তান উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ভারতে ঢুকতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জড়ো হয়েছে ২৩০ জন সন্ত্রাসী। কয়েকজন এপারে ঢুকতে পেরেছে। কিছু গ্রেফতার হয়েছে।

অজিত ডোভাল অবশ্য কাশ্মীরি নেতাদের মুক্তি দেয়ার সময়সীমা সম্পর্কে কোনও আশ্বাস দিতে পারেননি। ঠিক কতদিন উপত্যকার রাজনৈতিক নেতাদের আটক করে রাখা হবে তার সঠিক সময়সীমা জানানো যাচ্ছে না বলে ডোভাল মন্তব্য করেন।

শেহলা রশিদ

এরআগে কাশ্মীরের অশান্তির পরিবেশ নিয়ে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি, সমাজকর্মী ও গবেষক শেহলা রশিদ কাশ্মীরিদের বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনাবাহিনী উপত্যকার মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে এমন অভিযোগে সোচ্চার হয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেহলা বলেন, কাশ্মীরের একাধিক এলাকায় সেনাবাহিনী রাতে সাধারণ মানুষের বাড়িতে ঢুকে সব কিছু তছনছ করছে, খাবার-দাবার নষ্ট করছে, নির্বিচারে ছেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

তাঁর দাবি, শোপিয়ানে চারজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে সেনাবাহিনী শুধু অত্যাচারই করেনি, মাইক লাগিয়ে তাদের আর্তনাদ এলাকাবাসীকে শুনিয়ে ত্রাসের সঞ্চার করেছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অবশ্য এসব অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দেয়া হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হতেই শেহলা রশিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাশ্মীর সম্পর্কে গুজব ছড়িয়েছেন বলে অভিযোগে দিল্লি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করেছে।

শেহলা তাঁর সাফাইতে বলেছেন, সেনাবাহিনীর আচরণের বিরুদ্ধে যা যা তিনি লিখেছেন, সে সব মানুষের সঙ্গে কথা বলেই সংগৃহীত। ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।#  

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।