কাশ্মীর নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করছে, সব ঠিক থাকলে কারফিউ কেন: দিগ্বিজয় সিং
-
দিগ্বিজয় সিং
ভারতের মধ্য প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা দিগ্বিজয় সিং বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে কাশ্মীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কিন্তু সবকিছু যদি স্বাভাবিক থাকে তাহলে কারফিউ পরিস্থিতি হতো না।
গতকাল (শুক্রবার) দিগ্বিজয় সিং সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাশ্মীর অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু। এর সমাধান বাজপেয়ীর (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) সূত্রের ভিত্তিতে করা উচিত। যিনি বলেছিলেন, জমহুরিয়াত (গণতন্ত্র), কাশ্মীরিয়াত ও ইনসানিয়াত (মানবতা)-এর ভিত্তিতে কাশ্মীর সমস্যা সমাধান হতে পারে। সরকার কাশ্মীরের উপরে মিথ্যা ছবি উপস্থাপন করছে। সেখানে যদি সবকিছু স্বাভাবিক থাকে তাহলে কারফিউ কেন?’
তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী (প্রধানমন্ত্রী) ও অমিত শাহ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) দেশে গুজরাট মডেল অব গভর্নেন্স পরিচালনা করছেন। এতে বিরোধীদের ধরো, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দাও, মিথ্যা মামলায় ফাঁসাও। গুজরাটে ওঁরা এসবই করেছিলেন, যা এখন দেশে ঘটছে।’
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি মথুরায় যে মন্তব্য করেছেন সেই প্রসঙ্গে দিগ্বিজয় সিং তাঁকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘দেশে একমাত্র বিজেপি এমন এক দল যারা গরুর গোশত রফতানিকারকদের কাছ থেকে অনুদান পেয়েছে। দেশ মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর উচিত গরু ও ওম্ -এর বাগাড়ম্বর রেখে দেশের অর্থনীতিকে সামলানো।’
তিনি বলেন, ‘বিজেপি একমাত্র দল, যেখানে বিফ রফতানিকারকরা চাঁদা দেয়। এটা বিজেপি নিজেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে বলেছে যে তাদেরকে বিফ রফতানিকারকরা অনুদান দিয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে চাই এই বিষয়ে তিনি কী বলবেন? তার আমলেই গবাদি পশুর গোশত রফতানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের মথুরায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এটা এ দেশের দুর্ভাগ্য যে কিছু মানুষের কানে ‘ওম্’ এবং ‘গাই’ শব্দ গেলেই ওদের লোম খাড়া হয়ে যায়! ওদের মনে হয় দেশ ষোড়শ শতকে চলে গেল। তাঁদের এমন জ্ঞান। দেশ যারা বরবাদ করতে চায়, তাঁরা সবরকমভাবে বরবাদ করার চেষ্টা করছে।’ প্রধানমন্ত্রী এভাবে গরুকে নিয়ে মন্তব্য করায় কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং পাল্টা জবাবে ওই মন্তব্য করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পরেই মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সেময় বলেছিলেন, ‘আমরা মেনে নিচ্ছি গরু হিন্দু ভাইদের জন্য পবিত্র পশু। কিন্তু, সংবিধান বাঁচার সমানাধিকার শুধু মানুষকে দিয়েছে। আমার আশা প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুলিয়ে ফেলবেন না।’
দিগ্বিজয় সিং বলেন, ‘বিজেপির সমস্ত প্রতিশ্রুতি জুমলা (মিথ্যে) প্রমাণিত হয়েছে। কালো টাকা ফেরত আসেনি, সন্ত্রাসবাদের অবসান হয়নি, দুর্নীতি ও জাল নোটও শেষ হয়নি। মানুষের ব্যাঙ্ক একাউন্টে পনের লাখ টাকা জমা পড়েনি। বলেছিল, প্রত্যেক বছর দুই কোটি চাকরি দেবে কিন্তু পরিস্থিতি এখন এমন যে লোকেদের চাকরি থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। অটোমোবাইল সেক্টর থেকে ১০ লাখ মানুষকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। মানুষ চাকরি হারাচ্ছে, চাকরি পাচ্ছে না।’
প্রসঙ্গত, ফেডারেশন অফ অটোমোবাইল ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্টে প্রকাশ, মন্দাজনিত কারণে সম্প্রতি গাড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কমপক্ষে ২ লাখ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষের চাকরি চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (এসিএমএ) এক কর্মকর্তা।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৪
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন